default-image

অভিনেতা আলী যাকের এখন কিছুটা সুস্থ। বার্ধক্য, হার্টের সমস্যাসহ কিছু শারীরিক জটিলতার কারণে ১৭ নভেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। এখনো সেখানে চিকিৎসাধীন তিনি। তবে আগের চেয়ে কিছুটা ভালো বোধ করছেন। শিগগিরই তিনি বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে জানালেন আলী যাকেরের ছেলে অভিনেতা ইরেশ যাকের।

বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন আলী যাকের। সেটা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি এখন সিসিইউতে আছেন। ইরেশ যাকের জানান, তাঁর বাবার একাধিক শারীরিক সমস্যা রয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাবার হার্ট বিটস কমে গিয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করার পর তাঁর হার্টের অবস্থা আগের চেয়ে এখন কিছুটা ভালো। রোববার পর্যন্ত তাঁকে হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। তারপর একটু ভালো বোধ করলই তাঁকে বাসায় নেওয়া হবে। বাবার সঙ্গে কথা হচ্ছে, তিনি এখন ভালো বোধ করছেন।’

বিজ্ঞাপন
default-image

বেশ কয়েক বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন আলী যাকের। সেই চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিত থেরাপি চলছিল তাঁর। ইরেশ জানান, করোনাকালে বেশির ভাগ সময় আলী যাকের বাসায় সময় কাটাতেন। এমনকি বাসায় হুইল চেয়ারে চলাফেরা করেন তিনি।

আলী যাকের ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। ওই বছরেরই জুন মাসে তিনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে যোগ দেন। তখন থেকে নাগরিকই তাঁর ঠিকানা। ‘বাকি ইতিহাস’, ‘সৎ মানুষের খোঁজে’, ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘কোপেনিকের ক্যাপটেন’, ‘গ্যালিলিও’, ‘ম্যাকবেথ’সহ অনেক আলোচিত মঞ্চনাটকের অভিনেতা ও নির্দেশক তিনি। পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেও তিনি পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। ‘আজ রবিবার’, ‘বহুব্রীহি’, ‘তথাপি’, ‘পাথর’ ‘দেয়াল’সহ বহু নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। বেতারে ৫০টির বেশি নাটক করেছেন তিনি। করেছেন বেশ কিছু চলচ্চিত্র। টেলিভিশনের জন্য মৌলিক নাটক লিখেছেন। নানা বিষয়ে দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখিও করেছেন দীর্ঘদিন। প্রকাশিত হয়েছে বই ‘সেই অরুণোদয় থেকে’, ‘নির্মল জ্যোতির জয়’। শখ করে ফটোগ্রাফিও করেন তিনি।

default-image

আলী যাকের নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ফটোগ্রাফিক সোসাইটির পূর্ণ সদস্য। পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদকসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা। বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটি গ্রুপের চেয়ারম্যান তিনি। স্ত্রী স্বনামধন্য অভিনয়শিল্পী সারা যাকের, ছেলে অভিনেতা ইরেশ যাকের, ছেলের বউ মিম রশিদ, নাতনি নেহা ও মেয়ে শ্রেয়া সর্বজয়াকে নিয়ে তাঁর সংসার।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0