প্রতিটি উপজেলায় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে থাকবে সিনেপ্লেক্স: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় সংগীত ও উৎসব সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে সংস্কৃতিচর্চার প্রসার ও বিকাশে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি উপজেলায় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আধুনিক মিলনায়তন, এম্ফিথিয়েটার, গ্রন্থাগার, প্রশিক্ষণকেন্দ্রের পাশাপাশি থাকছে সিনেপ্লেক্স। এটি নির্মিত হলে তৃণমূল পর্যায়ে নান্দনিক ও মনোরম পরিবেশে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সুযোগসহ চলচ্চিত্রশিল্পে পুনর্জাগরণ ঘটবে বলে আমার বিশ্বাস। প্রাথমিকভাবে ৩০টি উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে এ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।’ প্রতিমন্ত্রী আজ বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম আয়োজিত ‘১৬তম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব–২০২২’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

‘মুক্ত চলচ্চিত্র মুক্ত প্রকাশ’ স্লোগানে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম আয়োজিত ১৬তম উৎসবটির সূচনা হলো শুক্রবার। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় শুক্রবার বিকেলে ছায়ানটের শিল্পীদের জাতীয় সংগীত ও উৎসব সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। উত্তোলিত হয় জাতীয় পতাকা ও শর্ট ফিল্ম ফোরামের পতাকা। ওড়ানো হয় বর্ণিল বেলুন। এরপর নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী আলোচনা, সম্মাননা প্রদান ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। শুরুতে অতিথিরা প্রদীপ প্রজ্বালন এবং অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হীরালাল সেন আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় চলচ্চিত্র নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল ও মানজারে হাসীন মুরাদকে। সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণ ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আন্দোলনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

‘মুক্ত চলচ্চিত্র মুক্ত প্রকাশ’ স্লোগানে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম আয়োজিত ১৬তম উৎসবটির সূচনা হলো শুক্রবার

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও উৎসব পরিচালক সৈয়দ ইমরান হোসেন কিরমানী। সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি জাহিদুর রহিম অঞ্জন। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রদর্শিত হয় কাতারের ফিকশন ছবি ‘আল সিট’, ইরাকের প্রামাণ্যচিত্র ‘আলী অ্যান্ড হিজ মিরাকেল শিপ’ এবং বেলজিয়ামের নিরীক্ষাধর্মী ছবি ‘হিউম্যান ওয়াকার্স ইন মোশন’।
উৎসব পরিচালক ইমরান হোসেন কিরমানী জানান, উৎসবে অস্কার ২০২১ থেকে ২টি, কান ২০২০ থেকে ১০টি ও ২০২১ থেকে ৮টি, সানড্যান্স ২০২০ থেকে ২টি ও ২০২১ থেকে ১০টি, বার্লিন ২০২০ ও ২০২১ থেকে ৬টি এবং বুসান থেকে ১০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে দেশের বাছাই করা প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে। এ ছাড়া উৎসবের নানা আয়োজনের মধ্যে থাকছে আলমগীর কবির মেমোরিয়াল লেকচার, জাতীয় চলচ্চিত্র সংলাপ, ভারতীয় চলচ্চিত্রকার আর ভি রামানির রেট্রোস্পেকটিভ ও মাস্টার ক্লাস, সেমিনার, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রের অধিবেশন। প্রতিবারের মতো এবারও উৎসবে প্রদর্শিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলোকে তিনটি পুরস্কার প্রদান করা হবে। ইন্টারন্যাশনাল কম্পিটিশনের শর্ট ফিকশন বিভাগের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা পাবেন এক হাজার মার্কিন ডলার। ইন্টারন্যাশনাল কম্পিটিশনের শর্ট ডকুমেন্টারি বিভাগের শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা পাবেন এক হাজার ডলার। তারেক শাহরিয়ার বেস্ট ইনডিপেনডেন্ট শর্ট সেকশনে দেশের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা পাবেন ২৫ হাজার টাকা।

আগামী ৪ মার্চ পর্যন্ত চলবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি উৎসর্গ করা এই উৎসব। মাত্র কুড়ি টাকায় টিকিট সংগ্রহ করে দেখা যাবে উৎসবের ছবিগুলো। প্রদর্শনীর মূল ভেন্যু শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তন। এ ছাড়া একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তন, জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তন ও শাহবাগের ফিল্ম সেন্টারে প্রদর্শিত হবে ছবিগুলো। প্রতিদিন সকাল ১১টা, বেলা ৩টা, বিকেল ৫টা ও সন্ধ্যা ৭টার সময়সূচিতে একসঙ্গে ৪টি করে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।