গাড়িতে রদবদল

বিজ্ঞাপন
default-image

২০১০ মডেলের টয়োটা এলিয়ন ব্যবহার করেন ব্যবসায়ী ফারহান তানজির। শখ করেই গাড়িটি কেনা। ব্যবহার করছিলেনও বেশ। দেশে ২০১৭ মডেলের এলিয়ন গাড়িটি আসার পর তাঁর পছন্দ বদলে যায়। ২০১৭ মডেলের গাড়িটির প্রতি আকর্ষিত হন। কিন্তু গাড়ি বদলাতে বেশ ঝক্কি-ঝামেলা রয়েছে। অনেক টাকার মামলাও বটে। গাড়ি মডিফিকেশন সেন্টারগুলোতে ঢুঁ মারলেন। কিন্তু মনমতো মডিফিকেশন পাচ্ছিলেন না। ফেসবুকে দেখলেন অটোজোন বাংলাদেশের পেজ। নক করে নিজের পছন্দের কথা জানালেন। ওয়ার্কশপে এসে মাত্র ১৫ দিন কাজ করার পর পেলেন ২০১৭ মডেলের মতো দেখতে নিজের এলিয়ন গাড়িটি।

প্রতিবছর গাড়িতে নিত্যনতুন ডিজাইন আসে। বছর অনুসারে গাড়িগুলোর চেহারা বদলে যায়। নিজের গাড়িকে নতুন বছরের ডিজাইনে বদলে নিতে দেশে রয়েছে গাড়ি মডিফিকেশন সেন্টার। এই সব সেন্টারে নতুন বছরের মডেলের বডি কিটস পাওয়া যায়। পুরোনো গাড়িতে নতুন এই বডি কিট বসিয়ে দিলে তা নতুন মডেলের রূপ ধারণ করে।

default-image

এই মডিফিকেশন গাড়ির কোনো ক্ষতি করে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অটোজোন বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, গাড়ির বডিকিটগুলো প্লাগ অ্যান্ড প্লে ধরনের হয়। গাড়িতে কোনো কাটাছেঁড়া করতে হয় না বলে গাড়ির সমস্যা হওয়ার সুযোগ নেই। তবে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে কাজ করানো উচিত। এতে গাড়িটি দেখতে সুন্দর ও মজবুত হবে।

অনেকগুলো যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে একটি গাড়ি তৈরি হয়। গাড়ির মডিফিকেশনে সব যন্ত্রাংশ বদলানোর প্রয়োজন হয় না। নিজের পছন্দ অনুসারে যেসব বদলানো দরকার, শুধু সেগুলো পাল্টে গাড়ির চেহারা বদলে ফেলা যায়। পরিবর্তনযোগ্য যন্ত্রাংশগুলো হলো সামনের ও পেছনের বাম্পার, বাম্পার কভার, হুড, হুড কভার, বাঁয়ে ও ডানের ফেন্ডার, হেডলাইট, ফগ লাইট, সামনের গ্রিল ও কেসিং এবং টেললাইট পরিবর্তন করলেই মূলত গাড়ির চেহারা বদলে যায়। এ ছাড়া গাড়ির চাকার আকার পরিবর্তন না করে বিভিন্ন ডিজাইনের অ্যালয় হুইল লাগানো যায়। অ্যালয় হুইলে রয়েছে নিত্যনতুন রিমের সমাহার। রয়েছে সানরুফ ইনস্টলের ব্যবস্থা। লুকিং গ্লাসে টার্নিং লাইট, রেইন শেড ও সাইলেন্সার বদলে দিয়ে গাড়ির সৌন্দর্য বাড়ানো যায়। গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের লোগোতে লাইটিং যুক্ত করলে রাতেও আলোকিত থাকে। গাড়ির বুটে সিলভার লাইনআপ দিলে পেছন থেকেও দেখতে আকর্ষণীয় হয়।

default-image

শুধু বাইরের চেহারা নয়, গাড়ির ভেতরেও রাঙিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। গাড়ির ড্যাশবোর্ড, স্টিয়ারিং হুইল, সাধারণ প্লেয়ারের বদলে অ্যান্ড্রয়েড প্লেয়ার, সামনের দুই সিটের পেছনে এলইডি ডিসপ্লে, এক্সেলারেটর এবং ব্রেক প্যাডেলে অ্যালুমিনিয়াম কভার এবং সাউন্ড সিস্টেম বদলেও গাড়ির মডিফিকেশন করা যায়। গাড়ির এই মডিফিকেশনকে সংক্ষেপে কার মড বলে। গাড়ির সিটের ধরন পছন্দ না হলে অথবা সিট কভারে যদি গাড়ির মালিক সন্তুষ্ট না হন, তাহলে সিট বদলানোর সুযোগও রয়েছে। চামড়ার কভারে সিট কভার তৈরি করে গাড়ির ভেতরে প্রিমিয়াম লুক দেওয়া যায়। গাড়ির দরজার ভেতরেও চামড়ার কভার যুক্ত করা যায়। এতে ধুলাবালু পরিষ্কার করা সহজ হয়। স্টেপ বাম্পারে গাড়ির মডেলের নামসহ লাইটিং লোগো লাগানো যায়।

সামনের বাম্পার, গ্রিল, হেডলাইটের সমন্বয়ে যে কিট থাকে, সে কিটটিকে ফেসলিফট বলে। টিআরডি, মডেলিস্টা, কানথ্রি, ওয়াল্ট, এলফোর্ড, রকেট বানি, এনকেএস থাইল্যান্ড, পানডেমসহ বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ নির্মাতার কিট দেশের বাজারে মেলে। সাধারণত চীন ও থাইল্যান্ড থেকে এই সব কিট দেশের বাজারে আসে। গাড়ির মডেল অনুসারে ফেসলিফট দেশেও তৈরি হয়। মডেলভেদে এই সব কিটের মূল্য ১৫ হাজার থেকে ৭ লাখ টাকা হয়ে থাকে।

default-image

সাধারণ গাড়ি নয় শুধু, বিলাসবহুল গাড়িরও মড করা যায়। ২০১০ মডেলের টয়োটা প্রাডো গাড়ি ব্যবহার করেন শোভন। নিজের গাড়িকে ২০১৮ মডেলের মতো করতে বদলে নেন গাড়ির ফেসলিফট। সঙ্গে হেডলাইটও বদলে নেন। গাড়ির হেডলাইটেরও প্রকারভেদ রয়েছে। সাধারণ বাল্বের বদলে ডেলাইট রানিং ল্যাম্প (ডিএলআর) যুক্ত হেডলাইট, এইচআইডি অথবা এলইডি লাইট লাগানো যায়। সাধারণ, প্রজেকশন ও এঞ্জেল আই—এই তিন ক্যাটাগরিতে হেডলাইটগুলো মেলে। হেডলাইটের মূল্য আট হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা।

গুগল ম্যাপ ও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো গাড়ির প্লেয়ারেও রয়েছে আধুনিকত্ব। সিম বা ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে মুঠোফোন ছাড়াও গাড়ির প্লেয়ারে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করা যায়। রয়েছে ইউটিউবে ভিডিও দেখার সুবিধা। অ্যান্ড্রয়েড প্লেয়ারের মূল্য মডেলভেদে ১৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা হয়ে থাকে।

অ্যালয় হুইলের রিম বদলে গাড়িকে শৌখিন রূপ দেওয়া যায়। চীন, থাইল্যান্ড, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের তৈরি রিমের মূল্য ১৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা হয়ে থাকে।

গাড়ির হর্নেও রয়েছে নানা ধরন। গাড়িতে মড করার আগে কী ধরনের মড করতে ইচ্ছুক, সে সম্পর্কে ক্রেতার স্বচ্ছ ধারণা থাকা উচিত। যে গাড়ির মতো পরিবর্তন করতে চান, সে গাড়ির ছবি নিয়ে এসেও মড করা যায়। যে যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হচ্ছে, তা বিক্রির সুযোগও রয়েছে। পছন্দের কিটস দেশে না মিললে প্রি-অর্ডারেও কেনা যায়। সে ক্ষেত্রে কিটস আনতে ১০-১৫ দিন সময় দরকার হয়।

গাড়ির শব্দকে রেসিং কারের মতো করতে আলাদা হলার লাগানো যায়। এতে গাড়ির ইঞ্জিন উচ্চ শব্দ করে। তবে রাস্তায় শব্দদূষণ হয় বলে মামলা খাওয়ার ভয়ও থাকে।

default-image

গাড়ির চেসিস যদি রাস্তায় লেগে যায়, তাহলে শক অ্যাবসরভার উঁচু করার জন্য স্প্রিংয়ের ওপর বাটি বসানো যায়। এতে গাড়িটির উচ্চতা বাড়ে। গাড়িতে কালো কাচ লাগানো ও হর্ন পরিবর্তনের ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া গাড়ির চাকার আকার অথবা চেসিস পরিবর্তন করতে হলেও আগে অনুমতি প্রয়োজন।

রাজধানীর ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বাংলামোটর, স্কাউট মার্কেট, নর্দ্দাসহ বিভিন্ন স্থানে গাড়ির মডিফিকেশন করা যায়। মডিফিকেশন সেন্টারগুলোর নিজস্ব ওয়ার্কশপ রয়েছে। তবে সময় নিয়ে এসব কাজ করতে হয়। এতে কয়েক দিন সময় লেগে যায়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন