এই তরুণের মতো অনেকেই এখন মুঠোফোন দিয়েই ক্লাস করেন এবং করান
এই তরুণের মতো অনেকেই এখন মুঠোফোন দিয়েই ক্লাস করেন এবং করান

‘অনলাইনে পড়াশোনা করার অভিজ্ঞতা আমার কাছে মিশ্র। যেমন আমাকে প্রতিদিন ঢাকার এই যানজট ঠেলে ক্যাম্পাসে যেতে হচ্ছে না, বাসায় বসেই ক্লাস করতে পারছি—এটা কিন্তু বিশাল সুবিধা। এতে করে যে দু-তিন ঘণ্টা রাস্তায় থাকতে হতো, সে সময় চাইলেই আমরা অন্য কাজে ব্যয় করতে পারি, পড়াশোনার জন্য ব্যয় করতে পারি। কিন্তু যত যা–ই বলি, সরাসরি ক্লাসের ব্যাপারটাই আলাদা, অনলাইন ক্লাস কখনোই সরাসরি ক্লাসের জায়গা নিতে পারবে না। তা ছাড়া অনলাইন পরীক্ষা পদ্ধতিটাও কতটা যৌক্তিক, সেটার প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। তাই সব মিলিয়ে বলতে পারি, সুবিধা-অসুবিধা দুটোই আছে।’ কথাগুলো বললেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) মেকানিক্যাল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আমিমুল ইহসান।

বিজ্ঞাপন

মহামারির এই সময়ে বদলে গেছে পড়াশোনার ধরন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন অনলাইন পাঠদানে। আমিমুল নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ান মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থী হিসেবে নিজে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন, শিক্ষক হিসেবে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করেন। আমিমুল বলেন, ‘চেষ্টা তো থাকেই যতটা সম্ভব সমস্যাগুলোর সমাধান করার। আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল অনলাইন মাধ্যমটা আমার ছাত্রদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা এবং সামনাসামনি পড়ানোর যে সুবিধাগুলো ছিল, সেগুলো কীভাবে অনলাইনে প্রয়োগ করা যায়, তা খুঁজে বের করা। যেমন আমি প্রথম দিকে চেষ্টা করেছিলাম বোর্ডে ম্যানুয়ালি ক্লাস নেওয়ার, পরে আমি গ্রাফিকস ট্যাবে ক্লাস নিতে শুরু করি জুমে। ছাত্ররা পরের পদ্ধতিটা পছন্দ করছে বেশি। তারাও খুশি। কারণ, তারাও বাসায় থেকে সুবিধামতো সময়ে পড়তে পারছে।’

সামিরা ইসলাম পড়ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। নতুন স্বাভাবিক সময়ে তিনিও অনলাইনে পড়ছেন ও পড়াচ্ছেন। তিনি যাদের পড়ান, তারা সবাই স্কুলের শিক্ষার্থী। তাই অনলাইনে পড়ানোর অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে কিঞ্চিৎ হতাশাব্যঞ্জক। তিনি বলেন, ‘আমার সব শিক্ষার্থী স্কুল পর্যায়ের হওয়ায় প্রথম দিকে তাদের অনলাইন মাধ্যমগুলোর সঙ্গে পরিচিত করতে সময় লেগেছে। তা ছাড়া অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই আগ্রহ দেখাচ্ছে না।’ তবে অনলাইনে পড়ানোর ব্যাপারে শিক্ষকদের চেষ্টার প্রতি সম্মান জানিয়ে সামিরা বলেন, সব শিক্ষকই কিন্তু প্রযুক্তিবান্ধব নন, তারপরও সবাই চেষ্টা করছেন অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়ার।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) শিক্ষার্থী কুদরত এ রাব্বীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘আসলে অনলাইনে তো আগে ভিডিও কলে আড্ডা দিতাম। এখন সেই আড্ডার জায়গায় পড়া ও পড়ানোর বিষয়টা চলে এসেছে।’

বিজ্ঞাপন

স্কুল, কলেজ, ভার্সিটির ক্লাসে এত দিন অনেক ছাত্র একসঙ্গে থাকতেন। শিক্ষক সামনাসামনি পড়ালে বোঝাপড়াটা ভালোভাবে হতো। কেউ সহজে ফাঁকি দিতে পারতেন না। কিন্তু যখন অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হবে, তখন শিক্ষকদের জন্য সবার দিকে নজর দেওয়া শুধু কঠিনই নয়, বলতে গেলে অসম্ভব বলে মনে করেন কুদরত এ রাব্বী। তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে আমরা যারা টিউশনি করাই, তারা বেশির ভাগই একজন বা বেশি হলে দু-তিনজনকে একসঙ্গে পড়াই। আমাদের জন্য তখন শিক্ষার্থীদের দিকে নজর দেওয়া সহজ হয়।’

শিক্ষক ও শিক্ষার্থী দুই অবস্থান থেকেই অনলাইনে পাঠদান বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন আমিমুল। তিনি বলেন, ‘প্রথমে ছাত্র হিসেবে আমাদের উচিত নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া, যেহেতু আগের মতো যোগাযোগ হচ্ছে না অনলাইনে। তাই ক্লাসগুলো যতটা সম্ভব মনোযোগ দিয়ে করা এবং সমস্যা থাকলে শিক্ষককে প্রশ্ন করা উচিত। আবার শিক্ষক হিসেবে বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের আমরা কীভাবে ক্লাসমুখী করতে পারি এবং অনলাইনের ক্লাসগুলো কীভাবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারি, তা খুঁজে বের করতে হবে।’

ফিচার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন