default-image

‘আমার পূর্বসূরিরা বাংলাদেশি। আর সেখানে খান একাডেমির টিউটোরিয়াল বাংলা ভাষায় রূপান্তর হওয়া আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন।’ গত ১ মার্চ রাজধানীর একটি হোটেলে খান একাডেমির বাংলা সংস্করণ (পরীক্ষামূলক) প্রকাশের অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তায় 

এ কথা বলেছিলেন খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সালমান খান।

শুরুটা এরও আগের। ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ খান একাডেমির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয় আগামী ফাউন্ডেশনের। এরপর ২০১৫ সালের জুলাই মাসে গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় ‘খান একাডেমি বাংলা ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পের কাজ শুরু করে আগামী। ঘোষণা দেওয়া হয়, বাংলাদেশে খান একেডেমির কাজ শুরু করার। তারপর ২০ লাখ শব্দ ও ৬০০-এর বেশি ভিডিও বাংলা ভাষায় রূপান্তর করে পরীক্ষামূলক সংস্করণে আসে খান একাডেমির বাংলা সংস্করণ। আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশনের খান একাডেমি বাংলা ইনিশিয়েটিভের কর্মসূচি সহযোগী মারজুক আহমেদ বলেন, বাংলায় পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। কারিগরি সব কাজ ইতিমধ্যে শেষ করে এ ব্যাপারে খান একাডেমিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

প্রারম্ভিক গণিত, পাটিগণিতের প্রয়োজনীয় বিষয়, বীজগণিতে হাতেখড়ি এবং প্রাথমিক জ্যামিতি—এখন পর্যন্ত এ চার বিভাগের জন্য ভিডিও টিউটোরিয়াল তৈরি করা হয়েছে। এসব টিউটোরিয়াল মূলত চতুর্থ থেকে সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যক্রম ধরে করা হয়েছে। ব্যাপারটা একটু পরিষ্কার করা যাক, আগে প্রকাশিত খান একাডেমির ভিডিও মূলত বাংলায় অনুবাদের কাজ করলেও আগামী চেষ্টা করছে সে ভিডিওগুলো যেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবইয়ের সিলেবাস অনুসারে হয়। এমন তথ্য জানান মারজুক আহমেদ। এসব ভিডিও তৈরি করে পাঠিয়ে দেওয়া হয় খান একাডেমির কাছে। যাচাই-বাছাই শেষে খান একাডেমিই সেসব ভিডিও প্রকাশ করে থাকে। ২১ আগস্ট ২০১৬ পর্যন্ত এক হাজার ১৪৫টি ভিডিও তৈরি করা হয়েছে বাংলা ভাষায়।

default-image

আগামীর আরেকজন কর্মসূচি সহযোগী ইফফাত নাওমী বলেন, পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ প্রকাশিত হলে এতে যুক্ত করা হবে তথ্যপ্রযুক্তি এবং গণিত বিষয়ে আরও পাঁচটি বিভাগ। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে প্রাথমিক পর্যায় থেকে উচ্চতর বিষয়ে বাংলায় ভিডিও টিউটোরিয়াল যুক্ত করা হবে। যা স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও কাজে দেবে। পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ প্রকাশের পর থেকে আগামীও ভিডিও ছাড়তে পারবে ইন্টারনেটে। 

স্কুলপর্যায়ে খান একাডেমির বাংলা ওয়েবসাইটের মূল্যায়ন ও বিস্তৃতির জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আলোক শিক্ষালয়ে তিন দিনের একটি পরীক্ষামূলক গবেষণা চালিয়েছে আগামী। এ ছাড়া আরও কিছু বিদ্যালয়ে কাজ চলছে খান একাডেমি বাংলার পাইলটিংয়ের। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ এবং হাইস্কুলে ল্যাব মডেল ব্যবহার করে খান একাডেমির মাধ্যমে পাঠদান করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এ জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিও হয়েছে আগামীর। যাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বিসিসির পরিচালিত কম্পিউটার ল্যাবগুলোতেও খান একাডেমির বাংলা সংস্করণ নিয়ে যাওয়া যায়। উল্লেখ্য, তিন হাজারেরও বেশি বিদ্যালয়ে বিসিসি পরিচালিত কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। ইফফাত নাওমী বললেন, ‘এভাবেই দেশের বিদ্যালয়গুলোতে খান একাডেমিকে পৌঁছে দিতে চায় আগামী।’

অনলাইনে শেখার জন্য bn.khanacademy.org ঠিকানার ওয়েবসা​ইটে গিয়ে ‘এখনই শেখা শুরু করো’ অংশে ক্লিক করে ফেসবুক কিংবা ই-মেইল দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন করতে হবে। ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখার পাশাপাশি রয়েছে অনুশীলন করারও সুযোগ। শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য রয়েছে আলাদা বিভাগ। এ ছাড়া ‘খান একাডেমি বাংলা অ্যাপ’ তৈরির কাজ চলছে।

শিক্ষকদের জন্য ড্যাশবোর্ড

খান একাডেমির মূল সংস্করণে শিক্ষকদের জন্য রয়েছে একটি ড্যাশবোর্ড বা নিয়ন্ত্রণ প্যানেল। এর মাধ্যমে চাইলে ছাত্র ও শিক্ষকেরা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন। যার ফলে শিক্ষকেরা জানতে পারবেন ছাত্ররা কী করছে। অর্থাৎ কোনো শিক্ষার্থীর অনুশীলনে ঘাটতি থাকলে শিক্ষকেরা তা ধরিয়ে দিতে পারবেন। আবার অনুশীলনের সময় কোথাও আটকে গেলে সাহায্য করতে পারবেন শিক্ষক। তবে এখন পর্যন্ত বাংলা সংস্করণে এই ড্যাশবোর্ড থাকলেও সুবিধাগুলো যুক্ত করা হয়নি। নাওমী জানান, মূলত বাংলা সংস্করণে এ সুবিধাগুলো ঠিক সে রকম থাকবে, নাকি আরও কোনো সুবিধা যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে এখনো কাজ চলছে।

‘সবার জন্য যেকোনো স্থানে বিনা মূল্যে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করা’ স্লোগান সামনে রেখে ২০০৬ সালে সালমান খান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক খান একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। যেকোনো বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে বিনা মূল্যে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার উপকরণ দিয়ে আসছে দূরশিক্ষণ পরিচালনাকারী এই প্রতিষ্ঠান। খান একাডেমির বাংলা সংস্করণ চালুর মাধ্যমে যে কেউ এখন থেকে খান একাডেমির সব বিষয়বস্তু (কনটেন্ট) ও উপকরণ বাংলায় শিখতে পারবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0