default-image

অফিস শেষে সবাই বেরিয়ে গেলেও কাজের চাপে কিছুটা দেরি হচ্ছে আদিলের। কাজ শেষে বেরিয়ে রিকশায় চেপে কানে হেডফোন গুঁজে গান শুনতে শুনতে ফুরফুরে মেজাজে বাসায় ফিরছিলেন। কিছুদূর আসতেই জনা কয়েক লোকের জটলায় চোখ আটকে গেল। যাকে ঘিরে জটলা, তাকে কেমন চেনা চেনা লাগছে। তাই তো! মেয়েটা তো ওর সহকর্মী মিথিলা।

দ্রুত রিকশা থেকে নেমে কী হয়েছে জানার চেষ্টা করতেই মিথিলা জানাল, বিপণিবিতান থেকে কেনাকাটা সেরে সিঁড়ি থেকে নামতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছেন। এখন কিছুতেই পা সোজা রেখে দাঁড়াতে ও হাঁটতে পারছেন না। মিথিলাকে সঙ্গে নিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে তারপর নিজের বাড়ি ফিরে এল আদিল।

পরদিন অফিস যাওয়ার পর থেকেই সহকর্মীরা ওদের নিয়ে নানান কথা, কটূক্তি, ইশারা করেই চলেছে। বিরক্ত হলেও কিছুই বলেনি আদিল। কিন্তু ব্যাপারটা অসহনীয় হয়ে উঠল বাসায় ফেরার পর। স্ত্রীও যখন একই বিষয়ে সন্দেহের তির ছুড়ল, তখন।

তবে কি সহকর্মীর বিপদে এগিয়ে যাওয়া উচিত হয়নি? কীভাবে হবে ভুল–বোঝাবুঝির অবসান? কীভাবে পুরো ব্যাপারটা সামলাবে আদিল?

যদিও কখনোই এমন হওয়া উচিত নয়, তবু এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে নারী নয়তো পুরুষ—যে কারোর সঙ্গেই। তাতে করে শুধু স্বামী, স্ত্রী, প্রেমিক বা প্রেমিকাই সঙ্গেই নয়, ব্যক্তিগত ও কর্মক্ষেত্র—উভয় জায়গাতেই স্বাভাবিক সম্পর্ক, যোগাযোগের পরিচিত ক্ষেত্রে ছন্দপতন ঘটে। মানসিক অশান্তির সৃষ্টি হয়। কাজের জায়গাতেও ছোট-বড় ভুল হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

এমন পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে কী করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে পরামর্শ পাওয়া গেল করপোরেট কোচের মুখ্য পরামর্শক যিশু তরফদারের কাছে। তাঁর মতে, স্বচ্ছতা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি। যেকোনো বিষয়ে স্বচ্ছ কথাবার্তা, আচরণ থাকা অতি প্রয়োজন। যেকোনো সম্পর্কে সঙ্গীকে খোলাখুলি জানানো উচিত, যাতে সে কোনো ভুল বোঝার সুযোগ না পায়। একবার ভুল–বোঝাবুঝি তৈরি হয়ে গেলে সেটি থেকে বেরিয়ে আসা যথেষ্ট কঠিন। তখন ক্রমান্বয়ে সম্পর্ক অবনতির দিকেই যেতে থাকে। আর সেই সঙ্গে সঙ্গী সন্দেহ করতে পারে এমন কাজ না করাই ভালো। তবে তাই বলে মানুষে মানুষে মানবিক বিষয়, মানবিক সম্পর্ক, অন্যের বিপদে এগিয়ে আসা—এসব যেন কোনোভাবেই বন্ধ হয়ে না যায়।

এ তো গেল সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রের সহকর্মীদের উদ্দেশে পরামর্শ কী হবে? যিশু তরফদার বলেন, ‘কথা বলতে গেলে, সহকর্মীরা এমন প্রসঙ্গে নানান কথা, আভাস-ইঙ্গিত করতে পারে। সেগুলো হাসিমুখে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কাউকে থামাতে গেলে বা প্রতিবাদ করতে গেলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। তাতে আড়ালে গুজব বেড়ে যেতে পারে। সব থেকে ভালো হয়, যদি চুপচাপ থাকা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মিথ্যে ঘটনাগুলো চাপা পড়ে যায়। আর কিছুদিনের ব্যবধানে সহকর্মীরা নিজেরাই নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে চুপ করে যান।’

অফিসের পরিবেশে একসঙ্গে অনেকটা সময় কাটে সহকর্মীদের। সবার সঙ্গে যেমন মতের মিল হবে না, তেমনি সবাই সবার সঙ্গে মিশতে স্বাচ্ছন্দ্য না–ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সহকর্মী নারী নাকি পুরুষ, সেটা বড় করে দেখা উচিত নয় বলে মনে করেন চাকরিজীবী নারী শাহনূর পারভীন। একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শাহনূর মনে করেন, ‘সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যেতে না পারলে এই ধরনের মানসিকতার পরিবর্তন সম্ভব নয়। দুজন সহকর্মীর একসঙ্গে বেশি সময় কাটানো মানেই তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক বা অবৈধ সম্পর্ক আছে ভাবা অসুস্থ মানসিকতারই পরিচয় দেয়। তবে সহকর্মীর সঙ্গে বেশি মেশা নিয়ে যদি কোনো কথা ওঠে, সেটা দুজনেরই জনে জনে গিয়ে খণ্ডানোর কিচ্ছু নাই।’

সহকর্মী নারী নাকি পুরুষ, তার চেয়ে বড় ভাবনা হওয়া উচিত তিনি কেমন মানুষ, সেদিকে।

বিজ্ঞাপন
প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন