default-image

আমি সব সময় প্রথম আলো পত্রিকার একনিষ্ঠ পাঠক। পত্রিকার পাঠকদের পাঠানো আইনগত বিভিন্ন সমস্যার প্রশ্নোত্তরভিত্তিক এই কলাম নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় আইনি কলাম। আমার আগে কয়েকজন বিজ্ঞ আইনজীবী এই কলামে পাঠকের প্রশ্নের উত্তর দিতেন এবং আমি সেগুলোর নিয়মিত পাঠক ছিলাম। দুই বছর ধরে আমি নিয়মিত লিখছি এবং পাঠকের পক্ষ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন আইনি এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে অনেক আগে থেকেই লেখালেখি করি। দেশের প্রধান প্রধান সবগুলো কাগজেই আমার লেখা ছাপা হচ্ছে। এমনও হয়েছে, একই দিনে একাধিক কাগজে আমার লেখা বেরিয়েছে। কিন্তু প্রথম আলোর আইনি পরামর্শ কলামটি লিখে যে আনন্দ পাই, সে আনন্দ নিখুঁত এবং খাঁটি। পাঠকের আইনি সমস্যার সরাসরি সমাধান দেওয়ার মাধ্যমে পাঠকের কাছে পৌঁছানোর যে আত্মতৃপ্তি, তা আমার জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি!

এটি পড়ে দেশে-বিদেশে বসবাসরত অসংখ্য পাঠক আমার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেন। তাঁরা আমার লেখা পড়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন, প্রশংসা করেন, এমনকি গঠনমূলক সমালোচনাও করেন। এভাবে ইতিবাচক ও গঠনমূলক পাঠক প্রতিক্রিয়া আমি নিয়মিত পাই।

পাঠক প্রতিক্রিয়ার ‘ইতিবাচক’ এবং ‘নেতিবাচক’ দুটি দিকই রয়েছে। তবে আমি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই অনেক বেশি পাই। সমালোচনার চেয়ে প্রশংসা আসে বহুগুণ। সমালোচনা যা পাই তার সবই গঠনমূলক মন্তব্য। যেগুলো আমার লেখার জন্য খুবই সহায়ক। অনেকেই লেখাগুলো বই আকারে ছাপানোর তাগিদ দেন।

একসময় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ যোগাযোগ ছিল শুধু একতরফা, কিন্তু তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমিও অনেক সময় জবাব দেওয়ার চেষ্টা করি। এখন শুধু ই–মেইল নয়, চিঠি নয়, টেলিফোনেও হরহামেশা অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বিভিন্ন আইনি সমাধানের জন্য। দেশে–বিদেশে পাঠকদের মৌখিক মন্তব্য ও লিখিত প্রতিক্রিয়া থেকে বুঝতে পারি যে কতটা উৎসাহ নিয়ে তাঁরা আমার এই কলামটি পড়েন। এ এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা! এ অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে আমার পেশাগত জীবনের একটি উজ্জ্বলতম অধ্যায়। আমার লেখা পড়ে সবার না হলেও কোনো কোনো পাঠকের উপকার হয়েছে, এটা ভাবতে গেলে একজন আইনজীবী হিসেবে আমার নিজেকে সার্থক মনে হয়।

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকার আইনি পরামর্শ কলামের লেখক হওয়া একটি বিরাট দায়িত্বের ব্যাপার। পেশাগত দায়িত্বশীলতা থেকেও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাকে দিতে হয়। তা ছাড়া আমার অনেক পাঠক এই কলামটির সঙ্গে বেশ আন্তরিক ও গভীরভাবে জড়িয়ে গেছেন। তাঁরা আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। কাজেই এটি আমার দায়িত্ববোধকে বাড়িয়ে তুলছে।

পাঠকের আইনসংক্রান্ত সমস্যার উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে পাঠকদের দ্বারে দ্বারে আইনি সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আনন্দ আমার পেশাগত অভিজ্ঞতার ভান্ডারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রথম আলোর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবাইকে অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

মিতি সানজানা: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0