মনের বাক্স
মনের বাক্স

মাকে মনে পড়ে

আর তিন দিন পর তোমার জন্মতিথি। এই সাদাকালো চুলে যুদ্ধরত তুমি সাতান্ন শেষ করে আটান্নর কোটায় পা দিতে যাচ্ছ। আচ্ছা আসলেই কি আটান্ন বছর! তুমি তো আমাকে বলেছিলে, ওপারে বয়স বাড়ে না। ওপারে সব একটা জায়গায় স্থির হয়ে থাকে। তবে তুমি তো এখনো ছাপ্পান্ন। সেদিন তোমাকে স্বপ্নে দেখলাম। তুমি ঠিক আগের মতোই আছ। কিন্তু আমি যে এখানে থেকে থেকে বড় হয়ে যাচ্ছি। আমি তো তোমার সেই ছোটটি নেই। ‘ছোট’ নামটা তো তোমার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে। আচ্ছা মা, আমি যখন ওপারে আসব, চিনতে পারবে তো আমায়? আমার কেন জানি খুব ভয় হয়, যদি চিনতে না পারো।

এখানে আমি পড়ে আছি সাদা পৃষ্ঠার মতো জীবন নিয়ে। মা, তুমি কি এসে একদিন জিজ্ঞেস করতে পারো না, আমি খেয়েছি কি না বা আজ স্যার কী পড়াল?

মা, তুমি আকাশের কোন দিকটায় থাকো? কালপুরুষের কাছে নাকি শুকতারাটার কাছে? তোমার চেনানো তারার ভিড়ে কেন তোমাকে খুঁজে পাই না মা?

আবিদা আনজুম

ময়মনসিংহ সরকারি কলেজ, ময়মনসিংহ।

কবে দেখব তোকে

তোকে ভালোবেসে পাগল হয়ে যাচ্ছি। কী এক অসুখে পেয়েছে আমাকে। নিজেই যে সিনেমায় দেখা ‘পাগলা প্রেমিক’ হয়ে যাব, সেটা ভাবিনি কখনো। বসতে, হাঁটতে, ঘুমাতে, খেতে তোকে দেখি। আসমান–জমিনের মাঝেও দেখি শুধু তোকে।

সেদিন দেখলাম তুই আমার ঘাড়ে উঠে বসে আছিস। এটা তোকে বলার পর তুইও পাগলের মতো আবদার করলি, এখনই ঘাড়ে নিতে হবে তোকে। আমিও তো পাগল কম না, গেলাম সেই রাতেই। বাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে তোকে ঘাড়েও তুললাম। কী কাণ্ডটাই না করি আমরা!

তুই এভাবেই আমার জীবনে থাকিস। না হলে আমি বাঁচব না।

রিফাত, কুমিল্লা।

হৃৎপিণ্ডের অভাব

এক মহাশূন্যসমান শূন্যতা নিয়ে সব পৃথিবীর এই অন্ধকার আকাশে একটু আলো খোঁজে। শহরের অস্থিরতা আর পুরো আকাশের শূন্যতার সঙ্গে এই বুকটা খালি পড়ে থাকে। মাঝেমধ্যে পুরোনো কিছু দীর্ঘশ্বাস এসে জমা হয়। দীর্ঘশ্বাসগুলো হাঁপাতে থাকে একটু নির্মল অক্সিজেন গ্রহণের জন্য। পুরো একটা গাছের শিউলি ফুলও তখন তাকে জয় করতে পারে না। জয় করতে পারে না পরিপূর্ণ কোনো প্রকৃতি, কোনো কৃত্রিমতা। এরপর প্রকৃতি আর কৃত্রিমতা দুটোই তাকে বিদায় জানায়। তার শুধু অভাব একটা আস্থাশীল বুকের, আস্থাশীল এক জোড়া হাতের।

রেহনুমা লাবণ্য, শরীয়তপুর।

আঠারোটি সবুজ তারা

তিন বছর আগে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের আয়েশা হাউসে তোদের সঙ্গে পথচলা শুরু। কোথা থেকে এত সময় যে কেটে গেছে! মনে হয় এই তো সেদিন। যেদিন আমরা নভিসেস চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম, সেদিন সবার চোখে–মুখে কী আনন্দ, এখনো চোখে ভাসে! এখন লকডাউনে বসে এসব মনে পড়তেই হাজারো স্মৃতি ডানা মেলে উড়তে শুরু করেছে। তোদের একেকজনের পাগলামি খুব মিস করি।

এবারের জন্মদিনে তোরা যেভাবে আমাকে একের পর এক চমক দিয়েছিস, তা দেখে সত্যি নির্বাক হয়েছিলাম। সেই সপ্তম থেকে এখন দশম শ্রেণি পর্যন্ত তোরা যেভাবে সাপোর্ট দিয়েছিস, কঠিন সময়ে পাশে থেকেছিস, তা শুধু তোদের দ্বারাই\R সম্ভব। প্রতিদিন যত কিছুই হোক না কেন, দিন শেষে আমরা ১৮টি সবুজ তারকা সর্বদা থাকি উজ্জ্বল, দীপ্তমান। এভাবেই পাশে থাকিস।

আরিফা রহমান, বরিশাল।

বিজ্ঞাপন

লেখা পাঠানোর ঠিকানা

অধুনা, প্রথম আলো, প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবন, ২০–২১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected], ফেসবুক: facebook.com/adhuna.PA খামের ওপর ও ই-মেইলের subject–এ লিখুন ‘মনের বাক্স’

মন্তব্য করুন