স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনেক সময় মনে হবে খুব জটিল। একদিকে বিজ্ঞাপন, অন্যদিকে বিজ্ঞজনের পরামর্শ, ধন্দ জাগে মনে। কী করি, কোনটা ভালো? যতটা জটিল ভাবছেন, বিষয়টি কিন্তু অতটা জটিল নয় মোটেও। শুধু মেনে চলতে হবে কয়েকটি নিয়ম, এই তো।

শরীরে বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেললেই দেখবেন আপনি বেরোলেন স্থূল শরীর থেকে, কী চমৎকার স্বাস্থ্য। সুঠাম দেহ। হাসিতে উজ্জ্বল মুখ।

জেনেশুনে কেন বিষপান

অনেকেই শরীরের ভেতর বিষ ঢুকিয়ে দেন জেনেশুনে। সিগারেট, বিড়ি, তামাকপাতা, মাদক যে বিষ, তা জেনেও এসবের প্রতি কী দুর্নিবার আকর্ষণ! কী মোহে যেন অনেকের হাত চলে যায় এসবের দিকে। বিষ জানি, তবুও ধরলে ছাড়া যায় না, এড়াতে পারা যায় না, মন-প্রাণ আবিষ্ট করে রাখে। আসক্তি একসময় চরমে ওঠে।

তামাক আর মাদক—দুটিই মন্দ। কোনো গুণ নেই এসবের। দ্রব্যগুণও নয়। প্রাণ হরণের এমন ‘শান্তিময়’ হাতিয়ার আর আছে দুটো?

অনেকে ফাস্ট ফুড খাচ্ছেন দেদার। রেস্তোরাঁয় ঢুকছেন, ঢেকুর না ওঠা পর্যন্ত গলাধঃকরণ করছেন। অস্বাস্থ্যকর খাবার, রোগকে নিজের ঘরে ডেকে আনে। তৃপ্তির লোভে আর কোন এক আকর্ষণে না খেলেও মনে আসে না আনন্দ। এটাও একধরনের নেশা। এসব খাবারের অভ্যাস সীমিত করতে হবে। কালে-ভদ্রে উৎসবে সামান্য প্রশ্রয় দিতে পারেন। প্রক্রিয়াজাত খাবার, প্যাকেটের খাবার এড়াতে পারবেন না? নিশ্চয় পারবেন জানি। আপনাদের মনের ইচ্ছাশক্তি প্রবল।

আবার এটাও জানি, এদের ছাড়া কঠিন। দৃষ্টিনন্দন আবরণে ঢাকা, স্বাদ আর এসবের আকর্ষণ সামলানো কঠিন বটে, তবু স্বাস্থ্যের জন্য, নিজের সুস্থতার জন্য এটুকু ত্যাগ করলেন না হয়। বিশেষ উপকরণের কথা যদি বলি, তাহলে বাড়তি চিনি, মিষ্টি, নোনা খাবার ভালো নয়। খুব সীমিত খান। বেশি খেলে বিপাকে তোলে তুফান।

আর হলো একধরনের চর্বি, ট্রান্সফ্যাট যার নাম। মারজারিন, বেকারির খাবার এসবে আছে ট্রান্সফ্যাট। এই চর্বি খাবারকে নষ্ট হতে দেয় না, কিন্তু শরীরকে করে বিপর্যস্ত।

পেশিকে কাজে লাগান। ভার উত্তোলন করুন। চেহারায় আসবে চেকনাই। পুরো শরীরকে খেলানো চাই। কেবল শরীর কেন, মগজ আর হরমোন সব কাজ করবে চমৎকারভাবে। ভারোত্তোলনে রক্তের গ্লুকজ থাকবে ঠিকঠাক, ইনসুলিন কাজ করবে পুরোদমে।
বিজ্ঞাপন

সবল পেশি সচল দেহ

পেশিকে কাজে লাগান। ভার উত্তোলন করুন। চেহারায় আসবে চেকনাই। পুরো শরীরকে খেলানো চাই। কেবল শরীর কেন, মগজ আর হরমোন সব কাজ করবে চমৎকারভাবে। ভারোত্তোলনে রক্তের গ্লুকজ থাকবে ঠিকঠাক, ইনসুলিন কাজ করবে পুরোদমে। কমবে কোলেস্টরেল, ট্রাইগ্লিসারাইডস। পুরুষ হরমোন টেস্টেস্টেরন। বাড় আর বাড়নের হরমোন গ্রোথ কাজ করবে সাবলীল। শরীরে, মনে আসবে কুশলবার্তা।

আরও আছে। কমে যাবে বিষণ্নতা। অনেক ক্রনিক রোগের ঝুঁকিও কমে যাবে। স্থূলতা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, আলঝেইমার, হৃদ্‌রোগ আরও কত সমস্যা। শরীরের চর্বিও কমে। তবে সঙ্গে চাই সুষম খাবার।

এতে শরীরের কাজকর্ম সব হয় উন্নত। আর কেবল ভারোত্তোলন কেন, আছে কার্ডিও ব্যায়াম। আর এ জন্য জিমে যেতে হবে না। কিনতে হবে না কোনো ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি। ঘর থেকে দুই পা ফেলে হাঁটুন জোরে। দিনে আধা ঘণ্টা। এতেই হবে। মাঝেমধ্যে সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, খেলাধুলাও করুন। টেনিস বল পেটান জোরে জোরে।

করোনা চলছে। তাই ঘরে করতে পারেন দড়িলাফের মতো ব্যায়াম। টেলিভিশন দেখার বিরতিতে নৃত্য করুন, মম চিত্তে নিতি নৃত্যে। আর হাঁটুন ঘরের ভেতর। নিজের প্রাঙ্গণ থাকলে বাগান করুন। পরিচর্যা করুন সেসবের। পাখি, ফড়িং—সবারই দেখা পাবেন বাগানে। ফুলের পাশে, গাছের পাশে গেলে মন হবে ভালো। পাবেন অক্সিজেন। যে শরীরচর্চা পছন্দ, সেটাই হোক প্রতিদিনের সহচর। আর যদি শরীর খুব ভালো না থাকে। থাকে যদি কোনো ক্রনিক অসুখ, বেঢপ মোটা শরীর, তাহলে ডাক্তার দেখাবেন। শরীরের অবয়ব আপেলের মতো হলেই মুশকিল। বরং আপনাকে হতে হবে নাশপাতির মতো। কোমরের বেড় পুরুষের হবে ৪০ ইঞ্চির কম আর নারীদের ৩৫ ইঞ্চির কম।

বিজ্ঞাপন

ঘুমাবেন শিশুর মতো

স্বাস্থ্যের জন্য চাই সুনিদ্রা। ঘুমের সমস্যা হলে, ঘাটতি হলে যদি জাগরণে যায় বিভাবরী, তাহলে স্থূলতা আর হৃদ্‌রোগ আসবে কাছে। ঘুমাবেন শিশুর মতো। ঘুমের জন্য আছে পরামর্শ—

 আগ বিকেলে কভু পান করবেন না চা-কফি।

 প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে যান আর একই সময়ে জাগার অভ্যাস করুন।

 গাঢ় অন্ধকার ঘরে ঘুমাবেন। আলো বিন্দুমাত্র যেন না আসে ঘরে।

 ঘুমাতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে গৃহের সব বাতি করে দিতে হবে নিষ্প্রভ।

 কেউ স্নান করেন ঝরনা ছেড়ে, সঙ্গে গুনগুনানি। কেউ মোমবাতি জ্বালিয়ে বাথ ট্যাবে শরীর এলিয়ে দেন। পাশে বাজতে থাকে মৃদু কোনো সুর। ভালো ঘুমের জন্য ভালো গোসল দরকারি।

বিজ্ঞাপন

বাড়তি চাপ আর নয়

স্বাস্থ্যকর জীবনশৈলীর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম আর সুনিদ্রা হলে কেমন লাগে শরীর? মন ভালো রাখুন। সব সময় চাপে থাকলে সমস্যা। বাড়তি চাপে বাড়ে স্ট্রেস হরমোন করটিসল। বিপাক হয় ভন্ডুল। তলপেটে জমে মেদ। ব্যামো হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত এটা। স্ট্রেস থেকে বিষণ্ণতা একই সূত্রে গাঁথা যেন। চাপ নিজে সামলাতে না পারলে মনোরোগ চিকিৎসকের সাহায্য নিন। চাপ কমাতে জীবনকে করুন সরল ও সহজ। হাঁটুন পার্কে জীবনসঙ্গীর সঙ্গে। নয়তো বন্ধুর সঙ্গে গল্প করুন মন খুলে। চাপ পুষে রাখবেন না। মনটাকে ফুরফুরে রাখুন।

মন্তব্য পড়ুন 0