default-image

গত বছর করোনার দুর্ভোগ আচ্ছন্ন করেছিল হৃদ্‌রোগের মতো আরেক বড় অসুখকে। কেবল ধনী দেশ বলে নয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও হৃদ্‌যন্ত্রের অসুখ বেড়েছে। জীবনযাপনে এসেছে যে পরিবর্তন, ব্যস্ত জীবনের নানা অনুষঙ্গ, মনের চাপ, সব একত্রে এই রোগের আগমনকে যেন সুগম করেছে।

করোনাভাইরাস সম্পর্কে আমরা জেনেছি সাম্প্রতিক কালে। আরও অনেক জানার বাকি। চতুর এই মহাশত্রু তার রূপ বারবার বদলাচ্ছে। যেন পালিয়ে বেড়ায় তবু ডাক দিয়ে যায়। এটা এমন এক অণু ক্ষুদ্র ভাইরাস, যা বিশ্বের সব বিজ্ঞানীর রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে, তবু এর আক্রমণের ধারায় যতি পড়েনি। কিন্তু হৃদ্‌রোগ? সে তো আমাদের খুব চেনা। অনেক দিন ধরে আমরা জানি একে। তাহলে হৃদয়কে অবহেলায় কেন রাখা? গত বছরও করোনার জটিলতায় যতজন মারা গেছেন, এর দ্বিগুণ মারা গেছেন হৃদ্‌রোগে। আমাদের দেশেও হৃদ্‌রোগের প্রকোপ কম নয়। তরুণদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ আরও বাড়ছে।

শুধু কী তা–ই? যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এবং হার্ভার্ড হার্ট হেলথ–এর প্রধান সম্পাদক হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ দীপক এল ভাট বলেন, হৃৎস্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য জীবনযাপনের অভ্যাসগুলো চর্চা করলে করোনার সংক্রমণ আর ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে জটিলতা গুরুতর হওয়া অনেক হ্রাস পাবে। আমাদের জন্যও বিষয়টি প্রাসঙ্গিক।

তাহলে হৃৎস্বাস্থ্যকর অভ্যাস কী?

আমেরিকান হার্ট সমিতি একে বলেছে জীবনের সহজ সাত।

আরও সহজ করে বলি

১. বন্ধ হোক ধূমপান ।

২. স্বাস্থ্যকর আহার।

৩. থাকবেন সচল, সক্রিয়।

৪. বাড়তি ওজন কমাবেন।

৫. রক্তচাপ করবেন মোকাবিলা।

৬. নিয়ন্ত্রণ করবেন কোলেস্টেরল।

৭. রক্তের গ্লুকোজ রাখবেন নিয়ন্ত্রণে।

বিজ্ঞাপন

চটজলদি তিন ধাপ

সাতটি অভ্যাস এখনই শুরু করা একটু কঠিন মনে হলে হৃৎস্বাস্থ্যের জন্য আপনাদের চেষ্টা চটজলদি শুরু করার জন্য আছে তিনটি ধাপ।

২০২১ সালে অন্তত তিনটি কাজ শুরু হোক হৃৎপিণ্ডের প্রতি সদয় হওয়ার জন্য:

ধূমপান ছাড়বেন সে জানা থাকা। অন্যান্য তিনটি হলো—

১. দৈনিক আহারে সামান্য পরিবর্তন

এক দিন মাংস না খেয়ে মটরশুঁটি, ডাল খান। ময়দার রুটি না খেয়ে লাল আটার রুটি খান। সপ্তাহে এক দিন নিরামিষ খাওয়ার চেষ্টা করুন। মেন্যুতে সবজি যোগ করুন। ধরুন এমন সবজি, যা আগে খাননি। চমৎকার উদ্ভাবন। ফল খাবেন অবশ্যই। মৌসুমি ফল।

২. দিনে অন্তত ১০ মিনিট এমন এক শরীরচর্চা করুন, যা বাড়িয়ে দেবে হৃৎঘাতের হার

কাছে, আশপাশে দ্রুত হাঁটুন ১০ মিনিট জোর কদমে। ঘরে বসে? দড়িলাফ দিন। নয়তো চড়ে বসুন ব্যায়ামের যন্ত্রে বা ট্রেড মিলে। যন্ত্র নেই? তাহলে সহজ ক্যালিস্থেনিকস। লম্ফঝম্প, উঠবস। পা তুলে, হাত ঘুরিয়ে ব্যায়াম।

৩. জীবনসংখ্যার মান জানুন

চারটি জীবনসংখ্যা আপাতত। উঠুন বাথরুম স্কেলে। মাপুন ওজন আর উচ্চতা।

এরপর বের করুন বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই। ওজন আর উচ্চতার সংখ্যা কম্পিউটারে ঢোকালে বিএমআই চাইলে পাবেন আপনার সূচক কত।

মেপে নিন আপনার রক্তচাপ। শেষ রক্ত পরীক্ষার রেকর্ড মাপুন নিশ্চয় এতে থাকবে রক্তের গ্লুকোজ আর কোলেস্টেরল পরিমাপ।

লক্ষ্যমাত্রা কত হওয়া উচিত?

বিএমআই: ১৮.৫ থেকে ২৩ (শিল্পোন্নত দেশে ২৫ পর্যন্ত )

রক্তচাপ: ১২০/৮০ এবং এর নিচে

রক্তের মোট কোলেস্টেরল ২০০ মিলিগ্রাম/ডিএল (ডেসিলিটার)–এর নিচে

রক্তের গ্লুকোজ ১০০ মিলিগ্রাম/ডিএলের নিচে।

এ হলো সাধারণ হিসাব। বলে রাখি, ব্যক্তিপর্যায়ে আর মেডিকেল ও পারিবারিক ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে লক্ষ্যমাত্রা ভিন্ন হতে পারে। কথা বলুন ডাক্তারের সঙ্গে। এরপর দুজনে মিলে ঠিক করবেন কত হবে লক্ষ্যমাত্রা। এখন করোনাকালে তা সম্ভব, নাহলে ভিডিও চ্যাট করে তা স্থির করতে পারেন।

ইতিমধ্যে ছোটখাটো পরিবর্তন আনুন আহারে আর ব্যায়ামে। এরপর আরও যোগ করুন স্বাস্থ্যকর খাদ্য, বাড়ান ব্যায়ামের সময়।

করোনাকাল হোক নির্বিঘ্ন। হৃদ্‌যন্ত্র থাক সচল আর সুস্থ। তাহলে হৃদয় ও থাকবে আনন্দে।

হৃৎ শুভকামনা।

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন