বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমি কি তবে ‘বঞ্চিত’

পিরিয়ডের পর ‘এমন কেন হলো আমার সঙ্গে?’ এমন কোনো ভাবনা যেন আসতে না পারে শিশুমনে। মাসিক শুরু হলেই মেয়েদের স্বাধীনতা হরণের প্রবণতা রয়েছে কোথাও কোথাও। এতে শিশু গুটিয়ে যায় নিজের মধ্যে, বিকশিত হতে পারে না স্বাভাবিকতায়। তাই মাসিকের অজুহাতে কোনো কাজে বাধা দেবেন না। খেলাধুলা-পড়ালেখা-দৌড়ঝাঁপ চলুক পুরোদমে। হয়তো ওই সময় ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কন্যার মাসিক হয়েছে বলে তা পিছিয়ে দেবেন না। আর অবশ্যই নিশ্চিত করুন সুষম খাবারদাবার। কোনো খাবার খেতে নিষেধ করবেন না মাসিকের জন্য। বরং এই দিনগুলোতে একটু বাড়তি খাবার এবং তার পছন্দের খাবার দিলে নিজেকে বঞ্চিত নয়, ‘সুবিধাপ্রাপ্ত’ ভাবতে পারে সে। খেয়াল করুন, শিশু যেন পানি পান করে পর্যাপ্ত। সবার সঙ্গে বসে খেতে বাধা দেবেন না।

শারীরিক সুস্থতায় আরও যা

কাপড়ের মতো অস্বাস্থ্যকর ব্যবস্থা নয়, বরং স্যানিটারি ন্যাপকিন বেছে নিতে উৎসাহিত করুন। কোনো অবস্থাতেই যেন ৬ ঘণ্টার বেশি সময় একই ন্যাপকিন না রাখা হয়। ন্যাপকিন বদলানোর সময় নিজেকে পরিষ্কার রাখার নিয়ম, পরিষ্কারের পর স্থানটি শুকনা রাখা শেখানোর পাশাপাশি সঠিকভাবে ন্যাপকিন ফেলার পদ্ধতিও শেখান। প্রয়োজনে সাহায্য করুন। একটু ছোটদের জন্য ‘ডিসপোজেবল প্যান্টি’ বেছে নেওয়া ভালো, ব্যবহার শেষে যা পুরোটাই ফেলে দেওয়া হয়। মাসিকের সময় কোনো সমস্যাই (পেটব্যথা, চুলকানি, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, অধিক রক্তক্ষরণ প্রভৃতি) শিশু যেন না লুকায়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সামাজিক পরিসরে

স্কুলব্যাগে ছোট একটি কিট বক্স রেখে দিন, যাতে হঠাৎ প্রয়োজনে মেয়েটি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে। মেয়েটির প্রথম মাসিক স্কুলে হলে শিক্ষকদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাসে কোনো মেয়েশিশু অস্বস্তি বোধ করলে অবশ্যই একজন নারী শিক্ষককে বিষয়টিতে যুক্ত থাকতে হবে। এ দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটের দাবি এটি। কোনো অবস্থাতেই যাতে কারও মাসিক নিয়ে হাসাহাসি-কানাকানি না হয়। ক্লাসের সবার সামনে কথা না বলে আলাদা করে বলুন। আর জাতীয় পর্যায়ে মীনা কার্টুনের মতো জনপ্রিয় কোনো মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা তো সময়ের দাবি।

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন