করোনা

করোনা ক–ব–জ

বাইরে গেলেও নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে চলুন। মডেল: সজীব ও লিওনা।
বাইরে গেলেও নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে চলুন। মডেল: সজীব ও লিওনা। ছবি: সুমন ইউসুফ, গ্রাফিক্স: রজত কান্তি রায়
বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা শুধু পৃথিবীর অন্য দেশ নয়, বাংলাদেশও খুব ভালোভাবেই দেখছে। আমাদের পরিচিতদের মধ্যেই ছোট থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ—কতজনকেই না হারিয়ে ফেলেছি আমরা!

করোনা একটি নভেল মানে নতুন ভাইরাস। তাই আমরা করোনা আসার আগে তা সম্পর্কে বলতে গেলে কিছুই জানতাম না। কিন্তু অন্য অনেক মহামারির ইতিহাস আমাদের জানা। তা থেকে আমরা জানি কীভাবে সেসব মহামারি সাফল্যজনকভাবে প্রতিরোধ করা হয়েছিল।

আমাদের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রথম থেকেই বলে এসেছেন, এই কোভিড-১৯ মহামারিতে হাসপাতালনির্ভর রোগ সারানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে তা হবে আত্মঘাতী। যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেনের মতো দেশ উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়েও যেখানে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সারাতে রীতিমতো হিমশিম খেয়েছে, মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে, সেখানে বাংলাদেশে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের আলোচনার বড় অংশটি জুড়েই ছিল ভেন্টিলেটর, আইসিইউ বেড ইত্যাদি। দেশে প্রতিদিন করোনায় মৃতের সংখ্যা দেখলে বোঝা যায়, আমরা এখনো কতটা কঠিন সময় পার করছি। সরকারি কার্যক্রমের বাইরেও আমাদের নিজেদের দায়িত্ব তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস মূলত নাক–মুখ দিয়েই আমাদের শরীরে ঢোকে। শ্বাস-নিশ্বাসের পাশাপাশি আমাদের হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শের মাধ্যমেও করোনা আমাদের শরীরে ঢুকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা সারা দিনে গড়ে দুই হাজারের বেশি বার আমাদের হাত দিয়ে নাক বা মুখ স্পর্শ করি। কোনো বস্তুর উপরিতলে লেগে থাকা করোনাভাইরাস তাই হাত হয়ে নাক-মুখ দিয়ে আমাদের শরীরে ঢুকতে পারে। এ কারণে সাবান দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়ার সু-অভ্যাসটি বজায় রাখা করোনাকালের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

করোনা প্রতিরোধে আরেকটি সু-অভ্যাস হচ্ছে মাস্ক পরা। শুধু পরা নয়, সঠিক নিয়মে পরা। মুখের ওপর মাস্ক পরার কারণে শ্বাস নিলে বাতাসে থাকা করোনাভাইরাস মাস্কের বাইরের স্তরে এসে আটকে যায়। তাই কেউ যদি মাস্ক নাকের নিচে পরে থাকে, তাহলে শ্বাস নেওয়ার সময় মাস্কের বাইরে জমে থাকা ভাইরাস খুব সহজেই শরীরে ঢুকে যাবে। তাই সঠিক নিয়মে মাস্ক না পরা করোনার ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দিতে পারে।

দীর্ঘ সময় করোনা মহামারি চলতে থাকায় অন্যান্য দেশের মতো আমরাও এখন জীবন এবং জীবিকার টানাপোড়েন পর্বে অবস্থান করছি। এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া বকি প্রায় বাকি সবকিছুই খুলে দেওয়া হয়েছে। জীবিকার জন্য ঘরের বাইরে গেলেও জীবন বাঁচাতে করণীয়গুলো আমাদের করে যেতেই হবে। করোনা থেকে বাঁচতে সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তিনটি আচরণ, ‘থ্রি সি’–এর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এই তিন সি মানে হলো ক্লোজ–কন্ট্যাক্ট সিটিং, ক্লোজড স্পেসেস এবং ক্রাউডেড স্পেসেস। বাংলায় সেগুলো ব্যাখ্যা করা যায় এভাবে—

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
করোনা প্রতিরোধে আরেকটি সু-অভ্যাস হচ্ছে মাস্ক পরা। শুধু পরা নয়, সঠিক নিয়মে পরা।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ক= কাছাকাছি না থাকা

করোনা সংক্রমণ থেকে নিজে বাঁচতে এবং অন্যকে বাঁচাতে কারও বেশি কাছাকাছি যাওয়া বা থাকা থেকে বিরত থাকুন। বেশি কাছাকাছি গেলে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সহজেই আপনি আক্রান্ত হতে পারেন। অন্যদিকে আপনি আক্রান্ত হলে, অন্যের কাছাকাছি যাওয়ার মাধ্যমে অন্যকে আক্রান্ত করতে পারেন। একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে এই আচরণ নিশ্চিত করার পরামর্শ আমরা করোনা মহামারি শুরুর প্রথম থেকেই পেয়ে আসছি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ব= বদ্ধ জায়গায় না থাকা

বায়ু চলাচল সীমিত থাকার কারণে বদ্ধ জায়গায় মাইক্রো ড্রপলেট হিসেবে করোনাভাইরাস বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। তাই করোনা থেকে সুরক্ষায় বদ্ধ জায়গায় থাকবেন না বা এড়িয়ে চলবেন। সম্ভব হলে দরজা–জানালা খুলে কোনো জায়গার বদ্ধতা দূর করার চেষ্টা করা উচিত।

জ= জনবহুল জায়গা এড়িয়ে চলা

জনসমাগম বা জনবহুল জায়গা করোনা বিস্তারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বেশি মানুষের মধ্যে একজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত মানুষই যথেষ্ট বিশালসংখ্যক মানুষকে আক্রান্ত করতে। জনবহুল জায়গায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব বলে তা এড়িয়ে চলুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা যায় না বলে জনসভায় যাবেন না। গণপরিবহনে উপচে পড়া ভিড় থাকলে তা পরিহার করুন। করোনা থেকে সুরক্ষায় সরকারের দায়িত্ব যতটুকু, তার চেয়ে বেশি দায়িত্ব আমাদের কাঁধে। আমাদের সচেতনতাই আমাদের টিকিয়ে রাখতে পারে কোভিড-১৯–এর এই মহাদুর্যোগ থেকে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন