সৃজনশীল কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে করোনাকালে। মডেল: জাকিয়া উর্মি
সৃজনশীল কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে করোনাকালে। মডেল: জাকিয়া উর্মিছবি: অধুনা

অনেক দুঃখ, অনেক শোক, অনেক বেদনা চারদিকে। করোনা অতিমারির এই চাপ যাওয়ার পর নতুন একধরনের বাড়–বাড়ন্ত হবে। নতুন অনেক সম্ভাবনা দেখা যাবে। আর ক্যারিয়ার সংকটের সময়ে নতুন নতুন সুযোগ চোখে পড়বে।

এ কথা সত্যি, এই অতিমারির সময় কর্মীদের মধ্যে অনেক হৃদ্‌ভঙ্গ হবে। অনেক ভয়ভীতি আর আঘাতে বাড়বে চাপ (স্ট্রেস)। একে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার। ভারী শব্দ, তাই সংক্ষেপে পিটিএসডি। ব্যক্তিগত দুঃখবেদনা তো আছেই, অনেকের মনে ছিল দারুণ ভয়—প্রিয়জনের যদি কোভিড হয়! কবে আবার নিজের হয়। আমাদের অনেকের প্রচুর চাপ সহ্য করতে হয়েছে, এখনো হচ্ছে। করতে হয়েছে নিঃসঙ্গবাস। এসবের মধ্যে সুখবরও আছে, এমন কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মানুষ শক্ত–সবল হয়ে উঠেছে, এর কিছু সুফলও আসবে।

এসব নিয়ে অনেক লেখাপড়া করছেন আরিয়া হাফিংটোন। নতুন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মানে কেবল বাহিরপানে তাকানো নয়, ভেতরপানেও তাকানো। দুর্দশা–দুর্বিপাক নিয়ে লড়াই। এই সময়ে নিজের ভেতরের শক্তির উদ্বোধন করতে হয়েছে, খুঁড়ে বের করতে হয়েছে ভেতরের সুপ্ত সম্ভাবনা। করোনা–পূর্বে সেদিকে তাকানো হয়নি ভুলেও। এখন হুমকি মোকাবিলায় আরও দৃঢ় হচ্ছে মন। ব্যক্তিগত আর পেশাজীবনে হচ্ছে আরও শক্তিশালী।

কী সুফল হবে?

নিজের মনকে একবার নিজেই প্রশ্ন করুন, নিজেকে আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী মনে হচ্ছে কি না। জীবন সম্বন্ধে আসবে নতুন উপলব্ধি আর অর্থবহ হবে জীবন। অগ্রাধিকার বদলে ফেলে নিজের সঙ্গে বেশি অন্তরঙ্গ হওয়া গেছে এই সময়ে। এ নিয়ে গবেষণাও হলো। গবেষকেরা খুঁজে পেলেন করোনা অতিমারির কিছু ইতিবাচক দিক আর জীবনে নতুন কী পরিবর্তন এল সেদিকে।

পর্তুগাল আর যুক্তরাজ্য—দুটি দেশের ৩৮৫ জনের ওপর প্রথম করোনা ঢেউয়ের প্রভাব কেমন পড়ল, তা–ই দেখা হয়েছে একটি গবেষণায়। তারা বলেছে, আচ্ছা জীবনকে অন্যভাবে দেখি না কেন!

একটি ঘটনা বলি। বারবারা ওয়াল্টার সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন প্রয়াত অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলরের। এমন সময় টেলরকে বলা হলো, তাঁর মগজে টিউমার। শুনে তিনি শুধু হাসলেন। এরপর স্বাভাবিকভাবেই বললেন, ‘কী আর করতে পারবেন আপনারা।’ কথা হচ্ছে, এমন বেদনার সংবাদকে সাদরে নিয়েই ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

এবার ফিরি আগের সেই গবেষণার তথ্যে। গবেষণায় অংশ নেওয়া মানুষের মধ্যে ৪৮ শতাংশ বলল, তাদের পারিবারিক সম্পর্ক অনেক বেশি গভীর ও অর্থপূর্ণ হয়েছে। ২২ শতাংশ জানিয়েছে, জীবন সম্বন্ধে তাদের আরও গভীর উপলব্ধি হয়েছে, তারা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে মনোযোগী হয়েছে। জীবনের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। ১৬ শতাংশ বলেছে, তাদের আত্মিক উন্নতি হয়েছে। পরের ভালো করার দিকে আগ্রহ বেড়েছে। পাড়া–প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হয়েছে। ১১ শতাংশের নতুন কাজের সুযোগ হয়েছে। ঘরে বসে কজের সুযোগ বেড়েছে, বেড়েছে ঘরে বসে নানা বিষয়ে শেখার সুযোগ।

তাই আর হতাশা নয়, পরিস্থিতি যেমনই হোক, তার মধ্য থেকে নিজেকে যোগ্যতর করে তুলতে হবে।

বিজ্ঞাপন
প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন