default-image

অফিস এক। হয়তো কাজের জায়গা ভিন্ন। বন্ধু এক বিভাগে কাজ করেন, তো আপনি আরেক বিভাগে। দুপুরে খাবারের সময় দেখা হয় বন্ধুর সঙ্গে। একটু হাসি, একটু আলাপ সেখানেই। কিংবা একই বিভাগে কাজ করেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যেও অফিস সময়ে কাজের কথাই হয় বেশির ভাগ সময়। টুকটাক আলাপ করতে খাবারের ঘরটাই বেছে নেন অনেকে। খাওয়ার পাশাপাশি একটু আলাপ হলো কিংবা আলাপের পাশাপাশি এক কাপ চা। এমনটাই হয়ে এসেছে এত দিন। তবে মহামারির পরিস্থিতিতে বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে বসে সামান্য হাসি-আলাপের সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার সুযোগ কম।

যদিও করোনাকালেও চলছে কর্মস্থলে যাতায়াত। তা সেটি সপ্তাহের প্রতিটি কর্মদিবসে হোক বা না হোক। এখনো লম্বা সময় অফিসে থাকার ফলে সেখানে খাওয়াদাওয়া সারতে হচ্ছে। অধিকাংশ অফিসেই দুপুরের খাবার সময়টা সেখানেই কাটান কর্মীরা। কোনো অফিসের ক্যানটিন বা ডাইনিং রুমে খাবার পাওয়া যায়, আবার হয়তো বাসার খাবারটা ওখানে নিয়ে গিয়েও খেয়ে নেন অনেকে। কারও কারও অবশ্য বাড়ি থেকে খাবার গুছিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না।

বিজ্ঞাপন
আপনি খেতে বসার আগে ও পরে টেবিলের ওই অংশ স্যানিটাইজারের সাহায্যে পরিষ্কার হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হোন।
বিজ্ঞাপন

করোনাকালে অফিসে খাওয়াদাওয়া করলে নিজের ও সহকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত:

  • সহকর্মীরা মিলে ঠিক করে নিতে পারেন, কে কোন সময় খেতে যাবেন। কেউ হয়তো হাতের কাজ গুছিয়ে নিলেন, তখন কেউ গেলেন খাবারের ঘরে। তাঁদের খাওয়া হয়ে গেলে আবার বাকিরা গেলেন, এ রকম হতে পারে। আলাদা আলাদা সময়ে খেতে গেলে অনেকে একসঙ্গে বসতে হবে না। গর্ভবতী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের (যেমন: যাঁদের ডায়াবেটিস কিংবা পেটের সমস্যা থাকে, তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণ করতে হয়) সময় নির্বাচনে অগ্রাধিকার দিন, তাঁদের সুবিধামতো সময় বেছে নিতে দিন।

বিজ্ঞাপন
  • খাবারের ঘরে গিয়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে ভুলবেন না। এ সময় মাস্ক পরিহিত অবস্থায় নেই আপনি কিংবা আপনার নিকটবর্তী ব্যক্তিটি। তাই অন্তত ছয় ফুট দূরত্বে বসা বাঞ্ছনীয়। দূরত্ব ঠিক রাখার জন্য কোনো কোনো চেয়ারে ‘ক্রস’চিহ্ন দেওয়া থাকতে পারে, সেটি বাদ দিয়ে বসতে হবে।

  • আপনি খেতে বসার আগে ও পরে টেবিলের ওই অংশ স্যানিটাইজারের সাহায্যে পরিষ্কার হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হোন।

  • স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পরিচিত ব্যক্তির কাছে গিয়ে আলাপ করলেও এখন সেটি করা যাবে না। দূরত্ব যেমন মানতে হবে, তেমনি যতটা সম্ভব কম সময় থাকতে হবে খাবারের ঘরসহ অন্যান্য স্থানে, যেখানে অনেক মানুষ ঢুকছেন-বেরোচ্ছেন।

  • খাওয়ার আগে ও পরে নিয়মমাফিক সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। সাবান-পানি না পেলে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন সময়মতো।

বিজ্ঞাপন
  • খাবারের সময়টুকু ছাড়া বাকি সময় মাস্ক পরেই থাকুন। হাঁচি-কাশির আদবকেতা তো বজায় রাখবেনই।

  • সম্ভব হলে নিজের কাজের জায়গায় বসেই খাবার খেতে পারেন। বাড়ির খাবারও যেমন হতে পারে, তেমনি ক্যানটিন থেকে খাবার আনিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকলে তা-ও কাজে লাগাতে পারেন। অনেক লোক বসেছেন, এমন স্থান এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে কাজের জায়গায় কর্মপরিবেশ ঠিক রাখার দায়িত্বও আপনার।

  • একবারই মাত্র ব্যবহার করা যায়, এমন থালা-চামচ ব্যবহার করতে পারেন। অথবা নিজের ঘরেই রাখতে পারেন আলাদা থালা-চামচ, যা ব্যবহারের আগে ও পরে আপনি নিজেই পরিষ্কার করে নিতে পারেন। নিজের থালা-চামচ একটি ব্যাগে পুরে বয়ে নিতে পারেন খাবারের ঘর পর্যন্ত।

  • একবারই মাত্র ব্যবহার করা যায় এমন সার্জিক্যাল মাস্ক পরলে খাওয়ার পর সেটি পুনরায় পরা যাবে না, বরং তা ফেলে দিয়ে খাওয়ার পর হাত ধুয়ে অন্য মাস্ক পরতে হবে। কাপড়ের মাস্ক বা মেডিকেল মাস্ক পরলে খাওয়ার আগে সেটি নিয়ম অনুযায়ী খুলে নিয়ে (ফিতা বা রবারের ইলাস্টিক ছাড়া অন্য অংশ স্পর্শ করা যাবে না) পরিষ্কার কাগজের প্যাকেটে রাখতে হবে। টেবিলে বা কোনো খোলা স্থানে ফেলে রাখা যাবে না। খাওয়ার পর নিয়মমাফিক হাত ধুয়ে এরপর একইভাবে প্যাকেট থেকে বের করে নিয়ে পরা যাবে।

মন্তব্য পড়ুন 0