default-image

কানে কোনো কারণে অস্বস্তিকর অনুভূতি হলে অনেকেই কটন বাডের সাহায্যে কান পরিষ্কার করাটাকে তার যথার্থ সমাধান মনে করেন৷ কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা; বরং কটন বাড দিয়ে কান চুলকালে কানের সমস্যা হতে পারে৷
এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক-কান-গলা বিভাগের অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন সিদ্দিকী৷ তিনি বলেন, প্রাকৃতিকভাবেই কানের নিজস্ব কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে, যার মাধ্যমে কান পরিষ্কার হয়৷ তাই কোনো কারণে কানে কোনো সমস্যা হলেও কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করার কোনো প্রয়োজন নেই৷
কটন বাড ব্যবহারে কী সমস্যা হতে পারে?
 যাঁরা কটন বাডের মাধ্যমে কান পরিষ্কার করে থাকেন, তাঁদের প্রাকৃতিকভাবে কান পরিষ্কার হওয়ার পদ্ধতিটি বাধাগ্রস্ত হয়৷
 কয়েক দিন আগে খুলে রাখা প্যাকেট থেকে কটন বাড বের করে নিয়ে ব্যবহার করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ৷ আমাদের দেশে আর্দ্রতার প্রভাবে প্যাকেট খুলে রাখা কটন বাডে ছত্রাক জন্মায়, সেটি কানে ব্যবহার করলে কানে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে৷
 কান পরিষ্কার করার সময় কোনো কারণে হঠাৎ চমকে উঠলে অসতর্কতাবশত কানে কটন বাডের আঘাত লাগতে পারে৷
 কটন বাড দিয়ে কান অহেতুক খোঁচাখুঁচির ফলে কানে আঘাত লাগতে পারে নিজের অজান্তেই, এমনকি ছিঁড়ে যেতে পারে কানের পর্দাও৷
 যদি কানের কোনো অসুখের কারণে কান চুলকায়, তাহলে কটন বাড ব্যবহারের কারণে অসুখের মাত্রা বেড়েও যেতে পারে৷

কখন কান পরিষ্কার করবেন?

শিশুদের ক্ষেত্রে ১৫ দিন বা এক মাস পর পর কানে জলপাই তেল দেওয়া যেতে পারে৷ তবে শিশুর কান পাকার সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে৷ বড়দের কানে ময়লা জমার তেমন কোনো কারণ নেই৷ তবে বারবার কানে বেশি বেশি ময়লা জমলে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন৷
জলপাই তেল ব্যবহারের নিয়ম
 প্রতি কানে ৮-১০ ফোঁটা জলপাই তেল দিতে হবে৷
 কানে তেল দেওয়ার পরে সেটি ফেরত আসার পর বাইরে থেকে তুলা দিয়ে মুছে দিতে হবে৷
 একই সঙ্গে দুই কানে জলপাই তেল দিলেও কোনো সমস্যা নেই৷
গ্রন্থনা: রাফিয়া আলম

বিজ্ঞাপন
প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন