বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: করোনার পর থেকে আমার ভাবনার জগৎ এলোমেলো। মা-বাবাকে নিয়েও ভেবেছি। খুবই স্বার্থপর চিন্তাভাবনা মাথায় আসে। মনে হয়, কেন আমি তাঁদের ভালোবাসব। আমি বেঁচে থাকলেই তো হলো। বিদেশে গিয়ে নিজের মতো করে সুন্দর জীবন যাপন করব। বিয়ের বন্ধনে জড়াতেও ইচ্ছা করে না। আবার মাঝেমধ্যে মনে হয়, শরীরেরও তো চাহিদা থাকে। আসলে আমি হঠাৎ করে নিজেকে গুটিয়ে ফেলেছি। কারও সঙ্গে মিশতে ভালো লাগে না। আগে অনেক আড্ডা দিতাম। এমন নয় যে প্রেমে ব্যর্থ হয়েছি বা বড় দুঃখ পেয়েছি। এমনিতেই মনে হয়, এসব করে কী লাভ। আমার কি চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত? নাকি অলস বসে থেকে এসব ভাবছি?

মিরাজুল ইসলাম, ফুলতলা, খুলনা

উত্তর: কোভিডের এই সময়ে অনেকেই একধরনের বিষণ্নতায় ভুগছেন। কত মানুষ চলে গেলেন। মৃত্যু জীবনের যাত্রার শেষ ঠিকানা। মন মানতে না চাইলেও আমরা মৃত্যুকে মেনে নিই। কিন্তু এই অতিমারি মানুষকে খুব অস্বাভাবিক অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। মৃত্যুর মিছিল যেন শেষ হয় না। আমি আশ্চর্য নই যে প্রত্যেকটা মানুষ নিজেই একরকম অস্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। সেই অস্বাভাবিকতা প্রকাশ পাচ্ছে বিষণ্নতায়। আপনার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

আজকাল মোবাইল অ্যাপেও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাসির উল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিটসহ সরকারি–বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায়।

প্রশ্ন. স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার কয়েক মাস পর এক মেয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়। তিন মাস পর আমাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। কারণ, মেয়েটির নতুন এক সম্পর্ক। প্রাথমিকভাবে কিছুদিন মেনে নিতে কষ্ট হলেও একসময় মন স্বাভাবিক হয়ে যায়। এখন তৃতীয় বর্ষে পড়ছি। আমাদের এখন একই সঙ্গে কোচিং করতে হচ্ছে, ক্লাসও করতে হচ্ছে। তাই নিয়মিতই তাকে দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু অন্য ছেলের সঙ্গে। যতই দিন যাচ্ছে, ব্যাপারটা কেন যেন মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। মাঝখানের দুই বছর খুব বেশি সমস্যা হয়নি, কিন্তু এখন হচ্ছে। আমার কী করা উচিত?

ইরান নায়ের

উত্তর: বলে না ‘আউট অব সাইট, আউট অব মাইন্ড’। এই করোনাকাল তোমাকে নিস্তার দিয়েছিল। স্বাভাবিক সময় ফিরে আসছে, কোচিংয়ে যাচ্ছ। যে মেয়ের সঙ্গে তোমার সম্পর্ক চুকে গেছে, তাকে আবার দেখতে হচ্ছে, তা–ও আবার তার বর্তমান প্রেমিকের সঙ্গে!

কিন্তু তুমি কি এত সহজে কাবু হয়ে পড়বে? সময় নাও, এই কষ্টও তুমি জয় করতে পারবে। সামনে তোমার জীবনজয়ের যুদ্ধ। বি স্ট্রং। হয়তো সেই মেয়ে তোমার জন্য নয়, সে রকম ভেবে সামনে এগিয়ে যাও। নতুন ভোরের দিকে দৃষ্টি রেখে পথ চলো। অনেক শুভকামনা।

পাঠকের প্রশ্ন, বিশেষজ্ঞের উত্তর

পাঠকের প্রশ্ন পাঠানো যাবে ই–মেইলে, ডাকে এবং প্র অধুনার ফেসবুক পেজের ইনবক্সে। ই–মেইল ঠিকানা: [email protected]

(সাবজেক্ট হিসেবে লিখুন ‘পাঠকের প্রশ্ন’)

ডাক ঠিকানা: প্র অধুনা, প্রথম আলো, প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবন, ২০–২১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫। (খামের ওপর লিখুন ‘পাঠকের প্রশ্ন’)

ফেসবুক পেজ: fb.com/Adhuna.PA

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন