default-image
বিজ্ঞাপন

যুব প্রতিনিধি

মোনালিসা মৌ, রোজলিন জাহান প্রভা, সদেব চন্দ্র নাগ, আল ইমরান ইমু, জিনাত আমীন, নাবিলা আহসান, ফওজিয়া নুজহাত, মুশফিকা রহমান নিঝুম, খাদিজা আহসান, তাসনিম সাবাবা নূর, সাফা জেরিন সুকন্যা, জাহিন যাঈমাহ্ কবির, ফাইজা বিনতে মোজাম্মেল, আব্দুল্লাহ-আল-মুয়াজ, সরদার আকিব লতিফএশনা বিনতে আলী

বিশেষজ্ঞ আলোচক

  • মাহ্ফুজা লিজা, বিপিএম: অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার, ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস ডিভিশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

  • লাফিফা জামাল: প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজি, অধ্যাপক, রোবটিকস ও মেকাট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

  • মেখলা সরকার: সহযোগী অধ্যাপক (সাইকিয়াট্রি), জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা।

  • তানিয়া হক: অধ্যাপক, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

  • অরলা মার্ফি: কান্ট্রি ডিরেক্টর, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

  • শাবনাজ জাহেরীন: শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ

  • সাদাত রহমান: প্রতিষ্ঠাতা, সাইবার টিনস; আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী।

  • আনিসুল হক: সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো

  • সূচনা বক্তব্য: কাশফিয়া ফিরোজ: পরিচালক, গার্লস রাইটস, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

  • ধন্যবাদ জ্ঞাপন: ফিরোজ চৌধুরী: সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো

  • সঞ্চালনা: সামিয়া শারমিন বিভা, প্রদায়ক, কিশোর আলো

বিজ্ঞাপন
default-image

সামিয়া শারমিন: যুব সংলাপ অনুষ্ঠানে সবাইকে স্বাগত জানাই। কিশোর ও যুব প্রতিনিধিরা প্রশ্ন করবে, আর সংশ্লিষ্ট অতিথিরা সেসব প্রশ্নের উত্তর দেবেন—এভাবেই আমাদের অনুষ্ঠান এগিয়ে চলবে।

প্রশ্ন: অনলাইনে আমরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হই। এ থেকে উত্তরণের উপায় কী?

তানিয়া হক: বিশ্বায়নের যুগে আমরা এখন েনটিজেন। আমাদের নিজেদের জন্যই তথ্য ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাড়াতে হবে। আমাদের সবচেয়ে বড় ঘাটতি তথ্যে। তথ্যের ঘাটতি দূর করতে গবেষণা খাতে আমাদের বাজেট বরাদ্দ বাড়ােত হবে। অনেকেই মনে করেন, জেন্ডার মানে শুধু নারীর সমস্যা। এটা ভুল। জেন্ডার মানে নারী-পুরুষ উভয়ই। সুতরাং পরিবার, স্কুল, রাষ্ট্র ও গণমাধ্যম—প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। এ দায়িত্বের জায়গা থেকে সরে দাঁড়াল চলবে না। পাশাপাশি নিজেকেও দায়িত্বশীল হতে হবে।

কোনো সংকট যদি এড়িয়ে যাই, তাহলে তো আমরা হেরে গেলাম। প্রযুক্তিকে কীভাবে ঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, সেখানে মনোনিবেশ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম আলো ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এগিয়ে এসেছে। এভাবে অন্যদরও এগিয়ে আসতে হবে। ডিজিটাল জ্ঞানের ওপর জোর দিতে হবে। পাঠ্যক্রমে ডিজিটাল নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।

প্রশ্ন: ইন্টারনেটে অনেক সময় ১৮‍+ বয়সের উপযোগী বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। এসব বিজ্ঞাপন এড়িয়ে যাওয়ারও সুযোগ থাকে না। এ ধরনের বিজ্ঞাপন নিয়ে আপনারা কী ভাবছেন?

লাফিফা জামাল: অনেক সমস্যার সমাধান গুগল দিতে পারে। শিশুর জন্য জিমেইল অ্যাকাউন্ট খোলার সময় তার বয়স ১৩ বছরের কম দেওয়া হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইউটিউবে শিশুর জন্য অনভিপ্রেত কোনো কিছু আসবে না। গুগলে কিছু খোঁজার সময় শিশুর অনুপযুক্ত কোনো কিছু থাকলেও সেটা আসবে না। আমরা সবাই এ বিষয়গুলো জানি না। চিলড্রেন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে অভিভাবকের একটা যোগ থাকে। ফলে আমার সন্তান কী করছে তা আমি বাসায় বসেই জানতে পারছি। ক্রোম ব্রাউজার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ফিল্টার ব্যবহার করতে পারি। প্রচুর পরিমাণ ‘সফটওয়্যার ও ব্রাউজার প্লাগ-ইন’ আছে, সেগুলোকে আমরা তৃতীয় পক্ষের (থার্ড পার্টি) সফটওয়্যার হিসেবে চিনি। যেগুলো ফিল্টারিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়। আমার নিজের বাসায় শিশুদের কম্পিউটার ব্যবহারে একটা ফিল্টারিং সফটওয়্যার দেওয়া আছে, সেখানে বয়স ঠিক করে দেওয়া আছে।

কিছুদিন আগে আমি একটা পরিসংখ্যান দেখেছি, ৭০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী কোনো না কোনোভাবে পর্নোগ্রাফিক কন্টেন্টের কাছে চলে আসে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় সেটা ইচ্ছাকৃত না। কিন্তু স্বাভাবিক কৌতূহলবশত যখন আমি একবার ক্লিক করি, তখন আস্তে আস্ত আগ্রহ বাড়তে থাকে। এ জায়গাটা যেন না আসে সেটাও খেয়াল করতে হবে। ইন্টারনেট মানেই খারাপ কিছু না—সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।

প্রশ্ন: অনেক শিক্ষিত তরুণও কিশোরী ও নারীদের উত্ত্যক্ত করে। খারাপ জেনেও এটা তারা কেন করে? আরেকটা প্রশ্ন, টিনএজারদের যৌনতার প্রতি আগ্রহকে কীভােব দেখা উচিত?

মেখলা সরকার: শিক্ষিত-অশিক্ষিত আসলে বিশাল একটা ব্যাপার। আমাদের পড়ালেখা শিক্ষার একটা অংশ হয়তোবা পূরণ করে। কিন্তু প্রকৃত শিক্ষিত যখন বলি তখন এই বিশাল শিক্ষার মধ্যে সামাজিক দক্ষতা, জীবনকে কীভাবে দেখব, সম্পর্কগুলো কীভাবে পরিচালনা করব—সেসব ব্যাপার আছে।

অনেক সময় শিক্ষকদের নিয়েও নানা রকম নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়। অনেকে বুঝতেই পারছে না যে এটা একটা নেতিবাচক মন্তব্য। তার মানে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় একটা বিশাল ফাঁক রয়েছে। আমরা একজন আরেকজনকে মানসিকভাবে কষ্ট দিচ্ছি, অসম্মান করছি, সেটা চিহ্নিত করতেই শিখছি না। নিজেকে ছোট করে দেখলে আরেকজনকে সম্মান দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই আমরা নানাভাবে তুলনা করছি, ছোট করছি। ফলে একটা শিশুর মনে হচ্ছে আমি একটা সমস্যার ডিপো। এক্ষেত্রে পরিবারের দায়িত্বের জায়গা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিশোধপরায়ণ না হয়ে উপেক্ষা করতে জানলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজ হয়। অনেক সময় প্রথাগত শিক্ষা পায়নি এমন কেউ এ জায়গাগুলোয় চমৎকার উন্নতি করতে পারে।

দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাবে বলব, যৌনতার প্রতি আগ্রহ মানুষের সহজাত আকর্ষণ। এটা নেতিবাচক কিছু নয়। অবশ্যই যৌনতা সম্পর্কে জানতে হবে। শিশু-কিশোরেরা যখন এটা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে, তখন এ আগ্রহ যে নেতিবাচক কিছু নয়, তা বোঝাতে হবে। অনেক সময় অভিভাবকেরা কটু কথা বলেন। বুঝতে হবে, কিশোর–কিশোরীর কৌতূহলটা পবিত্র। প্রথমেই এ সম্পর্কে নিষিদ্ধ তকমা লাগিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এতে আগ্রহটা আরও বাড়তে পারে। শিশুদের বুঝিয়ে বলতে হবে যে যৌনবিষয়ক কন্টেন্ট তোমার জন্য উপযুক্ত নয়। তুমি যখন বড় হবে, তখন এটা দেখতে পারবে।

প্রশ্ন: আইনি জটিলতা নিরসনে ও অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কী কী কাজ করছে?

মাহ্ফুজা লিজা: প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন সহিংসতা এখন বেশি হচ্ছে। ফেসবুক হ্যাক হওয়ার একটি বড় কারণ হলো ঠিকমতো লগআউট না করা। সহজে অনুমান করা যায়, এমন পাসওয়ার্ড নিরাপদ নয়। এ জন্য সংখ্যা, চিহ্ন, শব্দ ব্যবহার করে জটিল পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে। একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করবেন না। পাসওয়ার্ড হলো টুথব্রাশের মতো। সবচেয়ে ভালো টুথব্রাশটি আমরা বেছে নিই। সেটি কারও সঙ্গে শেয়ার করি না এবং তিন মাস পরপর আমরা তা পরিবর্তন করি। অবশ্যই দুই স্তরের নিরাপত্তা (টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) চালু রাখা দরকার।

পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অধীনে ‘সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। যেখানে সব সেবাদাতাই নারী। তবে আমি বলব, পুলিশের কাছে এসে সাহায্য নেওয়ার চেয়ে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিজেকে নিরাপদ রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তোমাদের বলব, অনলাইনে কাউকেই বিশ্বাস কোরো না। বাস্তব জীবনে বিশ্বাস কোরো। এ ছাড়া কোনো অবস্থাতেই কোনো ট্রায়ালরুমে জামা পরিবর্তন করা যাবে না। প্রয়োজনে ঠিকমতো হয় এমন অন্য একটি জামা নিয়ে শপিংয়ে যেতে হবে। ফোন ও ল্যাপটপসহ সব ব্যক্তিগত ডিভাইস সুরক্ষিত রাখতে হবে, কারও প্রলুব্ধকারী কথা বা কোনো আকর্ষণীয় সুবিধা প্রদানের প্রস্তাবের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।

কোনো পাবলিক গ্রুপে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত কাউকে বন্ধু বানানো যাবে না। আমরা কেন অভিযোগ করি না? কারণ, সাইবার অপরাধের শিকার হলেও ২৫ শতাংশ মনে করে, অভিযোগ করে কোনো লাভ হবে না। কোথায় অভিযোগ করতে হবে, অনেকেই তা ঠিকমতো জানেন না। আবার আরও বেশি হয়রানির ভয়ে অনেকে অভিযোগ করেন না। ১৭ শতাংশ সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ হবে ভেবে অভিযোগ করেন না। প্রভাবশালী অপরাধীর ভয়ে অভিযোগ করেন না ৫ শতাংশ। আমি সবাইকে অভিযোগ করতে উৎসাহিত করব। কেননা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরবর্তীসময়ে আরও অনেক কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী আক্রান্ত হবে।

অনলাইন অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে হ্যালো সিটি (Hello CT) অ্যাপ ও রিপোর্ট টু র‌্যাব (Report 2 RAB) অ্যাপ আছে। কোনো কিছু মনে না থাকলে ৯৯৯–এ কল করুন। সিআইডির অত্যাধুনিক দুটি ফরেনসিক ল্যাব আছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় এখনো অপ্রতুল। এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আমরা চেষ্টা করছি যেন সারা দেশে ৬৪টি সাইবার পুলিশ স্টেশন স্থাপন করা যায়।

প্রশ্ন: অনেকেই অনলাইনে নিরাপদ থাকার বিষয়গুলো জানে না। কিন্তু অনলাইন ক্লাসে তাকে যুক্ত হতে হচ্ছে। শিশুদের কীভাবে সচেতন করা যেতে পারে?

সাদাত রহমান: ঢাকার শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে অনেক সচেতন। পরিবারগুলোও শিক্ষিত। প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিষয়টা একেবারেই আলাদা। স্থানীয় থানায় সাইবার বিষয়ে অভিজ্ঞ লোক কম। সে জন্য নড়াইল জেলার পুলিশ প্রধানের সহায়তায় আমরা একটা অ্যাপ তৈরি করি। ১৩ থেকে ১৯ বছরের কিশোর-কিশোরীর জন্য আমরা ‘সাইবার টিনস’ অ্যাপটি তৈরি করি। অভিযোগ আসলে শুধু অপরাধী চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না, ভুক্তভোগীর মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখন সাইবার টিনস অ্যাপটি ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে দিতে চাই। সে জন্য আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রতিটি স্কুলে-কলেজে একটি করে সাইবার ক্লাব করার চেষ্টা করছি।

প্রশ্ন: এখন অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। বিভিন্ন অনলাইন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছি। ছোটরা কি অনলাইনে নিরাপদ?

আনিসুল হক: কিছুদিন আগে আমি একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির হেডকোয়ার্টারে গিয়েছিলাম। সেখানে আট-দশ বছরের এক বালিকা হাত তুলল এবং বলল ‘আপনারা যে ছোটদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেটের কথা বলছেন। আপনাদের জন্য কি নিরাপদ ইন্টারনেট?’ এ প্রশ্নের উত্তরে সবাই বলেছি, ‘না, আমরা ইন্টারনেটে নিরাপদ নই।’ সহিংসতার শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে নারী ও শিশুরা একটু বেশি ভঙ্গুর। সে ক্ষেত্রে শিশু, কিশোর, কিশোরী ও নারীদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেটের ব্যাপারটা সামনে আনা খুব জরুরি।

করোনাকালে আমরা একটা নতুন বাস্তবতায় এসেছি। পুরো একটা বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া উচিত। কারণ অনলাইনে লেখাপড়া বৈষম্যযুক্ত সমাজের বৈষম্য আরও প্রকট করছে। বাংলাদেশে চার কোটি ছেলেমেয়ে স্কুল-কলেজে যায়। অনলাইনের সুবিধা হলো, এ বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য অনলাইন একটা বড় সুযোগ দিয়েছে। তবু বৈষম্য তো আছেই। এখন অনলাইনে ক্লাস বা কিশোর আলোর কার্যক্রমে ঢুকতে যদি কেউ হয়রানির শিকার হয়, তাহলে কী হবে। ইউটিউব শিশুদের জন্য কিডস ইউটিউব খুলেছে। শিশুদের মোবাইল দিলে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষার পদক্ষেপ নিতে হবে। তোমরা এমন কথা লিখো না, এমন ছবি দিয়ো না, যা তোমার মা–বাবার সঙ্গে শেয়ার করতে পারবে না।

প্রশ্ন: ইন্টারনেট কি আমাদের জন্য ঝুকিপূর্ণ হয়েই থাকবে?

শাবনাজ জাহেরীন: ইন্টারনেটে ৯৯ শতাংশ বিষয় ইতিবাচক। মাত্র ১ শতাংশ খারাপ। ইন্টারনেট এখন আমাদের জীবনের অংশ। এটা আমরা কোনোভাবে বন্ধ করতে পারব না। আমাদের অসচেতনতার জন্য আমরা এটার শিকার হচ্ছি। শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেটের পাশাপাশি অন্যান্য সহিংসতা থেকে কীভাবে সুরক্ষিত থাকা যাবে, তা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে ইউনিসেফ থেকে জোর দাবি ছিল। সরকার এখন পাঠ্যক্রমে ইন্টারনেট সুরক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে শিশুদের জন্য হেল্পলাইন নম্বর ১০৯৮ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশেই এটি শিশুদের জন্য হেল্পলাইন নম্বর। এখানে মনোসামাজিক সহায়তাসহ আইনি সহায়তা পাওয়া যাবে। আমরা মা-বাবাকে সচেতন করতে কাজ করছি। শিক্ষকদেরও এ ব্যাপারে সচেতন করতে হবে।

প্রশ্ন: প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের কী ধরনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং সেগুলো কি নারী ও শিশুদের ওপর জোর দিচ্ছে? ভবিষ্যতে আপনারা কী কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন?

অরলা মার্ফি: সাইবার নিরাপত্তা ও অনলাইন সুরক্ষার লক্ষ্য আমরা একা অর্জন করতে পারব না। সে জন্য সবার একসঙ্গে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। বড় টেক কোম্পানিগুলোকেও এ বিষয়ে দায়িত্ব নিতে হবে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজ করে সেটি কোনো প্রকল্প নয়। এটা হলো মূলত তরুণদের একসঙ্গে নিয়ে আসা। বাংলাদেশের একটি বিরাট অংশ তরুণ। তারা যেমনভাবে চায় ঠিক তেমনভাবেই দেশকে গড়ে তুলতে হবে। ১৯৯৩ সালে আমি প্রথম ঢাকায় এসেছিলাম। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। আশা করি, এ গতিতেই তা পরিবর্তিত হতে থাকবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আমরা শিক্ষা, সামাজিকীরণ, কেনাকাটাসহ অনেক কিছু করি। তা যদি সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক না হয়, তাহলে আমরা অনেক সুযোগ হারাব। এ জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সামিয়া শারমিন: আজকের যুব সংলাপে অংশ নেওয়ার জন্য যুব প্রতিনিধি ও সম্মানিত অতিথিদের অনেক অনেক ধন্যবাদ।

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন