বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কেবল ওজন নয়, এতে বোঝা যাবে স্বাস্থ্যের পুরো অবস্থা। যেভাবে মাপ নেবেন, এবার সেটাই বুঝিয়ে দিই।

১. নিতে হবে গজফিতার একটি টেপ। শ্বাস স্বাভাবিক রাখুন, শিথিল হোন।

২. হিপ বোনের ঠিক ওপরটা বের করার জন্য কোমরে হাত দিয়ে পেট একটু ভেতরে নিন, অনুভব করবেন সেই হাড়ের ওপরের অংশ।

৩. হিপ বোনের দুই ইঞ্চি ওপরে নাভি বরাবর টেপ পেঁচিয়ে মাপুন।

৪. এবার নিতম্বের সবচেয়ে প্রশস্ত অংশের চারধারে টেপ পেঁচিয়ে মাপ নিন।

৫. কোমরের বেড়কে নিতম্বের মাপ দিয়ে ভাগ করলে পাবেন এর অনুপাত।

ভাবছেন এবার কী হবে? এ তথ্য কী কাজে লাগবে? পুরুষের ক্ষেত্রে কোমর ও নিতম্বের অনুপাত যদি ০.৯৬ বা তার বেশি হয়, তাহলে মাঝারি থেকে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং নারীদের ক্ষেত্রে ০.৮১ বা তার বেশি হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে।

তবে এ নিয়ে শঙ্কার কারণ নেই। একে কমানোর চেষ্টা করতে হবে। এতে কমবে স্বাস্থ্যঝুঁকি। রাতারাতি যেকোনো জাদুবলে ওজন কমবে, সেটাও ভাববেন না। বেশি ক্যালরির খাবার না খাওয়ার অভ্যাস করুন। আর যেটুকু খাবেন, সেটা পুড়িয়ে ফেলার জন্য ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম আর খাবার—এ দুটি নিয়ন্ত্রণ করেই আপনি কমিয়ে ফেলতে পারবেন আপনার স্বাস্থ্যঝুঁকি।

ব্যায়াম

খুব ভালো ব্যায়াম হলো হাঁটা। জোরে হাঁটুন, যাতে হৃৎস্পন্দন হয় দ্রুত আর শ্বাসপ্রশ্বাস বাড়ে। দোকানপাট, হাটবাজার—সবখানে হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করুন। বেশি হাঁটাচলায় গাড়ি চড়তে হবে কম।

পেটের চর্বি কমাতে পেটে চাপ পড়ে, এমন ব্যায়াম করুন। প্রচলিত বুকডন ফলপ্রসূ। নারীদের জন্য একটি ভালো ব্যায়াম হচ্ছে বিছানায় শুয়ে দুই পা একসঙ্গে ১০-১৫ বার ওঠাবেন–নামাবেন। নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করুন। গৃহস্থালির কাজ করুন। গৃহকর্মীকে দিয়ে সব কাজ করানো আর নিজে সোফায় বসে টিভি দেখলে তলপেটে ঘন চর্বি জমবেই।

খাবার

এক দিন করে আপনার একটি প্রিয় খাবার যাতে বেশি ক্যালরি আছে, সেটা খাবারতালিকা থেকে বাদ দিন। যেমন ক্যালরিযুক্ত কোমল পানীয়র বদলে গ্রিন টি, আদা চা পানের অভ্যাস করতে পারেন।

চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন। চর্বি আছে মগজ, ডিমের কুসুম, কলিজা, গরু বা খাসির মাংস, মুরগির চামড়া, ফাস্ট ফুড, হোল মিল্ক, ঘি, পনির থেকে বিরত থাকুন।

শর্করা খাবারও কম খান। অতিরিক্ত শর্করা গ্রহণে সাবধান হবেন। মিষ্টিজাতীয় খাবার না খেলে ভালো হয়। ভাত, রুটিও কম খাবেন এবং কেক-বিস্কুট—এসব একদম নয়।

এর বদলে ছোট কচি মুরগি, ছোট মাছ, ফল, সবজি খাওয়ার অভ্যাস করুন। তেষ্টা পেলে কোমল পানীয়র বদলে শুধু পানি। মনে রাখবেন, কোমল পানীয়তে কখনোই পিপাসা নিবৃত্তি হয় না, বরং বাড়ে।

ছেড়ে দিন মদ্যপান আর ধূমপানের অভ্যাস। পেটের চর্বি কমে ধীরে। অনেকে অধৈর্য হয়ে জিমে গিয়ে কিছুদিন লম্ফ–ঝম্প বা ডায়েট করেন। এতে ওজন কমে, তবে একসময় আবার ফিরে আসে। তাই ধৈর্য থাকা চাই, তলপেটের ওজন কমাতে চাই সাধনা। চিকন কোমর সুন্দর যেমন, তেমনি স্বাস্থ্যনির্দেশক।

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন