default-image
বিজ্ঞাপন

যোগাযোগের সহজলভ্যতার এই যুগে মনের কথা খুলে বলা কোনো ঘটনাই না। তারপরও প্রেমের কথা বলতে গিয়ে বুকটা করে দুরু দুরু। আর তাই নিজের মনের কথা তাঁর কাছে পৌঁছে দিতে কাছের বন্ধু হয়ে ওঠেন বার্তাবাহক। প্রেমের ক্ষেত্রে এমন বন্ধুদের ‘ঘটক’ হিসেবেও বলা হয়। দিন যায়, সপ্তাহ গড়ায়, এরপর একদিন দেখলেন সেই কাছের বন্ধুই আপনার স্বপ্নের নায়িকার হাত ধরে বসে আছেন। হৃদয়টা তখন যেন কাচের আয়নার মতো ঝপাৎ করে গুঁড়ো গুঁড়ো হতে শুরু করে। নিজেকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, ‘আমার বন্ধু হয়ে তুই এই কাজ করতে পারলি!’

বন্ধু বা বান্ধবীর প্রেমের ঘটকালি করতে গিয়ে নিজেই পাত্র সেজে বসা থেমে নেই এখনো। বন্ধুদের তালিকা যাচাই করুন, দু-চারটে নাম আপনার তালিকাতেও পেয়ে যাবেন।

বুকটা করে দুরু দুরু

মেয়েরা সাধারণত মুখ ফুটে মনের কথা বলতে চান না। তাই প্রেমের ক্ষেত্রে ছেলেদেরই এগিয়ে আসতে দেখা যায় শুরুতে। তবে অনেক ছেলেও নিজের পছন্দের কথা ঠিকমতো বলে উঠতে পারেন না। বিশেষ করে তিনি যাঁর প্রেমে পড়েছেন, তাঁর সঙ্গে যদি ছেলেটির সম্পর্ক বন্ধুর মতো হয়, তাহলে তিনি কী মনে করবেন, এই ভাবনায় নিজে বলতে সংকোচে পড়ে যান। আর এই সংকোচের সংকট কাটিয়ে উঠতে তিনি কাছের কোনো বন্ধুর দ্বারস্থ হন। সেই সময়েই ঘটে বিপত্তি। বন্ধুটি হয়তো শুরুতে ঘটকালি করতেই গিয়েছিলেন, কিন্তু ভালোবাসা তো আর বলে–কয়ে আসে না। হয়তো বন্ধুর কথা বলার আগেই নিজে বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে, ঝোপ বুঝে কোপ মেরে নিজের নামটি বসিয়ে দিলেন বন্ধুর জায়গায়। অতঃপর তাহারা সুখে প্রেম করিতে লাগিলেন...।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন মনে করেন, প্রথমত প্রেমের ক্ষেত্রে নিজের কাজটুকু নিজেরই করা ভালো। সম্পর্কের শুরুতেই যদি আপনি তৃতীয় পক্ষকে যুক্ত করেন, তাহলে সেখানে একটা সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। যেকোনো প্রেমে একটা বায়োকেমিক্যাল রি-অ্যাকশন থাকে। তাই একবার সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেলে আটকানো কঠিন।

শ্যাম রাখি না কুল রাখি

দুজনের মধ্যে প্রেম যখন হয়েই যায়, তখন আরেক সমস্যা সামনে এসে দাঁড়ায়। বন্ধুকে কী বলবেন? একদিকে নতুন প্রেম, অন্যদিকে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। এ যেন ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ অবস্থা। সুলতানা আলগিন বলেন, ‘এবার সিদ্ধান্ত আপনারই নিতে হবে। বন্ধুকে জানাবেন কি না। আপনার বন্ধুর মানসিকতা আপনার নিশ্চই জানা আছে। যদি মনে হয় তিনি আপনাকে হিংসা করবেন না, তাহলে বিষয়টি বন্ধুকে জানাতে পারেন, এতে আপনাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় থাকবে। কিন্তু বন্ধু যদি হিংসাত্মক মনোভাবসম্পন্ন হয়ে থাকেন, আপনাকে অবিশ্বাস করেন, তাহলে তাঁর কাছে ব্যাখা না দেওয়াটাই ভালো। আপনি বরং আপনার মতো করে এগিয়ে যান।’

ভালোবাসা সম্পূর্ণ দুটি মনের মিলন। এটা কখনো জাত–কুল হিসাব করে ঠিক হয় না। একজন দেখতে সাধারণ মানুষেরও কোনো একটি বিশেষ গুণের কারণে কেউ তাঁকে ভালোবাসতে পারেন। তাঁর মধ্যে হয়তো এমন একটি ‘অ্যাট্রাকশন’ অপর পক্ষ পেয়েছেন, যা দেখে তিনি তাঁর প্রেমে পড়েছেন। তাই প্রেমের ক্ষেত্রে নিজের পদক্ষেপ নিজেকেই নিতে হয়। এতে প্রেমে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে মনে করেন মনোবিদেরা।

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন