default-image

সারাক্ষণ হাসি লেগে থাকে মুখে৷ হাসিমুখেই সাফল্যের কথা বললেন তিনি৷ পেছনে তাকানোর সময় কই তাঁর? এখন তো সামনে চলার সময়৷ জীবনের সব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মনিকা হালদার জানালেন নিজের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প৷
২০০১ সালে মনিকার জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে৷ এসএসসির লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে৷ অকস্মাৎ দুর্বৃত্তের ছুড়ে দেওয়া অ্যাসিডে ঝলসে যায় তাঁর শরীর৷ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন৷ ঘুরে যায় জীবনের বাঁক৷ শুরু হয় তাঁর বাধা অতিক্রম করার কঠিন সংগ্রাম৷
মনিকা হালদার বলেন, ‘ওই সময় মনে হয়েছিল, জীবন এখানেই শেষ৷ আমার পক্ষেও আর কিছু করা সম্ভব নয়৷ আমাকে নিয়ে বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন সবাই বিপাকে পড়ে যান৷ এ সময় আর্থিক ও মানসিকভাবে পাশে দাঁড়ায় প্রথম আলো ও অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন৷ সার্বক্ষণিকভাবে পাশে থেকে বাধা অতিক্রমে মানসিকভাবে সহযোগিতা দিয়েছেন উত্তম কুমার কর্মকার৷ এখন তিনি আমার জীবনসঙ্গী৷’ এই সময়ে দাঁড়িয়ে মনিকার কাছে পেছনের ওই সব ঘটনা কেবল একটা দুঃস্বপ্ন৷ ওই দুঃস্বপ্নই তাঁকে যেন সামনের দিকে হাঁটতে শিখিয়েছে৷
মনিকা হালদার এখন ব্র্যাক ব্যাংকের বরিশাল শাখায় ক্যাশ অ্যান্ড ক্লায়েন্ট বিভাগে কাজ করছেন৷ লেখাপড়ার পাশাপাশি ভালো গানও গান তিনি৷ বাবা সুকুমার হালদার গানের মানুষ৷ তাঁর কােছই শিশু বয়সে গানে হাতেখড়ি৷ বাবা পিল্লগীতি ও অন্যান্য গান করলেও মনিকার ঝোঁক ছিল রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি৷ ১৯৯৭ সালে সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হিসেবে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে বিভাগীয় পর্যায়ে রবীন্দ্রসংগীতে সেরা হন মনিকা৷ ২০০৩ সালে ঢাকায় ইডেন কলেজে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ভর্তি হন৷ তখন রবীন্দ্রসংগীতে তালিম নেওয়ার জন্য ভর্তি হন ছায়ানটে৷ ২০১০ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পরপরই যোগ দেন ব্র্যাক ব্যাংক বরিশাল শাখায়৷ এখানে সহকর্মীরা তাঁকে অনেক সাহায্য করেন৷ স্বামী ও দুই সন্তানও তাঁকে সব সময় সহযোগিতা করে৷ তাদের ঘিরেই এখন মনিকা স্বপ্ন দেখেন৷
মনিকা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন৷ এবার অন্যদের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি৷ নিজে যেভাবে সহযোগিতা পেয়েছেন, তেমনি অন্যদের সহযোগী হতে চান৷

বিজ্ঞাপন
প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন