বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উত্তর: তোমার বয়স এখন মাত্র ১৭ বছর এবং যখন সম্পর্ক হয়েছিল, তখন তোমার বয়স ছিল সাড়ে ১৫ বছর। অনলাইনে পরিচয়ের পরপরই খুব দ্রুত ভালবাসার সম্পর্ক তৈরি হলো। ছেলেটির বয়স কত, তা তুমি উল্লেখ করোনি। ওর অন্য একটি সম্পর্ক ছিল শুনে তুমি খুব দুঃখ পেয়েছ এবং হতাশা বোধ করছ। বোঝা যাচ্ছে, ছেলেটি নিজে থেকে তোমাকে ব্যাপারটি জানায়নি। অবশ্য আগের সম্পর্কের কথা যে তোমাকে জানাতেই হবে, সেটির কোনো বাধ্যবাধকতা তো নেই। সে বর্তমানে তোমার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কি না এবং পারস্পরিক বিশ্বাস আছে কি না, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে আগের সম্পর্কটি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে যে কেউ প্রতারিত বোধ করবে।

বর্তমানে যে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে, সেটি কি তুমিই করেছ, নাকি ছেলেটি বন্ধ করেছে, তা জানাওনি। তুমি যে কথাটি শুনেছ, তা ছেলেটিকে অবশ্যই বলতে পারো তাকে কোনো রকম দোষারোপ না করে। কারণ, মনের মধ্যে অশান্তি বা সন্দেহ রেখে চললে তোমার আরও বেশি কষ্ট হবে। তবে যে বড় ভুলটি তুমি করে ফেলেছ, তা হলো তোমার নগ্ন ছবি ওর সঙ্গে শেয়ার করা। আমার মনে হচ্ছে, তুমি খুব সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করে ফেলো। সে কি তোমার কাছে ছবি চেয়েছিল, নাকি তুমি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাকে পাঠিয়েছ?

তোমার চিঠির এই উত্তরের মাধ্যমে আমি সব মেয়েকে এ ব্যাপারে সতর্ক করতে চাই, কোনো অবস্থাতেই তারা যেন প্রেমের সম্পর্ক চলাকালে একান্ত ব্যক্তিগত কোনো তথ্য বা ছবি শেয়ার না করে। নিজেদের সম্মান রক্ষার্থে কিছু বিষয় গোপন রাখার অধিকার সবারই রয়েছে। ছেলেটি যদি অনুরোধ করেই থাকে, তাহলেও তাকে ভদ্রভাবে ও দৃঢ়তার সঙ্গে ‘না’ বলতে পারলে খুব ভালো হতো।

আমরা জানি, এ ধরনের ছবি ব্যবহার করে মেয়েদের হয়রানি ও ব্ল্যাকমেল করা হয়। দেখা যায়, যখন সম্পর্কের মধ্যে কোনো কারণে টানাপোড়েন হয়, তখন ছেলেটি ছবির কথা বলে মেয়েটিকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। কাজেই তুমি অবশ্যই পরিবারের বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে সময় থাকতেই বিষয়টি শেয়ার করো। তিনি হয়তো শোনার পর রাগ করতে পারেন, তবে তোমার নিরাপত্তা রক্ষার্থে সেটি করা প্রয়োজন। তা ছাড়া তুমি এখনো অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি মেয়ে এবং এ বয়সে ভুল করা খুব স্বাভাবিক। পরে ওই ছেলে যদি কোনো কারণে অসন্তুষ্ট হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছবিগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়, তাহলে পরিবারের সাহায্য ছাড়া তোমার একার পক্ষে সেটিকে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

যদি কারও আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও মানুষটির ক্ষতি করার জন্য জনসমক্ষে প্রচার করা হয়, তাহলে আইনের সহায়তা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সাইবার অপরাধের জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। ছেলেটির সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে কি না, সেটি তোমাকে খুব ভালোভাবে ভেবে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তুমি যে এখন যোগাযোগ বন্ধ রেখেছ, এতে তার প্রতিক্রিয়া কী হয়েছে, তা জানতে পারলে ভালো হতো।

তুমি ভেবে বের করার চেষ্টা করো, ওর সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে তুমি কতটা কষ্টে পাও এবং যোগাযোগ থাকলে তোমার কতটুকু কষ্ট হচ্ছিল বা হবে—এর পরিমাপ কত? তবে ব্যাপারটি তোমার একার পক্ষে করা একটু কঠিন। কারণ, তার কাছে তোমার স্পর্শকাতর ছবি রয়েছে। আমার অনুরোধ থাকবে, তোমার বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে পরামর্শ করে তারপর একটি সিদ্ধান্তে এসো।

পাঠকের প্রশ্ন, বিশেষজ্ঞের উত্তর

পাঠকের প্রশ্ন পাঠানো যাবে ই–মেইলে, ডাকে এবং প্র অধুনার ফেসবুক পেজের ইনবক্সে। ই–মেইল ঠিকানা: [email protected]

(সাবজেক্ট হিসেবে লিখুন ‘পাঠকের প্রশ্ন’)

ডাক ঠিকানা: প্র অধুনা, প্রথম আলো, প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবন, ২০–২১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫। (খামের ওপর লিখুন ‘পাঠকের প্রশ্ন’)

ফেসবুক পেজ: fb.com/Adhuna.PA

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন