বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রশ্ন: আমার বাবা–চাচা–ফুফুরা আট ভাইবোন। পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে বিরোধ আছে এবং একটি দামি জমি নিয়ে দুই চাচার মধ্যে রেষারেষি চলছে। মিথ্যা ঘটনা নিয়ে এই দুই চাচার একজন আরেক ভাই এবং আমার বাবার নামে থানায় একটি জিডি করেন। সেদিনই দুজন কর্মকর্তা এসে আমার বাবার সঙ্গে কথা বলে ঘটনা শোনেন এবং পারিবারিকভাবে বসার কথা বলে বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলে যান।

যেসব বিষয় পরিষ্কার হতে চাই—১. তিনি যা করেছেন, তা কি জিডি নাকি মামলা? জিডি আর মামলা কি এক? কখন জিডি মামলা হয়?

২. যিনি জিডি করেছেন, তিনি চান এটি থাকা অবস্থায় সম্পত্তি ভাগ হোক, যাতে তাঁর বিপক্ষে কিছু গেলে এটা দিয়ে আটকাতে পারেন। জিডি থাকা অবস্থায় সম্পত্তি বণ্টনের জন্য বসা কি ঠিক হবে? নাকি আমরাও জিডি করে রাখব?

৩. যদি এই জিডি এভাবে পড়ে থাকে, আমাদের কী অসুবিধা হতে পারে? আমার বাবা প্রবাসী, বিদেশে যেতে কি তাঁর কোনো সমস্যা হবে?

মাহবুব আলম, বরুড়া, কুমিল্লা

উত্তর: আপনার প্রশ্ন থেকে বোঝা যাচ্ছে, আপনার বাবা ও চাচাদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এই বিরোধের জের ধরে আপনার এক চাচা আপনার বাবা ও তাঁর আরেক ভাইয়ের নামে থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেছে। যদিও এটি জিডি না এজাহার, সেটা পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে না। আপনি জিডির বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি (যদি আপনাকে অবহিত করা হয়ে থাকে ইতিমধ্যে)।

আপনি জানিয়েছেন জিডি করার পর দুজন কর্মকর্তা এসে আপনার বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলে যান। পুলিশ যদি আপনাদের কাছে টাকা দাবি করে, সেটি বেআইনি। এ ধরনের অপরাধের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

এবার আপনার প্রশ্নের উত্তরে আসি। কেউ ভয় বা হুমকি প্রদান করলে, নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে, কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যেমন পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, চেকবই, লাইসেন্স, শিক্ষাসংক্রান্ত সনদ, দলিল ইত্যাদি হারিয়ে গেলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়ে থাকে। তা ছাড়া কোনো নাগরিক যখন নিজের কিংবা তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা করেন, সে ক্ষেত্রে তিনি থানায় গিয়ে জিডি করতে পারেন। ভবিষ্যতে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে আদালত এই জিডি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করবেন।

জিডি হলো সাধারণ ডায়েরি (জেনারেল ডায়েরি) বা কোনো বিষয়ে সাধারণ বিবরণ। যেকোনো আইনি সহায়তা নিতে জিডির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্ক যেকোনো ব্যক্তি থানায় এটি করতে পারবেন। অন্যদিকে এজাহার হচ্ছে মামলা করার প্রথম পদক্ষেপ। জিডি ও এফআইআর (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) বা এজাহার এক বিষয় নয়। জিডি হচ্ছে কোনো বিষয় সম্পর্কে থানায় অবহিত করা।

কোনো অপরাধ ঘটার পর সে বিষয়ে প্রতিকার পাওয়ার জন্য থানায় যে অভিযোগ জানানো হয়, তাকে এজাহার বলে। এজাহারের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্যাদি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত ফরমে তুলে এফআইআর আকারে লিপিবদ্ধ করেন এবং মামলার জন্য প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এজাহারের মাধ্যমে থানায় মামলা করা হয়। এজাহার মৌখিক ও লিখিত উভয় আকারেই হতে পারে।

পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল ১৯৪৩–এর ৩৭৭ প্রবিধান এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ এবং ১৫৫ ধারায় জিডি সম্পর্কে বলা হয়েছে। এজাহারের ক্ষেত্রে পিআরবি বা পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল ১৯৪৩–এর ২৪৩ প্রবিধান এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ অনুসরণ করা হয়। আপনি বারবার জিডির কথা উল্লেখ করেছেন। কাজেই আন্দাজ করছি এখনো কোনো মামলা হয়নি।

এবার আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে বলতে চাই, পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। এ ব্যাপারে জমিজমাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করেন, এমন কোনো আইনজীবীর পরামর্শ নিন। জিডি করার কারণে সেটা কারও পক্ষে বা বিপক্ষে যাওয়ার তেমন আশঙ্কা নেই, যদিও তা জিডির বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করছে।। কেন আপনার বাবার নামে জিডি করা হয়েছে, সেটা বিস্তারিত না জেনে কোনো পরামর্শ দেওয়া সম্ভব নয়। জিডিতে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সত্যতা না থাকলে আপনারা অবশ্যই পাল্টা জিডি করতে পারেন এবং তাঁদের অসৎ উদ্দেশ্য এবং ক্ষতিকর কার্যকলাপ সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করতে পারেন। জিডি করতে কোনো প্রকার টাকাপয়সা লাগে না। এমনকি কেউ যদি লিখতে না পারেন কিংবা নিয়মকানুন না জানেন, তবে থানায় গিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাকে বললে তিনিই জিডির আবেদন লিখে অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে শুধু স্বাক্ষর দিলেই চলবে।

আপনার শেষ প্রশ্নের উত্তর হলো শুধু জিডির কারণে আপনার বাবার বিদেশ যাওয়া বাধাগ্রস্ত হবে না। আপনার প্রশ্ন থেকে যতটুকু বুঝতে পেরেছি, ততটুকু পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করলাম। আপনি অবশ্যই সব কাগজপত্রসহ একজন আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করবেন। কাগজপত্র না দেখে সুনির্দিষ্ট কোনো পরামর্শ অনুমানের ভিত্তিতে দেওয়া সম্ভব নয়।

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন