বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

অযথা ঝক্কি নয়

রোগী হয়তো থাকেন খুলনার নিভৃত এক পল্লিতে, দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগের (যেমন কিডনির দীর্ঘমেয়াদি রোগ কিংবা ডায়াবেটিস) জন্য নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয় তাঁকে। এ রকম একজন ব্যক্তির করোনা সংক্রমণ হলে কিন্তু ঝুঁকিটা বেশি। এদিকে তাঁর চিকিৎসক রয়েছেন রাজধানীতে। তো রোগী বাড়ি থেকে বেরিয়ে আন্তজেলা গণপরিবহনের কোনটিতে করে ঢাকা পৌঁছবেন, হয়তো আত্মীয়পরিজনের বাড়িতে উঠবেন, এরপর চিকিৎসকের কাছে যাওয়া। পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে নিজের অজান্তেই করোনায় সংক্রমিত হতে পারেন তিনি। আর যাত্রাপথের ধকল বা খরচের বিবরণ না-ইবা দিলাম। কখনো হয়তো চলাচলেও থাকছে নিষেধাজ্ঞা। এ রকম একজন রোগীর জন্য টেলিমেডিসিন সেবা কিন্তু দারুণ এক সমাধান। এমনটাই বলছিলেন ডা. নওসাবাহ নূর। তাঁর কাছে সুদূর ইউরোপ থেকেও টেলিমেডিসিন সেবা নেন প্রবাসী রোগী। ইউরোপের চিকিৎসককে দেখানোর পরেও যাঁর মনে হয়, কেবল নিজের দেশের চিকিৎসককেই নিজের রোগের কথা মন খুলে বলতে পারা যায়, তাঁর জন্য টেলিমেডিসিন সেবা এক অভাবনীয় আশীর্বাদ বৈকি। যেকোনো স্থান থেকেই শারীরিক-মানসিক সমস্যার সমাধানে পরামর্শ নিতে পারেন এই সেবার মাধ্যমে। এ মাধ্যমে সেবা দিয়ে নিজেও সন্তুষ্ট ডা. নওসাবাহ। তবে রোগী যদি স্বচ্ছন্দ হন সামনাসামনি দেখানোতেই, সেটাকেও সম্মান করেন এই চিকিৎসক এবং সেভাবেই সেবা দিয়ে থাকেন।

করোনা রোগীর জন্য

অনেক করোনা রোগীই (মৃদু সংক্রমণ) ঘরে থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে যান। তবে নিজে নিজে চিকিৎসা করতে গেলে জটিলতার আশঙ্কা থাকে। আবার চিকিৎসকের চেম্বারে করোনা রোগীর নিয়মিত আসা-যাওয়া আরেক ঝক্কি—আশপাশের মানুষের জন্য সেটি ঝুঁকিপূর্ণ। টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে এত সব ঝক্কি এড়ানো যায় খুব সহজেই। সারা দেশের সব জায়গায় দ্রুততম সময়ে করোনা পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট পাবার সুযোগ হয়তো নেই, কিন্তু করোনার লক্ষণ দেখা দিলেই অতি দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যায় অনায়াসেই, যাতে করণীয় সম্পর্কে জানা সম্ভব। কখন হাসপাতালে যেতে হবে, তা-ও জেনে নেওয়া যায়।

তাই ঘরে থাকুন

রোগীর শারীরিক পরীক্ষা অবশ্যই চিকিৎসার একটি বড় অংশ। তবে রোগের ইতিহাস সঠিকভাবে বলা হলে চিকিৎসক তা থেকেই অনেক মূল্যবান তথ্য পেয়ে যান, সেই মতো কিছু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। সব মিলিয়ে রোগনির্ণয়টা হয়ে যায় টেলিমেডিসিনেই, অধিকাংশ ক্ষেত্রে। তাই যেমন লক্ষণই থাকুক না কেন, এই ক্রান্তিকালে প্রাথমিক পরামর্শ নিন ঘরে বসেই (জরুরি সমস্যা হলে কিংবা জটিলতা দেখা দিলে ভিন্ন কথা)। আবার কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে রয়েছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থাও। সুবিধামতো বেছে নিন সেবার মাধ্যম। আর যতটা সম্ভব, ঘরেই থাকুন।

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন