default-image

অধুনার গত সংখ্যায় ‘তরুণেরা কি আত্মকেন্দ্রিক?’ শিরোনামের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে পাঠকের মতামত আহ্বান করা হয়েছিল৷ বিপুল পরিমাণ পাঠক চিঠি ও ই-মেইলে আমাদের কাছে তাঁদের মতামত পাঠিয়েছেন৷ সেগুলো থেকে বাছাই করা কিছু মতামত আজ ছাপা হচ্ছে
আত্মকেিন্দ্রক হলে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ত না
আমি এই কথার সঙ্গে একমত নই৷ তরুণেরা যদি আত্মকেন্দ্রিকই হতেন, তাহলে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ত না৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে তাঁদের অবাধ বিচরণ৷ এখানে তাঁরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন৷ পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁরা সফলতার সঙ্গেও কাজ করছেন৷ আত্মকেন্দ্রিক হলে এসব করতে পারতেন না তাঁরা৷ বরং এ সময়ের তরুণেরা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছেন৷
নয়ন পাল, ই-মেইল: nayan2436@gmail.com

পারিপার্শ্বিক চাপে তরুণেরা আত্মকেন্দ্রিক হচ্ছেন
এখনকার তরুণদের নানা রকমের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সামনে এগোতে হচ্ছে৷ অভিভাবকদের তৈরি করে দেওয়া লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাঁরা ছুটছেন৷ দ্রুত পেশাজীবনে উন্নতির জন্য, পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য আছে পারিপার্শ্বিক চাপ৷ জীবনের এই দৌড়ে জেতার জন্য বলা হচ্ছে, অথচ এই প্রতিযোগিতা যে তাঁদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, সেটি কেউ বিবেচনা করছেন না৷ ফলে তরুণেরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছেন৷

মো. রাকিবুল ইসলাম, ই-মেইল: e.rakib@gmail.com

আত্মকেন্দ্রিক বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে
তরুণদের আত্মকেন্দ্রিকতার সংজ্ঞা আমার কাছে অন্য রকম৷ আমি মনে করি, তরুণেরা আত্মকেন্দ্রিক বলেই তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে৷ বেশির ভাগ সময় বিশ্ববিদ্যালয়-জীবনে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মধ্যে নিজস্বতা তৈরি হয়৷ নিজের জীবন নিয়ে ভাবতে শুরু করেন৷ নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজে নিয়ে থাকেন৷ এটিকে অনেকে ভাবেন তরুণেরা নিজের মতো করে থাকছেন৷
সুজান খান, ই-মেইল: suzankhan550@gmail.com

পেশাসচেতনতা মানেই আত্মকেন্দ্রিক নয়
একটা মানুষ কখনোই পুরোপুরি আত্মকেন্দ্রিক হতে পারেন না৷ বর্তমান সময়ে তো আত্মকেন্দ্রিক হওয়া বেশ কঠিন৷ নিজের প্রয়োজনেই অন্যের সঙ্গে মিশতে হয়৷ বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হয়৷ তাহলে তরুণেরা কীভাবে আত্মকেন্দ্রিক? তরুণেরা সব ধরনের অনুভূতি ও দৈনন্দিন জীবনকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ফুটিয়ে তুলছেন৷ মানুষের জন্য কাজ করছেন তাঁরা৷ তরুণেরা যদি পেশাসচেতন হয়ে থাকেন, আর এটিকে আত্মকেন্দ্রিকতার মাপকাঠিতে মাপা হয়, তাহলে তা ঠিক নয়৷ আমার কাছে মনে হয়, এই সচেতনতা দরকার৷ তবে একটা বিষয় ঠিক, আগে তরুণদের মধ্যে সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাটা ছিল, যা ধীরে ধীরে কমে গেছে৷
মিথুন দাস, ই-মেইল: dasmitun7@gmail.com

তরুণদের উৎসাহিত করুন
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, তরুণ শব্দটা উচ্চারিত হলেই অনেকে ভ্রু কুঁচকে তাকান৷ তরুণেরা কোনো নেতিবাচক কাজ করলে যতটা সমালোচিত হন, ভালো কাজের জন্য ততটা প্রশংসা পান না৷ বাংলাদেশের অনেক তরুণ বিদেশে গিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন৷ কিন্তু দেশে তাঁরা সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পাননি৷ এই দোষই িক তরুণদের? আমি মনে করি, তরুণেরা তাঁদের কাজ ঠিকভাবেই করে যাচ্ছেন৷ বড়দের কাছে একটা অনুরোধ, তরুণদের উত্সাহিত করুন৷ তাঁদের কাজ নিয়ে কটাক্ষ করবেন না৷
মো. আল আমিন, শিক্ষার্থী

নিজেদের জীবন নিয়েই বেশি ব্যস্ত
বর্তমান সময়ের অনেক তরুণের মধ্যে অদ্ভুত একটা প্রবণতা আছে৷ তাঁরা বড় হয়ে যাওয়ার পর মা-বাবার দায়িত্ব নিতে চান না৷ তাঁরা নিজেদের মতো করে একা থাকতে চান৷ নিজের জীবনের সব সিদ্ধান্ত নিজে নিতে চান৷ এ জন্য তাঁরা ভুল পথেও অনেক সময় পা বাড়ান৷ নিজেদের জীবন নিয়েই তাঁরা বেশি ব্যস্ত থাকেন৷ তাই মনে করি, তরুণ প্রজন্ম আত্মকেন্দ্রিক৷
সঞ্জিত মণ্ডল
থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সমাজব্যবস্থাকে আত্মকেন্দ্রিক বলা যুক্তিযুক্ত
ফেসবুকে এক ব্যাগ রক্ত চেয়ে স্ট্যাটাস দিলে অনেক লাইক পড়ে৷ কিন্তু হাসপাতালে রক্ত দেওয়ার সময় কাউকে পাওয়া যায় না৷ এই হলো বর্তমান প্রজন্ম৷ তরুণদের আত্মকেন্দ্রিক না বলে বরং বর্তমান সমাজব্যবস্থাকে আত্মকেন্দ্রিক বলা যুক্তিযুক্ত৷ পরিবার ও নিজের গণ্ডির বাইরে অন্য কোনো সামাজিক বিষয়ে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বেশির ভাগ তরুণের মধ্যে নেই৷ নিত্যনতুন ফ্যাশন, সিনেমা ও গ্যাজেটের প্রতি তাঁদের আকর্ষণ বেশি৷ তাঁরা আত্মকেন্দ্রিক না হয়ে সমাজ-সংস্কৃতি পরিবর্তনে ও রাজনীতিতে যুক্ত হলে দেশ অনেক লাভবান হবে৷ আবার এটিও ঠিক যে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম যেভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে কিংবা রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে৷
শাওন রহমান, সরকাির সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম

তরুণদের মতামত দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখবে
এ সময়ের তরুণেরা নিজেদের পেশা নিয়ে বেশি সচেতন৷ তাই বলে তাঁদের আত্মকেন্দ্রিক বলা যায় না৷ তরুণদের মতামত নিয়ে দেশ পরিচালনা করলে দেশ এগিয়ে যাবে৷ দেশের উন্নয়নে তরুণেরা সব সময় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখছেন৷ কারণ, এই তরুণেরা দেশের ভালো চান৷
চন্দ্রিকা বড়ুয়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

তথ্যপ্রযুক্তি তাঁকে অন্তর্মুখী করে তুলেছে
তরুণেরা আত্মকেন্দ্রিক৷ এর পেছনে প্রধান ভূমিকা পরিবারের৷ ছোটবেলা থেকেই মা-বাবা সন্তানকে পড়াশোনা, খেলাধুলা—সব ক্ষেত্রে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করেন৷ এতে সন্তানের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি হয়৷ ফলে ছোট থেকেই সে নিজের উত্কর্ষ সাধনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে৷ জীবনে সাফল্যের পেছনে ছুটতে থাকে৷ এটাই বাস্তবতা; যা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই৷ সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে এর বিকল্পও নেই৷ এর জন্য তরুণ বা তাঁর অভিভাবককে দোষারোপ করা যাবে না৷ কেননা বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাটাই এমন, যেখানে পেশাগত দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয় বেশি৷ এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির কারণে সবকিছুই তরুণদের হাতের নাগালে; যা তাঁকে আরও অন্তর্মুখী করে তুলেছে৷ তাঁরা ভার্চুয়াল জগৎকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন৷
শাহেদুল ইসলাম, ই-মেইল shahed522630@ gmail.com

মাদকাসক্তিও কখনো কখনো বিচ্ছিন্ন করে
ইদানীং দেখা গেছে, তরুণ প্রজন্মের কিছু অংশ মাদকের প্রতি আসক্তির কারণে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছেন৷ তাঁরা দেশ নিয়ে ভাবার অবকাশ পাচ্ছেন না৷ আমি মনে করি, মাদকাসক্তির কারণে এমনটা হচ্ছে৷ ফলে তরুণ প্রজন্মকে এই নেশার হাত থেকে রক্ষা করতে পারলে দেশের উন্নতি হবে৷ তারা সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবে৷ আত্মকেন্দ্রিক হওয়ার সুযোগ পাবে না৷
ইমাম হোসেন, পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, পটুয়াখালী

বিজ্ঞাপন
প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন