default-image

রাজযোগ

রাজযোগ সূক্ষ্ম অনুভূতির ব্যাপার। এখানে যে পদ্ধতি সম্পর্কে বলছি, তা রাজযোগের ছোট একটি অংশ কিন্তু খুব কার্যকরী।

যেভাবে করবেন

সুখাসন, পদ্মাসন, সিদ্ধাসন বা চেয়ারেও বসতে পারেন। সুবিধাজনক যেকোনো আসনে মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন। হাত কোলের ওপর মুদ্রাতে বা স্বাভাবিকভাবেই রাখুন। শ্বাস–প্রশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করবেন না, নিজস্ব গতিতে চলতে দিন। চোখ বন্ধ করুন। এবার দেখবেন, মস্তিষ্কে এলোমেলোভাবে একটার পর একটা চিন্তা আসবে। সেই চিন্তা ভালো বা খারাপ হোক, চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করবেন না। চোখ বন্ধ করে এলোমেলো চিন্তাগুলোকে শুধুই পর্যবেক্ষণ করে যবেন।

নিয়মিত এই আসনটি করার ফলে ১৫-৩০ দিনের মধ্যে দেখবেন, প্রথম প্রথম যে পরিমাণ চিন্তা আসে, প্রতিনিয়ত তার সংখ্যা কমতে থাকবে। আপনি যদি ৩-৬ মাস পর্যন্ত প্রতিদিন নিয়ম মেনে অনুশীলন করতে পারেন, দেখবেন মনের চিন্তার ওপর আপনার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে। আর এভাবে এই ধ্যানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে চিন্তা শূন্য হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়। এ অবস্থায় মনকে দিয়ে আপনি যেটা করতে চাইবেন, মন শুধু সে কাজটাই করবে। এভাবে সহজে মানসিক প্রশান্তি আসে, যা ওষুধের মাধ্যমে সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন
default-image

বৃক্ষাসন

এটি সরাসরি ধ্যানের পদ্ধতি না হলেও ধ্যানে সহায়ক কার্যকরী এক আসন। সম্প্রতি খেলার মাঠে গোল করার পর মিসরের ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহকে এই আসনের মাধ্যমে উদ্‌যাপন করতে দেখা যায়। খেলা শেষে জানিয়েছেন, আমি নিয়মিত যোগব্যায়াম করি। আর এর মাধ্যমে আমি আমার মনকে নিয়ন্ত্রণ করি।’

যেভাবে করবেন

দুই পায়ের পাতা কাছাকাছি রেখে সোজা হয়ে দাঁড়ান। যেকোনো এক পা তুলে অন্য পায়ের হাঁটুর ওপর বা দুই ঊরুর সংযোগ স্থলে লাগান। দুই হাত জোড় করে বুকের মাঝখানে রাখুন। চোখে পলক না পড়লে ভালো। চূড়ান্ত অবস্থায় চোখ বন্ধ রাখতে হয়। কিন্তু বেশ কিছুদিন অনুশীলনে আসন নিয়ন্ত্রণে এলে তখন উচ্চতর অবস্থায় যাওয়ার জন্য চোখ বন্ধ করুন। শ্বাস-প্রশ্বাস খুব ধীরে ধীরে এবং স্বস্তির সঙ্গে নেবেন। চোখ খোলা বা বন্ধ উভয় অবস্থাতেই সব চিন্তা ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ ও শ্বাসের গতির দিকে দেবেন।

এভাবে এক এক পায়ে ৩০ সেকেন্ড দিয়ে শুরু করুন। তবে ভালো ফলের জন্য প্রতি পায়ে ৩-৫ মিনিট করুন।

লেখক: যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন