পাঠকের প্রশ্ন: মন

বিজ্ঞাপন
default-image
পাঠকের কাছ থেকে সন্তান পালন, মনোজগৎ ও ব্যক্তিজীবনের সমস্যা নিয়ে পাঠকের প্রশ্ন বিভাগে নানা রকমের প্রশ্ন এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মেহতাব খানম নির্বাচিত একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবার।

প্রশ্ন: আমি এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। করোনাভাইরাস সংক্রমণের আগে মনে হতো আমি জিপিএ-৫ পাব। কিন্তু এখন কিছু পারব না বলে মনে হয়। এখন আর পড়তেও ভালো লাগে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছা ছিল আমার। সেটা হবে কি না, জানি না। পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় কোনো কিছুতেই মন বসে না। মন ভালোও থাকে না। বাড়িতে সবাই বলে, পড়তে বসো। কিন্তু আমার ইচ্ছা কমে গেছে। আমার টেনশন বেড়ে গেছে। ঘুমও আসে না ঠিকমতো।

মার্জিয়া মুমু, বোয়ালমারী, ফরিদপুর।

উত্তর: তুমি যে এই সময়ে কতটা দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তার ভুগছো, তা সহজেই অনুমান করা যায়। এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাই। পরীক্ষা দেওয়ার অনেক আগে থেকেই একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় কীভাবে দেখতে চায়, সেই ছবিটি মনে মনে আঁকতে শুরু করে। অনেক স্বপ্ন নিয়ে সে কর্মজীবনের পরিকল্পনাও করতে শুরু করে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সময়টা অর্থাৎ কলেজজীবন খুব দ্রুত পার হয়ে যায়, সে কারণে সিরিয়াস শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই সিলেবাসটি শেষ করে রিভিশনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। যেহেতু তারা খুব যত্নের সঙ্গে অত্যন্ত পরিশ্রম করে পড়াশোনা শেষ করার কাজে নিজেকে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখে, তাই তাদের জন্য পরীক্ষা নিয়ে এই অনিশ্চয়তা মেনে নেওয়া যে খুবই কঠিন, এতে সন্দেহ নেই। তবে সারা বিশ্বেই করোনার সংক্রমণের কারণে মানুষকে এর নেতিবাচক প্রভাবে নানা ধরনের ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে। বাংলাদেশেও তোমার মতো প্রায় ১০ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীকে যে হতাশার ভেতর দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে, তা সত্যিই দুঃখজনক। আমার অনুরোধ থাকবে, তুমি তোমার উদ্যম ও উৎসাহ ধরে রাখার চেষ্টা করো।

এই কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিতে না পারলেও এর সঙ্গে মানিয়ে চলার সক্ষমতা যে অর্জন করতে পারো, সেই ভরসা নিজেকে সব সময় দিতে থাকো। সৃষ্টিকর্তা আমাদের মধ্যে প্রচুর মানসিক শক্তি দিয়েছেন, সেটা যেন আমরা ভুলে না যাই। ‘ভবিষ্যতে কী হবে বা কী ঘটতে পারে’ এ কথাটি খুব বেশি ভাবতে থাকলে দুশ্চিন্তা আমাদের ঘিরে ধরে এবং ‘অতীতে যা ঘটে গেছে’ তা নিয়ে আফসোস করতে থাকলে বিষণ্নতা থেকে বের হওয়া কঠিন হয়। যেহেতু ভবিষ্যৎ আমরা কেউ জানি না এবং অতীতকে ফিরিয়ে আনা যায় না, তাই নিজের মনকে সচেতনভাবে বর্তমানে ধরে রাখতে পারলে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন সম্ভব হয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রতিদিন সারাক্ষণ পড়াশোনা করার প্রয়োজন নেই। তবে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে নির্ধারিত সময়ে পড়ালেখার চর্চা অব্যাহত রাখো। সেটি করা সম্ভব হলে দিন শেষে নিজেকে বাহবা দিতে কিন্তু ভুলে যেও না। মনে মনে নিজের প্রতি ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবে। নিজেকে বলবে, যে প্রতিজ্ঞাটি করেছিলে, তা বাস্তবায়ন করতে পেরেছ বলে তুমি সন্তুষ্টি অনুভব করতে পারছ। প্রত্যহ দিনের একটি বিশেষ সময়ে শরীরচর্চা রিলাক্সেশনের ব্যায়ামে ও ধ্যান করলে খুব ভালো হয়। রাতে শোয়ার আগে মাইন্ডকুলনেস ধ্যান করে ঘুমাতে গেলে ঘুমের সমস্যা দূর হতে পারে। এ ছাড়া এই করোনার সময় সুষম খাদ্যাভ্যাস তৈরি করতে পারবে, সেটি আমাদের শরীর ও ভালো রাখবে। মেডিটেশন ও রিলাক্সেশনের ব্যায়াম তুমি ইন্টারনেটে সহজেই পেয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন