বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৩১ বছর পর তোমার মুখোমুখি

৩১ বছর আগে যে তুমি আমায় ফিরিয়ে দিয়েছিলে, তারুণ্যনির্ভর চঞ্চলতায়। সেই প্রতিশোধে আজ বদ্ধপরিকর আমি, এক মুহূর্তের জন্য তোমায় গ্রহণ করতে। আজ আর কৈশোরকালের অপরিণত যুবক নও তুমি। কাজী আনোয়ার হোসেনের পথ ভোলানো সৃষ্টি ‘মাসুদ রানা’ও না তুমি। এখন তুমি আপাদমস্তক শান্ত-ধৈর্যশীল-পরিপূর্ণ দায়িত্বশীল এক মানুষ। যাকে ভালবাসা যায়, যাকে দূরে রেখেও কাছে থাকা যায়, যাকে নির্ভর করে নির্ভার হওয়া যায়। যাকে এত বছর আগে ফিরিয়ে দেওয়ার অপরাধে প্রতিশোধ নিতেই কেবল কাছে টানা যায়।

মুন রহমান, খুলনা

বলতে পারি না ভালোবাসি

তোমাকে কতটা ভালোবাসি, সেটা আমি বলে বোঝাতে পারব না। আমার বুকের ভেতর যে কত স্বপ্নেরা জাল বোনে তোমাকে ঘিরে। আমি ‘তোমাকে ভালোবাসি’ বলার সাহস পাই না। তোমার সামনে দাঁড়ালেই অজানা আতঙ্কে হাত-পা কাঁপতে শুরু করে। কিন্তু আমি জানি, কথাটা আমাকে বলতেই হবে। কারণ, আমি অনেক ভেবে দেখেছি, তোমাকে ছাড়া আমার জীবন চিন্তা করা অসম্ভব। ২৪ ঘণ্টা শুধু তুমি আমার চিন্তায়, চেতনায়, মননে ঘুরে বেড়াও। তোমার কথা না ভাবলে আমি কোনো কাজের স্পৃহা পাই না। আমার বুকের স্পন্দন কমে যায়, নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। বুকের ভেতর কেমন চাপা কষ্ট অনুভূত হয়। তোমাকে ভালোবাসি, এটা কি তোমাকে না বললেও তুমি বোঝো না? আমার এমন অব্যক্ত আর নিঃশব্দ প্রেমের আকুতি কি তোমার চোখে ধরা পড়ে না?

মাজহার খান, ডেমরা, ঢাকা

সেই অপেক্ষায়

অপেক্ষা জিনিসটা আসলেই অনেক নিষ্ঠুর, একটুও দয়া নেই তার। অপেক্ষার সময় কাটতেই চায় না। কিন্তু সব অপেক্ষা এক হয় না। কোনো কোনো অপেক্ষা ভালো কিছু দেওয়ার জন‍্য আটকে রাখে। কোনো অপেক্ষা ভালো কিছু পাব বলে আটকে রাখে। এখনের অবস্থার কথাই বলি, যত দূর চিন্তা করি, অপেক্ষা ছাড়া আমি আর কিছু দেখি না। অকৃতকার্যের মাশুল যে এতটা নির্মম হবে, তা কখনো ভাবিনি। সবার কাছেই আজ লজ্জিত, কটু কথা শুনতে হয়। আবার পরীক্ষায় বসার এই অপেক্ষার প্রহর আর কতটা দীর্ঘায়িত হবে, জানি না।

নূর আহম্মেদ, ঢাকা

বাবার শূন্যতা

ছোট্ট একটা ভাই বা বোন নেই, আর বড় একটা আপুও নেই। বাবাও নেই। প্রায় দুই–তৃতীয়াংশ স্নেহের কোল খালি। মায়া, মমতা কতটা রঙিন হতে পারে, তা আজও অজানা। কোনো বাবা তার সন্তানকে আদর করতে দেখলে তীব্র শূন্যতা তৈরি হয় আমার ভেতর। যদি আমার বাবাও বেঁচে থাকতেন!

বাবা, তোমাকে তো দেখিনি আমি। কোনো দিন হয়তো আদরও করোনি আমায়। কেমন অনাদরে বেড়ে উঠেছি যদি দেখে যেতে একদিন এসে। বাবা, তুমি অনেক স্বার্থপর! এত বড় হয়ে গেলাম আমি; দেখতেও তো এলে না একদিন। এখন আমি বড় হয়ে গেছি। প্রায় কুড়ি বছর কেটে গেছে আমার জীবন থেকে। শুধু তোমার অনুপস্থিতে। বাবা, তুমি যদি না–ও আসো; আমি কিন্তু তোমাকে দেখতে আসব। সেদিন আমায় চিনবে তো?

আবুল কালাম, রাজনগর, মৌলভীবাজার

প্রথম চিঠি

প্রিয় হিমেল, আজ একটা প্রশ্ন দিয়েই শুরু করি, কেমন।

তোমার কখনো এমন হয়েছে, আমাকে দেবে ভেবে অনেক কথাই তুমি লিখে ফেলেছ, কিন্তু আমাকে আর দেওয়া হয়ে ওঠেনি। একটা মেসেজ লিখে পরক্ষণেই মুছে ফেলা, চিঠি লিখে মনমতো না হওয়ায় ছুড়ে মেরেছ একটু দূরের ঝুড়িতে। সত্যি করে বলবে কিন্তু। যদি না বলো, তাহলে দেখো, তোমার বুকের বাঁ পাশে ব্যথা করবে, এটা আমাকে মিথ্যা বলার শাস্তি।

এখন বলো, তুমি কেমন আছ হিমেল? সত্যি করে বলো। চোখ বন্ধ করলে আমাকে কি তুমি দেখতে পাও? আমি যেমন চোখ বন্ধ করলেই দেখি তুমি আমার দিকে তাকিয়ে আছ। ঠিক কতটা ভালো থাকো আমাকে দেখতে পেলে? জানি! একটা প্রশ্নেরও তো উত্তর তুমি দেবে না। আমার বেলাতে এমন করো, নাকি সবার সঙ্গেই?

হিমেল, তবে কি তুমি অনুভূতিশূন্য? মাঝে মাঝে আমাকে নিয়ে একটুখানি ভেবে ছাদে গিয়ে আকাশের সঙ্গে জম্পেশ একটা আড্ডাও তো তুমি মারতে পারো। কই, কখনো তো অমন করো না।

হঠাৎ যদি তোমার সামনে এসে দাঁড়াই, চিনতে পারবে তো? তুমি তো অনেক বদলে গেছ, আমিও ভীষণ দ্বিধায় আছি। কী শুভ্র পবিত্রতায় ভরা মুখ তোমার! আহা, আদর আদর মুখ। হ্যাঁ, আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম মনভরে। আমি এখনও ভাবছি, আমার সত্যিকারের মানুষটাকে কবে দু-চোখ ভরে দেখতে পাব।

তুমি কী করছ এখন? কিছুই তো বলো না আমাকে। তোমার পছন্দের তালিকায় সবার আগে কারা আছে, আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে। আচ্ছা, বলো না, তোমার নামে এত মায়া কেন? তোমার চোখের সমস্ত মায়া লেপটে থাকে তোমার ওই নামের মাঝে।

তোমাকে তো বলা হয়নি, তোমার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর থেকে আমার এখন পাহাড় খুব পছন্দ। অনেক লিখতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে যাবে। তাই এখানেই ইতি টানছি।

আমার কাছে যে তোমার অপেক্ষায় থাকার নামই বেঁচে থাকা। ভালো থেকো।

হাবীবা হেনা, বঙ্গবন্ধু কলেজ, গোপালগঞ্জ

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন