মনের বাক্স
মনের বাক্স

পয়লা বৈশাখে প্রথম দেখা

১৪২১ সালের পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে তোমার নৃত্য দেখেছিলাম। খুব ভালো লেগেছিল। তারপর থেকেই তোমার সঙ্গে একটু একটু করে কথা বলা শুরু। প্রায়ই বিভিন্ন কাজের অজুহাতে তোমাকে দেখতে যেতাম স্কুলে। তুমিও আমার সঙ্গে কথা বলতে। তুমি তখন বেশ বুঝতে পারতে যে আমি তোমাকে পছন্দ করি। এভাবেই চলতে লাগল।

কপোতাক্ষ নদের তীর ঘেঁষে তোমার বাড়ি। আমি হাইস্কুল মাঠে খেলতে যাওয়া-আসার পথে তোমার বাড়ির পাশ দিয়ে যেতাম শুধু একটু দেখতে পাব, সেই আশায়। কলেজে উঠলাম ২০১৫ সালে। একই পথ দিয়ে প্রতিদিন কলেজে যাওয়া–আসা করতাম। তোমার সঙ্গে আমার দেখা হলেই লজ্জায় বাড়ির ভেতর চলে যেতে। আমি বাজারের একটি দোকানে বসে থাকতাম তোমার স্কুল ছুটির আশায়।

এভাবেই তুমি অষ্টম শ্রেণি পার করলে। তুমি সব সময় পথে আগে–পিছে করে আমার সঙ্গে কথা বলতে। আমি পড়ালেখার জন্য চলে এলাম ঢাকায়। তারপর তো গ্রামে খুব কম যাওয়া হয়। বছরে দু–একবার বাড়ি গেলেও তোমার সঙ্গে দেখা হয় কালেভদ্রে। শুনেছি তুমি এখন দশম শ্রেণির ছাত্রী। বেশ বড় হয়ে গেছ।

তোমাকে শেষ সেই কবে দেখেছি! তোমার সঙ্গে বহুদিন কথা বলার পরও আমার মনের কথাটা তোমাকে বলতে পারিনি। আজ বলছি, আমি তোমাকে ভালোবাসি দোলা। ঢাকায় এসেও আমার ভালোবাসা সেই আগের মতোই আছে।

আল-আমিন, লালবাগ, ঢাকা

স্কুলের সেই দিনগুলো

স্কুলে পরীক্ষার সময় অন্যের খাতা দেখে লেখার কারণে বেশ কয়েকজনের খাতা নিয়ে গেলেন স্যার। সবার খাতার মধ্যে থেকে বিশেষ একজনের খাতা স্যারের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্যারের টেবিল থেকে এনে দিয়েছিল আমার এক বন্ধু। পরবর্তী সময়ে সেটা ধরা পড়ে যায়, সাজা হিসেবে বেতের বাড়ি। স্কুলজীবনের বন্ধুদের মতো এমন আর হয় না। সেই দুরন্তপনা, দুঃসাহসিকতা, নিয়ম ভাঙার সেই মানসিকতা। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখা, ক্লাসে হইচই করে স্যারের বকা খাওয়া, শিক্ষকদের বিশেষ বিশেষ নাম দেওয়া। ক্লাসে সবার কাছ থেকে চাঁদা তুলে পাশের স্কুলে খেলতে গিয়েছিলাম অনেকবার। সন্ধ্যা হলে স্কুল মাঠের সেই আড্ডা।

স্কুলজীবন পার করে এসেছি প্রায় ১০ বছর হলো। সময়ের পরিবর্তনে বন্ধুরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ চাকরি করছে, কেউ পড়াশোনা, আবার কেউ সংসারের হাল ধরতে প্রবাসজীবন বেছে নিয়েছে। এই যান্ত্রিক জীবনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া হয়ে ওঠে না, কিন্তু মনের কোণে স্মৃতি হয়ে ভেসে ওঠে বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো ‘সমিতিরহাট এ কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে’ প্রতিটা মুহূর্ত।

মাহাদী মসিউর, মোংলা, বাগেরহাট

এবার মেলায় যাব না

তোর মনে আছে, একবার যে আমাকে মেলায় নিয়ে গেলি। ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় কী ভয়ই না পেয়েছিলাম আমি। এখন ওসব ভয়ডর ভেসে গেছে। আমি এখন অনেক সাহসী। তুই এবার নিয়ে যাবি মেলায়? কাচের চুড়ি কিনে দিবি সেবারের মতো?

জানি, এবার মেলা হবে না। করোনা আমাদের ভালোবাসার মাঝে বাধা হয়ে এসেছে। যেদিন থেকে আমার সাহস বাড়ল, এরপর থেকে আর তোর সঙ্গে কোথাও যেতে পারি না। ভালোবাসা মানুষকে এমন মরিয়া করে তোলে আগে জানতাম না। এখন তো তুই নিজেই আমার কাণ্ড দেখে ঘাবড়ে যাস। সারা জীবন এই সাহস নিয়েই বাঁচতে চাই তোকে নিয়ে। বাবার জেনে ফেলার ভয় সেই কবেই বিসর্জন দিয়েছি।

জানুক বাবা, আমি সোজা বলে দেব—তোকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না। পরের বছর আমাকে মেলায় ঘুরতে নিয়ে যাবি তো? কথা দে।

রেহনুমা, নাটোর

ভালোবেসে যত্ন নিতে শিখো

একটু অযত্নের ফলে ফাটল ধরে যেকোনো মধুর সম্পর্কে। হোক সে মা-বাবার সঙ্গে বা প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কে। অনেক সময় আমরা আমাদের আপনজনকে প্রচুর ভালোবাসতে পারি; কিন্তু সময়মতো একটু যত্ন নিতে পারি না। ব্যস্ততার অজুহাতে ভালোবাসাটা মিশিয়ে ফেলি প্রতিনিয়ত। আপনজনেরা চায় তাদের কেউ খোঁজখবর রাখুক, তাদের কেউ বুঝুক। শুধু একটু যত্ন পেলেই এমন হাজারো সম্পর্ক নতুন প্রাণ ফিরে পেত।

সম্পর্ক যতটা না মরে ভালোবাসার অভাবে, তার চেয়ে শতগুণে মরে যায় যত্নের অভাবে।

জোবায়েদ ইসলাম, জামালপুর

বিজ্ঞাপন

লেখা পাঠানোর ঠিকানা

অধুনা, প্রথম আলো, প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবন, ২০–২১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected], ফেসবুক: facebook.com/adhuna.PA খামের ওপর ও ই-মেইলের subject–এ লিখুন ‘মনের বাক্স’

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন