default-image

এই প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ছবিতে ব্যবহারকারীদের বাংলা নববর্ষের ইফেক্ট বা আবহ যোগ করার সুবিধা দিচ্ছে ফেসবুক। আজ রাত সাড়ে আটটার পর বাংলা নববর্ষ ১৪২৮ উপলক্ষে ফেসবুক এই বিশেষ আবহ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। আর এখন থেকেই ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) স্টুডিওর এই ইফেক্ট ব্যবহার করতে পারছেন। ফলে নিজের ছবিতেই পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপনের সব উপকরণ যোগ করা যাচ্ছে।

করোনাকালে গত বছরের মতো এবারও বাইরে বেরিয়ে বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপনের সুযোগ নেই। তবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ‘পহেলা বৈশাখ’ নামের এই ইফেক্ট যোগ করার পর মনে হবে আমি বা আপনি বুঝি মঙ্গল শোভাযাত্রার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। গালে আঁকা হয়েছে আলপনা, কোনো পাখি বা বাংলাদেশের পতাকার নকশা। আরও আছে মাছ, হাতি, ঘোড়া, পাখা, ঘুড়িসহ বাঙালি সংস্কৃতির নানা উপকরণ।

বিজ্ঞাপন
default-image

অগমেন্টেড রিয়েলিটির (এআর) মানে করা যায় প্রতিস্থাপিত বাস্তবতা। নিজের বা মূল বিষয়ের ছবি তোলার সময় সেটির সঙ্গে যা নেই, তা যোগ করে দেওয়ার প্রযুক্তিটি অগমেন্টেড রিয়েলিটি। ২০১৭ সাল থেকে এআর স্টুডিও নামে এই বিশেষ আবহ আন্তর্জাতিক নারী দিবস, চীনা নববর্ষের মতো উৎসবে চালু করে আসছে ফেসবুক। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এ সুবিধা এবারই প্রথম। পৃথিবীর প্রায় সব জায়গা থেকে ফেসবুকের ৩০০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী এটি ব্যবহার করতে পারছেন।

আজ রাত আটটার দিকে ফেসবুকের এই আবহকে স্বাগত জানিয়ে নিজের পেজে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। এই উদ্যোগ ভার্চ্যুয়ালি পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপনকে রঙিন করে তুলবে বলে তিনি মনে করেন।

রাত নয়টায় এই ইফেক্ট ব্যবহার করে নিজের ফেসবুক পেজে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভিডিও বার্তা দেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। তিনি ঘরে থেকে বৈশাখ উদ্‌যাপনের আহ্বান জানান।

ছবির ফিল্টারে ঘুড়ি, টেপা পুতুল, মাছ, প্যাঁচা, হাতি, ঘোড়া, বাঘ, ময়ূর, মঙ্গল শোভাযাত্রার নানা রকম মুখোশ ও প্ল্যাকার্ড যেমন থাকছে, তেমনি থাকছে মুখচিত্র আঁকার জন্য আলপনা, লাল-সবুজ পতাকা ইত্যাদি। ফেসবুক পোস্টের ও ইনস্টাগ্রাম স্টোরির ক্যামেরায় গেলেই এখন এই ইফেক্টগুলো পাওয়া যাচ্ছে।

ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে সেলফির জন্য সামনের ক্যামেরা এবং অন্য ছবি তোলার জন্য পেছনের ক্যামেরা চালু করলেই নিচে ‘পহেলা বৈশাখ’ নামের ইফেক্ট বা ফিল্টার পাওয়া যাবে। সেখানে ছবি তোলার সময় বাঙালির এই সর্বজনীন উৎসবের রঙিন সব উপাদান যোগ করা যাবে। করোনাকাল চলছে, তাই বৈশাখী নকশা আঁকা মাস্কও ছবিতে যোগ করা যাবে ফিল্টার থেকেই।

default-image

ফেসবুকের এআর স্টুডিওর এই ‘পহেলা বৈশাখ’ ইফেক্ট তৈরি হয়েছে দেশের দুই তরুণের হাত ধরে। ফেসবুক চেয়েছে স্থানীয় শিল্পী ও প্রোগ্রামাররাই এটি তৈরি করুক। ইফেক্টের জন্য ছবি এঁকেছেন চিত্রশিল্পী আরাফাত করিম, তিনি এখন প্রথম আলোতে স্পেশালিস্ট, ইলাস্ট্রেশন হিসেবে কর্মরত আছেন। প্রোগ্রামিং করে ইফেক্টটি বানিয়েছেন তরুণ প্রোগ্রামার ইশরাত জাহান। তিনি আইবস লিমিটেডে ইউআই/ইউএক্স ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছেন। এই দুজনের সৃজনশীলতায় ফেসবুকে মূর্ত হয়েছে রঙিন পয়লা বৈশাখ।

আরাফাত করিম ছবি আঁকার পর প্রোগ্রামিং করে সেগুলো দিয়ে ফিল্টার তৈরি করেন ইশরাত জাহান। বেশ কয়েকটি ফিল্টারের নমুনা পাঠানো হয় ফেসবুকের কাছে। সেখান থেকে একটি চূড়ান্ত করে দেয় ফেসবুক। এরপর কাজটি সম্পন্ন হয় বলে প্রথম আলোকে জানান ইশরাত।

আরাফাত করিম বললেন, ‘আমাদের পয়লা বৈশাখ উৎসবের আলপনা বা ছবি, মুখোশ ইত্যাদি হাতে আঁকা হয়। অনেক সময় কাঁচা হাতের ছোঁয়াও টের পাওয়া যায়। সেই বৈশিষ্ট্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। তবে বাংলাদেশের জন্য প্রথম এমন কিছু হচ্ছে, এটাই বড় ব্যাপার।’

ফেসবুকে, ইনস্টাগ্রামে ছবির ফিল্টার নিজেও ব্যবহার করেছেন ইশরাত জাহান। কিন্তু এবার বাংলা নববর্ষে প্রথমবারের মতো ফেসবুকের এআর ইফেক্ট তৈরি করতে পেরে খুবই আনন্দিত তিনি। ইশরাত বলেন, ‘আরেকটু সময় পেলে আরও ভালো কাজ করতে পারেন। ছবিতে এই ইফেক্টগুলো যোগ করলে মনে হবে, আপনি যেন বাইরে গিয়েই পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন করছেন। করোনাকাল তাই মাস্কও স্থান পেয়েছে আমাদের ইফেক্টে। মাস্কটা থ্রিডি করা হয়েছে, মুখ নাড়াচাড়ার সঙ্গে মিল রেখে। বাকি বেশির ভাগ উপকরণই দ্বিমাত্রিক।’ কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক ইশরাত জাহান নিজে নিজে অ্যাপ তৈরি, ফিল্টার বানানো শিখেছেন। ইশরাত ফেসবুক ডেভেলপার গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। ফেসবুকের স্পার্ক এআর অ্যাপের মাধ্যমে এই ইফেক্ট তৈরি করেছেন। স্পার্ক এআর দলের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন।

default-image
বিজ্ঞাপন
প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন