বস যখন ক্রেডিট চুরি করে

অনেক অযোগ্য বস তাঁদের অধস্তনের কাজ ঊর্ধ্বতনদের কাছে নিজের বলে চালিয়ে বাহবা কুড়িয়ে থাকেন। অনেকের কাছে আবার বিষয়টি অধস্তনের সাফল্য মানে বসের সাফাল্যে অধস্তনের তোফা বলে বিবেচিত হয়। সে ক্ষেত্রে ক্রেডিট দেওয়ার বিষয়টি তাঁরা বুঝতে পারেন না। অনেক সময় তাঁরা মনেও রাখতে পারেন না কোথা থেকে আইডিয়াটা এল। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বসের কাছে ক্রেডিটের জন্য ধরনা দিলে তাঁরা বিরক্ত হতে পারেন। এ রকম ক্ষেত্রে যা করা যেতে পারে তা হলো—

১. দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাভাবনা নিয়ে বসকে সাপোর্ট করে যাওয়া। বসের সঙ্গে নির্ভরশীলতার একটি সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর তাঁকে পুরস্কারের জন্য চেপে ধরা। সে ক্ষেত্রে সময় ও পরিবেশ বুঝে তাঁকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে হবে।

২. কখনো সরাসরি বায়না না ধরে কৌশলেও বিষয়টি আদায় করা যায়। সাধারণত বসরা বিস্তারিত বিষয়গুলো নিজের কাছে রাখতে চান না। কোনো প্রজেক্টের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন তাঁরা উপস্থাপন করতে পারলেও খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর জন্য তিনি বিস্তারিত কাজ করেছেন এমন কলিগদের রেফার করে থাকেন। সময়মতো ঊর্ধ্বতন মহলে বিস্তারিত বিষয়গুলো শেয়ার করতে থাকলে সবার আর বুঝতে বাকি থাকে না যে কে আসলে কাজগুলো করেছে। বসের সম্মতিক্রমে ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে কৌশলে সম্পৃক্ত হতে পারলে ক্রেডিট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়।

তবে এ ক্ষেত্রে বসকে উপযুক্ত ক্রেডিট দিতে ভুল করা যাবে না। সবাইকে এমন ধারণা দিতে হবে যে বসের গাইডলাইনেই আসলে কাজগুলো হয়েছে। বসের নিরাপত্তার চাদর ধরে টান দেওয়া যাবে না অথবা ঊর্ধ্বতন মহলে তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করা যাবে না। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকলে একপর্যায়ে পরিস্থিতি ও পরিবেশ বুঝে তাঁর কাছে প্রাপ্য পুরস্কার বা রিকগনিশনের জন্য আবদার করা যাবে।

প্রথমা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত আবীর শওকত হায়াতে অফিস পলিটিক্স বই থেকে নেওয়া।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0