default-image

শিশু খেতেই চায় না, এমন অভিযোগ বেশির ভাগ অভিভাবকের। জোর করে খাবারটা খাওয়ালেই বুঝি শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ পরিপূর্ণ হবে। ‘খাও আমার সোনা বাচ্চা’, ‘খাও আমার ময়না পাখি’, এই বলে বলে শিশুকে খাওয়ানোই যেন ধ্যানজ্ঞান। কিছু শিশু যেমন খাবারে আগ্রহ হারায়, কেউ আবার খেয়ে ফেলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি।

শিশুর জন্য অতিরিক্ত খাবার অপকারী। শিশুর বয়স, ওজন এবং প্রতিদিনের শারীরিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে শিশুর প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করা উচিত। শিশু কী খাবে, কতটা খাবে, তার একটা মাত্রা রাখা প্রয়োজন। শিশু পছন্দ করছে বলে অনেকগুলো চিকেন ফ্রাই বা পিৎজার টুকরা খেয়ে ফেলবে, এমনটা আদতে ওর জন্য ভালো নয়। আবার ‘সামান্য’ চিকেন ফ্রাই বা বার্গার খেয়ে শিশুর ‘পেট’ ভরবে কি না ভেবে একটু পরেই খাইয়ে দেওয়া হলো এক প্লেট ভাত আর মাংস, এমনটা করলে শিশুর ক্ষতির আশঙ্কাই বাড়ে বলে জানালেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কানিজ সুলতানা।

বিজ্ঞাপন

খাবারের পরিমাণ ও ধরন

শিশুর পাকস্থলীর ধারণক্ষমতা পূর্ণবয়স্ক মানুষের মতো নয়। বয়স অনুযায়ীই তার খাদ্যগ্রহণের সীমা। সারা দিনে অন্তত ২৫-৩৫ গ্রাম আঁশসমৃদ্ধ খাবার দিন শিশুকে। এ ছাড়া রয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। খাবারের অনুপাতকে একটা উদাহরণের মাধ্যমে বোঝা যেতে পারে। একটা থালার অর্ধেকটায় থাকবে ফল ও সবজি, এক-চতুর্থাংশে থাকবে শর্করা–জাতীয় খাবার এবং বাকি এক-চতুর্থাংশে থাকবে আমিষ। স্বাস্থ্যকর উদ্ভিজ্জ তেলও থাকা চাই খানিকটা। সুষম খাদ্যতালিকায় টাটকা ফল, সবজি, শর্করা ও আমিষের পাশাপাশি ডিম-দুধও রাখতে হবে প্রতিদিন। পরিশোধিত শর্করা ও ট্রান্স ফ্যাট এড়িয়ে চলা আবশ্যক (ফাস্ট ফুডে এগুলোই থাকে, আবার আমিষের গুণগত মানও বদলে যায়)। কোমল পানীয়, চিপস, চকলেটও শিশুর ‘খাবার’ নয়।

শিশুর স্থূলতা

শিশু স্থূল হয়ে পড়লে বলা হয়ে থাকে, ‘ওর স্বাস্থ্যটা বেশ ভালো’। সব ‘ভালো’ কিন্তু ভালো নয়। স্থূলতা সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়। স্থূল শিশু তার শিশুসুলভ স্বাভাবিক কাজে উৎসাহ পায় না, অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠে, সামাজিক সম্পর্কগুলোতে পিছিয়ে পড়ে, আচরণগত সমস্যাও সৃষ্টি হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি এবং আঁশের অভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে থাকে; অ্যাসিডিটি, অরুচির মতো সমস্যাও হতে পারে। ডায়াবেটিস হওয়ার ও রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ার ঝুঁকিতে পড়ে শিশু। যকৃতেও চর্বি জমতে পারে। বড় হলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের ‘গ্রোথ চার্ট’ থেকে ধারণা নিতে পারেন বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী শিশুর ওজন ঠিক আছে কি না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0