বিজ্ঞাপন
default-image

এই গল্প আমি অনেকবার করেছি—এ পি জে আবদুল কালাম হতে চেয়েছিলেন বিমানবাহিনীর পাইলট। দেরাদুনে গিয়ে বিমানবাহিনীর ভর্তি পরীক্ষায় তিনি অবতীর্ণ হলেন। নেওয়া হবে আটজন, তিনি হলেন নবম। মন খারাপ করে নদীর ধারে গিয়ে বসে থাকলেন। সন্ধ্যা নামছে। তাঁর মনে হচ্ছে, এই জীবন রেখে কী লাভ। এই সময় এক সাধু এলেন তাঁর কাছে। বললেন, ‘খোকা তুমি কেন এভাবে নদীর ধারে বসে আছো।’ এ পি জে আবদুল কালাম নিজের ব্যর্থতার কথা বললেন। সাধু বললেন, ‘ওঠো, তুমি বিমানবাহিনীতে টেকোনি, এর মানে জীবন তোমার জন্য বিমানবাহিনীর পাইলট হওয়া নির্ধারণ করে রাখেনি। তোমার ভাগ্যে আছে অন্য কিছু হওয়া। ওঠো। যাও। তোমার নিয়তিকে অনুসন্ধান করো।’ আবদুল কালাম উঠলেন। তিনি পদার্থবিজ্ঞান পড়লেন। হলেন একজন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। হলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি।

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন,

আকাশ তবু সুনীল থাকে,

মধুর ঠেকে ভোরের আলো,

মরণ এলে হঠাৎ দেখি

মরার চেয়ে বাঁচাই ভালো।

যাহার লাগি চক্ষু বুজে

বহিয়ে দিলাম অশ্রুসাগর

তাহারে বাদ দিয়েও দেখি

বিশ্বভুবন মস্ত ডাগর।

মনেরে তাই কহ যে,

ভালো মন্দ যাহাই আসুক

সত্যেরে লও সহজে।

যার জন্য কেঁদেকেটে অশ্রুর সাগর বইয়ে দিচ্ছ, তাকে ছাড়াও দুনিয়াটা অনেক বড়, অনেক সুন্দর। মানুষের জীবনে প্রেম আসে, চলে যায়। এগুলো কোনো ব্যাপারই না। ভালোবাসো, বাঁচো। ভালোবেসে মরে যেয়ো না। মরার কথা ভাববেও না। আঘাত দেওয়ার কথাও ভাববে না। তুমি যদি প্রতিদান না পাও, তাহলে তুমি তো জিতে গেলে। কারণ, তুমি দান করেছ, তুমি দাতা, প্রতিদান পাওনি, তুমি শ্রেয়তর। তুমি জিতে গেলে। সে তোমার চেয়ে ঊন থেকে গেল। তোমার এই জয়কে উদ্‌যাপন করো। হাসো। বাঁচো।

দেখবে, জীবনের শেষে তুমিই জয়লাভ করবে। জীবন তোমার জন্য সোনার মেডেল রেখে দিয়েছে। শেষ ফিতাটা পর্যন্ত তোমাকে দৌড়াতে হবে। দৌড়াও। বাঁচো। লড়ো। ভালোবেসে মরে যেয়ো না।

লেখক: প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও সাহিত্যিক।

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন