default-image

মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়, এমন ২০ শতাংশ লোক খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যাঁদের ঘুম ভাঙার পর ঘুমাতে যাওয়ার জন্য প্রাণান্তকর লড়াই চলে। আর এভাবে লড়াই করে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। আছে পরামর্শ, কী করে আঁখিতে নামবে ঘুম। আর মাঝরাতে ঘুম ভাঙা কি আদৌ ঠেকানো যাবে?

ঘড়ি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। অনেকে বিছানায় করেন এপাশ–ওপাশ। কখনো সেটা করা যাবে না। ঘড়ি দেখলে মনে হবে কত সময় পেরোল, এতে মনে বাড়ে উদ্বেগ আর ঘুম আরও ব্যাহত হয়। তাই ঘড়ির মুখ ঘুরিয়ে রাখুন দেয়ালের দিকে, নয়তো রাখুন ড্রয়ারে।

হাতে থাকা মুঠোফোনের স্মার্ট পর্দা থেকে চোখ–মুখ ফিরিয়ে নিন। অনেকের এমন অভ্যাস, ঘুমাতে গিয়ে কম্পিউটারে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, স্মার্টফোনে টেক্সট করা, পর্দায় আলাপ, এসব অভ্যাস ছাড়তে হবে। পর্দার নীল আলো মগজে সংকেত পাঠায় জাগরণের। বলতে থাকে, ‘ঘুম থেকে ওঠার সময় হলো।’ তাই ঘুমাতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে থেকে এসব ডিভাইস বন্ধ করতে হবে।

একেবারে ঘুম আসে না, চলে যান অন্য ঘরে। ঘুম আসবে।

মিনিট ২০ হলো ঘুমিয়েছেন, ভেঙে গেছে। ঘুম ভাঙার পর আর আসছে না। তখন উঠুন তবে আলো জ্বালাবেন না, বড়জোর মৃদু আলো জ্বলতে পররে। চলে যান অন্য ঘরে। সেখানে টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে বই পড়ুন, শ্বাস নিন গভীর দেখবেন ঘুমে ঢলে পড়বেন একসময়।

মধ্যরাত নয় কাজের সময়। অনেকে মাঝরাতে কাজ শুরু করেন, সৃজনশীল কোনো কাজ, রান্নাঘরে টুকটাক। এই সময়টা ঘুমানোর, কাজের নয়। এই কথাটা দয়া করে মনে রাখুন।

ঘুমানোর একটা পুরোনো দাওয়াই আছে। ১০০ থেকে উল্টো দিকে গোনা। অনেকের নাকি এতে কাজ হয়। হয়তো অনেকে এতে সুফল পান।

পেশিকে করুন শিথিল

পারবেন না?ঘুমিয়ে পড়ার জন্য পেশি শিথিল হতে হয়। টানটান শরীর, ঘুম আসবে কী করে? আছে উপায়। একে বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘ক্রমে ক্রমে শিথিলায়ন’। শুরু হোক পা থেকে, এরপর পেশি শিথিল করতে করতে ওপর দিকে উঠুন। প্রথম পায়ের বুড়ো আঙুল শিথিল করুন ৫ সেকেন্ড, এরপর নিন গভীর শ্বাস, ধীরে ধীরে। এভাবে করুন এই চর্চা পুরো পা, পেছন দিক, তলপেট, বাহু হয়ে মুখ পর্যন্ত। দেখবেন ঘুম এসে যাবে অঘোরে।

শয্যায় যাওয়ার আগে আগে প্যাঁচ খুলে ফেলুন। শরীরের পাকগুলো খুলুক, মুছে যাক চিন্তা। ঘুচে যাক স্ট্রেস।

শুনতে পারেন রবিশঙ্করের সেতার নয়তো রবীন্দ্রসংগীতের সুর। ছোটবেলায় দিদিমা, ঠাকুমারা ঘুমপাড়ানি মাসি–পিসিকে ডাকতেন সোনামণিদের চোখে ঘুম আনতে, নয়তো বলতেন কেচ্ছা। হায় রে সেসব দিন!

বিজ্ঞাপন

ক্যাফেইন বর্জন অবশ্য

বেলা ১টার পর অবশ্য নয়। তা চা, কফি, চকলেট, সোডা, এনার্জি ড্রিংক যা–ই হোক। এর প্রভাব শুরু হয় ঘণ্টাখানেকের মধ্যে, থাকে ৩-৫ ঘণ্টা পর্যন্ত। তাই জাগ্রত রাখতে এগুলো ভালো দাওয়াই। ফলে ঘুমাতে চাইলে দুপুরের পর এগুলো এড়িয়ে চলুন।

শয্যাঘর থাকবে নীরব, সুনসান। শব্দ হলে ঘুম হয় না, আর গভীর ঘুম হলেও জাগিয়ে তোলে। তাই নির্জনতার ছিপি দিয়ে বন্ধ করুন কানের ছিদ্র।

শীতল ঘুমঘর

ঘর গরম থাকলে ঘুম আসে না। ৬০-৭০ ডিগ্রি গরমে ফ্যান চালাতে পারেন। অনেকে চালান এসি। আমি এসির পক্ষপাতী নই। অনেকে মদ্যপান করেন। এটা না করা ভালো। ঘুমের আগে মদ্যপান ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।

ধ্যানচর্চা করুন

এই অভ্যাস বেশ কাজের। বসুন ধীর শান্ত হয়ে। এরপর শ্বাসক্রিয়ার দিকে নজর দিন। ভাবুন কোনো সুন্দর বাক্য, সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুন। মন সরে গেলে আবার ফিরিয়ে আনুন শ্বাসক্রিয়াতে। দেখুন ঘুম আসবে চোখ ছাপিয়ে।

সময়মতো ঘুমাবেন। আর উঠবেন সময়মতো। এতে ঘুম হবে ভালো। এতেও না হলে নানা পন্থা আছে। ডাক্তার দর্শন। তিনি দেবেন যা প্রয়োজন আপনার। তবে এর আগেই অনেকের সমস্যা চলে যাবে। আমি তাই মনে করি। এ কী, ঘুমিয়ে পড়েছেন দেখছি! আসি। শুভরাত্রি।

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন