মনের বাক্স
মনের বাক্স

ভাঙুক অভিমান

সাইমুন প্রিয় বন্ধু আমার। তোর অভিমানের খেয়াল কখন ভাঙবে, তা আমার জানা নেই। তাই মনের বাক্সের সাহায্য নিলাম। মান-অভিমান আমাদের নিত্যদিনের ব্যাপার। প্রতিটি মাসে কম করে হলেও আমাদের মান-অভিমান হয় ৫ থেকে ৭ দিন। কিন্তু এবার ১৫ দিন শেষেও তোর অভিমান ভাঙতে পারছি না।

তুই তো জানিস, তুই অভিমান করলে আমি কতটা অস্বস্তিতে থাকি। তোর অভিমান আমাকে পোড়ায়। বন্ধু সব জেনেও কেন আমাকে কষ্ট দিস বল তো? ফেসবুকে একটা লেখা দেখেছিলাম ‘বন্ধুত্ব হচ্ছে চুইংগামের মতো, যা একবার মনে স্থান করে নিলে ছাড়তে চাইলেও সম্ভব হয় না।’ বন্ধু আমি সেই চুইংগামের মতো হতে চাই। যেন সব সময় তোর পাশে থাকতে পারি। সাইমুন আর অভিমান করে থাকিস না, ফিরে আয় বন্ধু।

রিসাদ, ফেনী

বিজ্ঞাপন

কাপকেকের কাছে টেলিগ্রামের বার্তা

আমার ভাবনায় স্মৃতি বলে কিছুই ছিল না। সবাই যেটাকে স্মৃতি বলত আমি তাকে নেহাতই অতীত বলে জানতাম। তবে আজ মনে হচ্ছে, এমন অনেক মানুষ আছে যাদের সঙ্গে কেটে যাওয়া সব সুন্দর মুহূর্ত অতীত হয় না। সেগুলো আমাদের কাছে যত্ন করে রেখে দেওয়া মধুর স্মৃতি। টেলিগ্রাম তেমনই একজন। না না টেলিগ্রাম কোনো মোবাইল অ্যাপ বা যন্ত্র না। টেলিগ্রাম আমার দেওয়া ওর ডাকনাম। আমার জীবনে সে আপনি হয়েই এসেছিল, তারপর তুমি থেকে তুই। গল্প অনেক, তবে গল্পের প্রধান চরিত্রে টেলিগ্রামই ছিল। সব সময় হাসিখুশি মুখ তার। সারা দিন খুনসুটি।

প্রিয় টেলিগ্রাম, জানি তুই প্র অধুনা পড়িস। তাই সেখানেই লিখছি। জেনে রাখ, টর্চলাইট তো পুরোনো, হালের গুগল সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজেও ভালো কাউকে পাবে না। তাই, তোর কাপকেককে হারানোর কথা মাথায়ও আনিস না। তোর সবচেয়ে ভালো ব্যাপার কি জানিস? তুই অকারণেও হাসতে জানিস। আর আমি যখন ভুলেও কখনো সেই হাসির কোনো কারণ হয়ে যাই, তখন তা খুব করে আমায় আনন্দিত করে। অন্যদিক বাদ, আপাতত তুমি কাপকেকের টেলিগ্রাম হয়েই থাকো।

কাপকেক (ডাকনাম), সিলেট

কতটা ভালোবাসি তোমায়

মেঘবালিকা, মনে পড়ে আমার কথা? নাকি ভুলে গেছো। সেই ছোটবেলা থেকেই তোমার প্রতি আমার ভালো লাগা। দুজনে কত সময় কাটিয়েছি। হাতে হাত ধরে পথ চলেছি। মনে আছে মেঘবালিকা!

ছোটবেলার ভালো লাগাই একটা সময়ে হয়ে যায় ভালোবাসা। আমার বেলাও ব্যতিক্রম ঘটেনি। সেদিনের লেখা তোমার সেই পত্রের ভাঁজ এখনো ভাঙেনি। খুব যতনে রেখে দিয়েছি। এক যুগ পরও ডায়েরির পাতা আলিঙ্গন করে সে বেঁচে আছে। যেখানে তোমার হাতের আঁচড় পড়েছে, কলমের আঁচড়ে শব্দ বুনেছ। তা কী করে বিনষ্ট হতে দিই!

তোমার কথা মনে হলেই হৃদয়ে উত্তাল ঢেউ ওঠে। তবু তোমার দেখা মেলা দায়। পত্রে তুমি কত আবেগ-অনুভূতির মিলনমেলা সাজিয়েছ। সবশেষ জানতে চেয়েছ, কতটা ভালোবাসি তোমায়, ‘মলাটে বাঁধা উপন্যাস হলে হয়তো বুঝতে পারতে কতটা ভালোবাসি তোমায়।’

হোসাইন মোহাম্মদ মোশাররফ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা

বিজ্ঞাপন

ভালোবাসতে চাই

শীতের শিশিরভেজা মধ্যরাতে আবার তোমার হাত একটু ধরতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছা করে ঝিঁঝিডাকা নির্জন পুকুরপাড়ে গিয়ে বসতে। তোমারও নিশ্চয়ই ইচ্ছা করে! জানো, সেদিন রাতে দেখা তোমার ওই লাজুক হাসিমাখা মুখটা এখনো চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে ভাসছে। যেন আমার সমুখেই তুমি দাঁড়িয়ে। কেন এমন হচ্ছে বারবার?কেন তোমাকে নিয়ে এত ভাবছি আমি? এটা কি তবে ভালোবাসা!

বিশ্বাস করো, আমি তোমাকে সত্যি সত্যিই ভালোবাসতে চাই।

আবদুর রহমান, পাবনা

রূপকথার রাজকন্যা

কিছু কথা না হয় রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের মতো না বলাই থাকুক। সব অনুভূতির পরিণতি হয়তো সৃষ্টিকর্তা লিখে রাখেন না। এমন একজন মানুষ থাকেই, যাকে সারা দিন কী হয়েছে না বলতে পারলে যেন রাতটা নির্ঘুমই কেটে যায়। জানি তাকে কখনোই মুখ ফুটে বলতে পারব না। হয়তো সে বুঝবেও না। সবকিছু বোঝার দরকারই-বা কী! কে বলেছে আমাকে বাস্তবে তার রাজপুত্র হতে হবে। আমার কল্পনার রাজ্যে সে রাজকন্যা হয়ে থাকুক না সারা জীবন।

ভালোই তো লাগে তার প্রতিটি আবদারে সকাল-সন্ধ্যা ছুটে বেড়াতে। কল্পনায় না হয় আমি তার রাজপুত্র হয়েই থাকলাম।

তৌফিক ফাহিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী

রিতু-মিতুর জুটি

প্রায় ছয় মাস হয়ে গেলো আমাদের কোনো দেখা নেই। টুনি তোর মনে পড়ে স্কুলের সেই দিনগুলো? তুই না গেলে আমিও যেতাম না। আর পুরো স্কুল আমাদের জানতো রিতু-মিতুর জুটি বলে। শিক্ষকেরাও যখন পড়া ধরতো একসঙ্গে বলতো ‘রিতু- মিতু’ দাঁড়াও। তোকে টুনি ডাকার জন্য মার খেয়েছিলাম শিক্ষকদের হাতে। এখন এসব ভাবলে হাসি পায়। আর পরীক্ষার কথা মনে আছে? পরীক্ষার সময় যেন এক নম্বরও কাটা না যায়, বই ভাগ করে পড়তাম।

দশ বছর একসঙ্গে কাটানোর পর একই কলেজে ভর্তি হই যেন আরও ২ বছর একসঙ্গে কাটাতে পারি। কলেজে তো সবাই আমাদের বোন ভাবতো। অনেকে ডাকতো টুনাটুনি বলে। বসতামও একই বেঞ্চে। ১২ বছর আমার অনেক পাগলামী সহ্য করেছিস, কারণ তুই বরাবরই শান্ত আর আমি চঞ্চল। চাইলেও আর একসঙ্গে হাঁটা হবে না, এটা ভেবেই কষ্ট হয়। তোকে অনেক মনে পড়ে।

আয়েশা মিতা, ঢাকা

বিজ্ঞাপন

লেখা পাঠানোর ঠিকানা

অধুনা, প্রথম আলো, প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবন, ২০–২১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: adhuna@prothomalo.com, ফেসবুক: facebook.com/adhuna.PA খামের ওপর ও ই-মেইলের subject–এ লিখুন ‘মনের বাক্স’

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন