পাঠকের লেখা

মনের বাক্স

বিজ্ঞাপন
default-image

তোমাদের খুব মনে পড়ে

মা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। জন্মের আগে ছিলাম তাঁর দেহে ভর করে। জন্মের পর থেকে তাঁর স্নেহ–ভালোবাসায় বড় হয়েছি। ছোটবেলায় আমি একটু বেশি দুষ্টু ছিলাম। মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াতে আমার খুব ভালো লাগত। একটু সুযোগ পেলেই বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে চলে যেতাম। বলা চলে মা আমাকে একদম চোখে চোখে রাখতেন।

আমার বাবা ছিলেন খুব গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ। দিন শেষে বাসায় ফিরতেন আলাদা একটা মুড নিয়ে। বাবা আমাকে খুঁজলে মা পড়ে যেতেন বিপদে। যখন দেখতেন আমি বাড়িতে নেই, বাবার বকা তখন মায়ের ওপর পড়ত। আমার অসুখ হলেও মা দিন–রাত বসে আমার সেবা করতেন। কত কত স্মৃতি নিয়ে নিজে বেড়ে উঠলাম।

এখন স্ত্রী, পুত্র, কন্যা নিয়ে শহরে বসবাস করছি। মা–বাবাকে অনেক অনুরোধ করেছি আমার সঙ্গে এসে থাকতে। কিন্তু শিকড়ের টানে তাঁরা রাজি হননি। সে কারণে লম্বা ছুটি পেলেই তাঁদের স্নেহের টানে ছুটে যাই আমার গ্রামের বাড়িতে। যেদিন প্রথমবার আমি বাবা হয়েছিলাম, সেদিন থেকে আমি প্রতিনিয়ত আমার বাবাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করছি। আর আমার স্ত্রীকে দেখে মনে পড়ে আমার মায়ের সেই অসীম ত্যাগের কথা। তাই আমার মা-বাবার উদ্দেশে বলছি, তোমরা সুস্থ থাকো। ভালো থাকো। তোমাদের আমি অনেক ভালোবাসি।

কবির কাঞ্চন, হাতিয়া, নোয়াখালী

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনাকে ভালোবাসি, কিংকং

কিংকং বলেছি বলে আবার রাগ করবেন না যেন! আপনাকে কিন্তু আমি লুকিয়ে লুকিয়ে এই নামেই ডাকি। জানেন, আজকাল আমার মনে অন্য রকম একটা অনুভূতির আভাস পাচ্ছি। সেই অনুভূতিটা আসলে যে কিসের, তা আজ বুঝতে পারছি। কিন্তু এই অনুভূতি নিয়ে আমি আর থাকতে পারছি না। আমার দ্বারা কি ভুল কিছু হয়ে গেল? আপনি জানলে কি বকা দেবেন?ধমক দিয়ে বলবেন কি, ‘এই মেয়ে, তোমার সাহস কী করে হয় আমাকে ভালোবাসার?’

ওমা, বলেই ফেললাম সেই অনুভূতির কথা। কিংকং, আমি হয়তো আপনাকে ভালোবাসি। যা–ই হোক, আসলেই আমি প্রচুর কথা বলি। এবার থামছি। যা বলার বলা শেষ।

ইতিপিচ্চি মেয়ে (আপনার ভাষ্যমতে)

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পাঁচ দিনেই সব শেষ

প্রিয়তমা, আমি তোমার হতে পারিনি। তোমায় সারা জীবন বুকের মাঝে আগলে রাখতে পারিনি। তোমার হাতে হাত রেখে এক জীবন পার করার স্বপ্নটাও পূরণ করতে পারিনি। পারিনি তোমায় নিজের অধিকারে রাখতে। মাঝপথে থেমে গেল আমাদের স্বপ্ন দেখা, পথচলা। হুট করে মাত্র পাঁচ দিনের কথাবার্তায় আমার কাছ থেকে তোমায় কেউ কেড়ে নেবে, এটা কখনো ভাবিনি। যেটা ভাবিনি সেটাই হয়েছে। করোনাভাইরাস আমার মতো কত শত প্রেমিকের হৃদয় খালি করেছে, তার ইয়ত্তা নেই। বাকিরা তা বুঝবে না। শুধু যে হারিয়েছে, সে জানবে প্রিয় মানুষটাকে হারানোর যন্ত্রণা কতখানি। আমি জানি তুমিও কষ্ট পাচ্ছ। কিন্তু কী করবে, ধরে নাও আমাদের কপালে এটাই লেখা ছিল। যা–ই হোক, নতুন জীবনে তোমাকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।

সেতুজিৎ মিত্র, চট্টগ্রাম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তোমায় দেখব আবার

তোমার সঙ্গে দেখা সেদিনের বৃষ্টির মতো বৃষ্টি এখন আর চোখে পড়ে না। তোমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে হাঁটা রাস্তাটাও পাকা হয়ে গেছে। সেই মেহগনিগাছটি, যেটা তখন ৮–১০ ফুটের মতো লম্বা ছিল, আজ তা আকাশছোঁয়ার নেশায় মেতেছে। পৃথিবীর নিয়মে সময় থেমে থাকে না। ভেবেছিলাম সময়ের সঙ্গে আবেগ ঝাপসা হয়ে যাবে, ভুলে যাব তোমায়। কিন্তু না। সব অনুভূতি চিরন্তন হয়, তার বয়স বাড়ে না। বুঝলাম, আমাদের কাটানো তিনটি বসন্ত, ছয়টি শীতেও ম্লান হয়নি এতটুকু। করোনাকালের এই অবরুদ্ধতায় নতুন দুজন সঙ্গী পেয়েছি। তারা হলো একাকিত্ব এবং বিষণ্নতা। তারা এক অদৃশ্য মায়ায় আমার সব শক্তি নিঃশেষ করে দিচ্ছে। তাই প্রতিজ্ঞা করেছি, আবার যখন পৃথিবী ঘুরে দাঁড়িয়ে পুরোনো বেগে চলতে শুরু করবে, যখন এই গ্রহের মানুষগুলো তার মুখ লুকানোর জন্য এক টুকরা কাপড় (মাস্ক) ব্যবহার করবে না, যখন কাছে যাওয়ার থাকবে না কোনো বাধা।

সেই দিন আবার দেখব তোমায়। আর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করব, ‘কেমন আছো, নীলপরি?’ সম্ভব হলে উত্তর দিয়ো সেদিন।

সিফাত আল মায়ায, রংপুর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মনের বাক্সে লেখা পাঠানোর ঠিকানা

অধুনা, প্রথম আলো, প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবন, ২০–২১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: adhuna@prothomalo.com, ফেসবুক: facebook.com/adhuna.PA খামের ওপর ও ই-মেইলের subject–এ লিখুন ‘মনের বাক্স’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন