মনের বাক্স

তোমায় ভালোবাসি বাবা

বাবা, হ্যাঁ তোমাকেই বলছি। শুনে যাও একটু। চিঠিখানা তোমার হাতেই দেব ভেবেছিলাম। কিন্তু আমাদের পারিবারিক পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টারটাকে ঠিক ভরসা হলো না। তার চেয়ে বরং অধুনার মনের বাক্সই বেশি ভরসার।

জানো বাবা, তোমায় বড় ভালোবাসি। সেই ছোট্টবেলায় যেমন ভালোবাসতাম, তেমনটাই ভালোবাসি এখনো। কিন্তু সুচিন্তিত অর্থবহ কোনো উপলক্ষের অভাবে বলা হয়ে ওঠে না। রোজ রাতে আমি পড়ছি দেখে তুমিও যখন রাত দুটো অব্দি আমার সঙ্গে রাত জাগো, ভীষণভাবে বলতে ইচ্ছে করে, ‌ধন্যবাদ বাবা। সকালবেলায় তুমি এসে যখন আলতো আদরে ঘুম ভাঙাও, মন চায় বলি, ভালোবাসি বাবা!

সারা দিনে নিয়ম করে তিনবেলা এসে যখন জানতে চাও খেয়েছি কি না, খুব গোপনে নিজের মনেই বলি, ইচ্ছে করেই খাইনি এখনো। জানি যে তুমি খোঁজ করবে। কত কথা এমন না বলা রয়ে যায়। বড় হলে কত দ্বিধা-সংকোচ আর হিসাবের মারপ্যাঁচ বুঝতে হয়। এর চেয়ে ছোটবেলাই ভালো ছিল ঢের। মন চাইলেই কেমন অনায়াসে বলে দেওয়া যেত, ভালোবাসি বাবা। চিঠিতেই তাই বলে ফেললাম, বড় বেশি ভালোবাসি তোমায় বাবা।

সানজিদা সরকার, বাঘা, রাজশাহী।

বিজ্ঞাপন

আজও আপনার অপেক্ষায় আছি

প্রিয় ছোট ডাক্তার সাহেব,

ভেবেছিলাম আরও কিছুদিন পর লিখব। কিন্তু হয়তো এতক্ষণে অনেক দেরি করে ফেলেছি। বর্তমানে আপনার ঠিকানা আমার অজানা। তাই এখন আর পোস্টঅফিস থেকে নিজের নাম–ঠিকানা গোপন রেখে আপনার জন্য চিঠি পাঠাতে পারি না। কে আপনাকে এত দিন চিঠিগুলো পাঠাত, আমি কে, আমার ব্যাপারে এখন আপনি সবই জানেন। তাই কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে আজ এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হলো।

আপনি কি জানেন, আপনার জন্য আমার চিঠি লেখা কখনো বন্ধ হয়নি! আমি আজও প্রতিদিন আপনার জন্য একটা করে চিঠি লিখি। চিঠিগুলোতে রয়েছে আমার হাজারো প্রশ্ন। যে প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। আজ আমার এই গল্পের প্রায় আড়াই বছর হতে যাচ্ছে প্রিয়।

কিছুদিন আগে আমার সঙ্গে একটা দুর্ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল। সেদিন আমি এক মুহূর্তের জন্য মৃত্যুর অনেক কাছে চলে গিয়েছিলাম। তখন জানি না কেন, সবার আগে আমার মাথায় একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছিল; কেন আমি আপনাকে এখনো কিছু বলিনি! যদি আমার কিছু হয়ে যায়, তাহলে তো আমার না বলা কথাটা কোনোদিন আপনাকে বলা হবে না।

জানি না কেন, তবে শুধু এটাই জানি, আমি আজও আপনার অপেক্ষায় আছি। আমি সারা জীবন এভাবেই শুধু আপনার জন্যই অপেক্ষা করে যাব। আমি এই এক জীবনে শুধু আপনাকেই ভালোবেসেছি, আপনাকেই ভালোবেসে যাব। আপনাকে ভুলে যাওয়া তো আমার সাধ্যে নেই প্রিয়। শেষবারের জন্য আমি শুধু আপনার মনের কথা জানতে চাই প্রিয়। সত্যি কি এই আড়াই বছরে আপনার মনে একটুও জায়গায় করে নিতে পারিনি আমি?

আপনার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম ছোট ডাক্তার...।

আপনার আজনাবি, উত্তরা, ঢাকা।

কষ্টে আছি বেশি

আমাদের একসঙ্গে পথচলার আয়ু ছিল মাত্র চার বছর। এই চার বছরে তুই আমার সব ভালো ও খারাপ মুহূর্তের সাক্ষী ছিলি। ভেবেছিলাম সারা জীবন তোর সঙ্গে কাটাব। কিন্তু কতটা নিষ্ঠুরতায় তোকে আমার জীবন থেকে তাড়িয়ে দিয়েছি, সেটা তুই আর আমি ছাড়া কেউ জানে না।

আমি স্বার্থপর, কখনোই তোর কথা ভেবে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। এবারও তাই করেছি। ভেবেছিলাম সহজেই হয়তো তোকে ভুলতে পারব। কিন্তু যতটা সহজ ভেবেছিলাম, ততটা নয়। সত্যি বলছি, ঠিক তোর মতো আমাকে কেউ ভালোবাসে না।

তোর কথা যখন মনে পড়ে, তখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে আমাদের সেই সব দিনের কথা। আমাদের হাসি, কান্না, ঝগড়ার দিনগুলো।

তোকে যতটা কষ্ট দিয়েছি, আমি এখন তার চেয়ে বেশি কষ্টে আছি। আমাকে মাফ করে দিস।

জহুরা, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন

কোথায় হারিয়ে গেছ

সাত বছর আগে! তোমার সঙ্গে প্রথম দেখা আবার সেটাই শেষ দেখা। তখন একবারের জন্যও তোমায় খুঁজিনি। ভেবেছিলাম তুমি এসেছ, আবার চলে গেছ। কিন্তু যত‌ই সময় যেতে লাগল, তত তোমার অনুপস্থিতি বুঝতে পারলাম। জানি, এখন আর খুঁজে হয়তো লাভ হবে না। তুমি এত দিনে আমায় ভুলেই গেছ। তা-ও চাইব, যেখানেই থাকো, ভালো থাকো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, নোয়াখালী।

আমাদের দূরে থাকাই মঙ্গল

কেমন আছি, জানতে চেয়েছিলে। আমি আসলে ভালো নেই, তাই তোমাকে বলা হয়নি। তুমি এটাও লিখেছ যে বিবাহিত মেয়ে তুমি, তাই নাকি আমি তোমার সঙ্গে কথা বলি না, দেখা করি না। হঠাৎ তোমার সামনে পড়লে আমি মাথা নিচু করে অন্যদিকে তাকাই।

আসলেই তাই। কারণ, আমার অন্তরাত্মা চাপা কষ্টে পাড়ভাঙা নদীর কিনারের মতো খসে পড়ে। ২০১৩ সালে প্রথম দেখা, আর এখন ২০২০। সাত বছর তোমার সঙ্গে পথচলা, আমাকে আন্ড্রয়েড ফোন কিনে দেওয়া, বিভিন্ন সময় টাকাপয়সাও দিয়েছ আমার প্রয়োজনে।

আর দিয়েছ মন থেকে ভালোবাসা। তখনো কিন্তু তুমি বিবাহিত। আমি সব জেনেও তো তোমাকে এখনো ভালোবাসি আর তুমিও আমাকে ভালোবাসো। ক্লাস নাইনে পড়তাম আমি আর তুমি এক সন্তানের মা। অসম প্রেম আমাদের।

আজ আমি বড় হয়েছি বেশ, অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। এক বছর হলো তোমার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। তুমি কয়েকবার চেষ্টা করেছ, কিন্তু আমি তোমাকে এড়িয়ে চলছি এখনো। হয়তো সারা জীবন চলব।

তোমার কাছে এই লেখা হয়তো কখনো পৌঁছাবে না। কারণ, তুমি ফেসবুক, মেসেঞ্জার বা পত্রিকা কোনো কিছুর সাথেই সম্পৃক্ত নেই। তুমি অন্যের বউ। কথা দিলাম, যদি লেখাটি প্রকাশিত হয় মনের বাক্সে, তাহলে পত্রিকা নিয়ে তোমার কাছে পৌঁছে দেব।

রাজকুমার

যে কথা আজও তোমাকে বলা হয়নি

তোমাকে আমি মাধুরী নামে ডাকি। তোমার পাশে যতক্ষণ থাকি, ততক্ষণ আমি হারিয়ে যাই অন্য কোথাও। কী অপূর্ব সম্মিলন!

তুমি কি ভাবছ, আমি শুধু তোমার রূপের মাধুর্যে বিভোর? তা কিন্তু একদম নয়। তোমার চঞ্চলতা আমায় খুব টানে। আস্ত কঠিন লোহাকে মুহূর্তে তরলে পরিণত করার কারিশমাটা তুমি ভালোই জানো। তাই তো তোমায় এত ভালো লাগে।

যদি কখনো প্রচণ্ড অভিমান ঘিরে ধরে আমায়, তখন তুমি মুহূর্তে আমার মন ভালো করে দাও। ঠিক এই কারণে আমি তোমাতে বিভোর থাকি। কাছাকাছি থাকার পরও তোমাকে বলতে পারিনি, ভালোবাসি তোমায়।

মনের জমানো কথাগুলো তাই এই মনের বাক্সেই যত্নে রেখে দিলাম। কোনো এক বিকেলে পড়ে নেবে এই আশায়।

আবুল কাশেম, দক্ষিণ পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।

মন্তব্য পড়ুন 0