ভ্রামরী প্রাণায়াম

default-image

যাঁরা প্রায়ই মাথা ঘোরা বা মাথার যন্ত্রণায় ভোগেন, তাঁরা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অথবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে ভ্রামরী প্রাণায়াম করলে খুব ভালো ফল পাবেন।

যেভাবে করবেন: সুখাসন, পদ্মাসন বা সিদ্ধাসনে মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন। হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে দুই কান বন্ধ করুন, যাতে বাইরে থেকে কোনো শব্দ কানে না ঢোকে। চোখ বন্ধ করে দুই হাতের বাকি ৮টি আঙুল চোখের পাতার ওপর এমনভাবে রাখুন যেন বাইরে থেকে কোনো আলো চোখের পাতায় না পড়ে। একই সঙ্গে খেয়াল রাখবেন যেন হাতের আঙুল চোখের পাতায় স্পর্শ না করে, অন্যথায় চোখ খোলার পর সব ঝাপসা লাগতে পারে। এবার শ্বাস সম্পূর্ণ ফুসফুস ভরে টেনে নিন এবং নিশ্বাস ছাড়ার সময় একটানা ভ্রমরের মতো আওয়াজ করুন। এ অবস্থায় মাথায় কম্পন তৈরি হয়। মনোযোগ রাখবেন দুই ভুরুর মধ্যে। ভ্রমরের মতো করে আওয়াজ করুন। আওয়াজটা একটু জোরেই করবেন, কারণ কান বন্ধ করে মুখে অল্প আওয়াজ করলেও সেটা জোরে শোনা যায়।

কতবার করবেন: রাতে ঘুমানোর আগে হলে ২১ বার করুন। সকালে করার সময় ১০-২১ বার করতে পারেন।

উপকারিতা: এই প্রাণায়াম টানা ১৫-৩০ দিন করার পর উপকার পেতে শুরু করবেন। মাথায় যন্ত্রণা থাকা অবস্থায় এই প্রাণায়াম করার দরকার নেই, স্বাভাবিক অবস্থায় অনুশীলন করুন।

বিজ্ঞাপন

অনুলোম–বিলোম প্রাণায়াম

default-image

যেভাবে করবেন: যেকোনো আসনে মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন। বাঁ হাত কোলের ওপর আলতো করে বিশ্রাম অবস্থায় রাখুন। অনুলোম বিলোম প্রাণায়ামে সব সময় ডান হাত ব্যবহার করা ভালো। ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে নাকের ডান ছিদ্র বন্ধ করুন এবং বাঁ ছিদ্র দিয়ে ফুসফুস ভরে শ্বাস নিন। এবার মধ্যমা ও অনামিকা (হাতের তৃতীয় ও চতুর্থ আঙুল) দিয়ে নাকের বাঁ ছিদ্র বন্ধ করুন। ডান ছিদ্রের বৃদ্ধাঙ্গুলি উঠিয়ে পুরো নিশ্বাস ছেড়ে দিন। আবার সঙ্গে সঙ্গে ডান ছিদ্র দিয়ে শ্বাস টেনে নিন। এরপর বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে নাকের ডান ছিদ্র বন্ধ করে বাঁ ছিদ্রের আঙুলদ্বয় উঠিয়ে নিশ্বাস ছাড়ুন। আবার বাঁ ছিদ্র দিয়ে শ্বাস টেনে নিন। এভাবে চক্রটি চলতে থাকবে।

গতি: মাথাব্যথার জন্য আমরা অনুলোম-বিলোম প্রাণায়ামে দুই ধরনের গতি ব্যবহার করতে পারি। ১. স্বাভাবিক গতি—এ ক্ষেত্রে সাধারণ বা স্বাভাবিক গতিতেই শ্বাসপ্রশ্বাস চালাবেন, যখন মাথাব্যথা থাকবে না, তখন অনুশীলনের সময় এই গতি ব্যবহার করুন। ২. ধীরগতি—যখন মাথাব্যথা থাকে তখন অত্যন্ত ধীরে (৮ সেকেন্ডে একবার শ্বাস নেবেন ও পরবর্তী ৮ সেকেন্ড নিশ্বাস ছাড়বেন) এই প্রণায়াম করুন। আস্তে আস্তে সময় বাড়াতে পারেন। চেষ্টা করবেন এ ক্ষেত্রে নিঃশব্দে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ায়। সম্পূর্ণ মনোযোগ শ্বাসের দিকে দেবেন।

উপকারিতা: মাথাব্যথা কমানো ছাড়াও অনুলোম-বিলোমের অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে। রক্ত সঞ্চালন থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সুস্থতার জন্য অনুলোম-বিলোম চমৎকার একটি শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম।

নাশাকাসন

default-image

যেভাবে করবেন: নাশাকাসন (চাইল্ড পোজ) খালি পেটে করবেন। প্রথমে বজ্রাসনে বসুন। মাথাব্যথার জন্য বজ্রাসন করার সময় দুই পায়ের মধ্যে সামান্য ফাঁক রেখে বসুন। দুই পায়ের পাতা, ঊরু ও হাঁটুদ্বয় পরস্পর থেকে সমান দূরে থাকবে। ফাঁক ততটাই রাখবেন যাতে আপনার পেট ঝুঁকে পড়া অবস্থায় দুই ঊরুর মধ্যে বিশ্রাম করতে পারে। এবার শ্বাস টানতে টানতে দুই হাত সোজা করে মাথার ওপরে তুলুন। সামনের দিকে ঝুঁকতে ঝুঁকতে নিশ্বাস বাইরে বের করুন এবং হাত দুটিকে সামনের দিকে ছড়িয়ে হাতের পাতা নিচের দিকে রেখে কনুই পর্যন্ত দুটি হাত মাটির সঙ্গে ঠেকিয়ে দিন। কপালও যেন মাটির সঙ্গে লেগে থাকে।

সময়কাল: ৩০-৬০ সেকেন্ড এভাবে থেকে আবার বজ্রাসনের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন। এভাবে মোট-৩-৫ বার করুন।

উপকারিতা: মাথাব্যথা সারানোর পাশাপাশি এই আসনের বহুবিধ উপকার রয়েছে। হৃদ্‌রোগীদের হৃৎপিণ্ডের জন্য খুব উপকারী এই ব্যায়াম। নারীদের গর্ভাবস্থায় শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। টেনশন, ক্রোধ, রাগ, খিটখিটে মেজাজ দূর করে।

লেখক: যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন