default-image

মায়ের কাছেই তো মেয়ের সব কাজের হাতেখড়ি। ছোটবেলা থেকেই মা তাঁর মেয়েকে রাজকন্যার বেশে সাজাতে ভালোবাসেন। কখনো পরির বেশে, কখনো টুকটুকে লাল বউয়ের সাজে। আর দেখতে দেখতেই একসময় মা–নির্ভর হয়ে যান আদরের মেয়ের কাছে। আর তখন মেয়ে সাজান তাঁর প্রিয় মাকে। মা-ই মেয়ের কাছে হয়ে যান রানি।

শুকতারাকে বলতিস কি, আয় রে নেমে আয়,

তোর রূপ যে মায়ের কোলে বেশি শোভা পায়।...

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই কবিতার মতো মেয়ের কাছে চাঁদের মতোই সুন্দর তাঁর মা। তবে এখন সময় বদলেছে। মেয়েই হয়েছে এখন মায়ের কাছে মা। সাজসজ্জার পরিবর্তনের নতুন সময়ে মা-ও যেন নতুনকে গ্রহণ করতে পারেন, তাই মেয়ে নিজ হাতেই তুলে নেয় দায়িত্ব। আর এতে মায়ের সঙ্গে বন্ধুত্বও হয়ে ওঠে অটুট। শুধু সাজসজ্জার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, জীবনের নানা ক্ষেত্রেই মেয়ে হয়ে ওঠে মায়ের গাইড কিংবা পরামর্শক।

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী দিনাত জাহান এবং তাঁর দুই মেয়ে প্রেরণা ও প্রতীক্ষার গল্পটাও এমন। এখানেও ভিন্ন কিছু নয়। স্মৃতির পাতা উল্টে দিনাত জাহান জানালেন, একসময় দুই মেয়েকে সাজাতেন তিনি। আর এখন সাজসজ্জাসহ সবকিছুতেই মেয়েদের প্রাধান্য দেন।

‘ভূমিকার এই পরিবর্তন খুব সহজভাবেই গ্রহণ করতে হয়। একসময় যে কাজগুলো আমি করতাম, তা এখন মেয়েরা করছে। একটা সময় অনেক বিষয় নিয়েই তাদের বোঝাতাম। কোন কাজটি ঠিক, কোথায় কেমন করে কথা বলতে হবে। এখন মেয়েরাই আমাকে পরিবর্তনগুলো বোঝাচ্ছে। এতে মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গাঢ় হয়, বাড়ে যোগাযোগও। এ ছাড়া সাজসজ্জার সময় তাদের গল্প শোনা ও নানা আলোচনাও করা যায়।’ বেশ আনন্দের সঙ্গেই বললেন মা দিনাত জাহান।

বিজ্ঞাপন
default-image

মায়ের শাড়ি থেকে শুরু করে গয়না, চুল থেকে শুরু করে ফুল। কোনটিতে মা হয়ে উঠবেন সবার থেকে আলাদা। যেকোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে প্রেরণা ও প্রতীক্ষার প্রধান চিন্তা এটাই। দুই বোন বলছিলেন, ‘মা পরিবর্তনকে খুব সহজভাবে গ্রহণ করেন। হোক সেটা সাজসজ্জায় বা অন্য কিছুতে। আর আমাদের ওপর মায়ের বিশ্বাস অনেক, তাই সব সময়েই প্রশংসা করেন আমাদের সাজের ও কাজের।’ কোন অনুষঙ্গ ছাড়া মায়ের সাজ পূর্ণতা পায় না? মেয়েদের উত্তর বাঙালি শাড়ি, হালকা মেকআপ আর চুল দেওয়া কিছু ফুল।

মায়ের হাতে মেয়ের সাজ

মেয়ে যখন শিশু, তাকে তো মা–ই সাজাবেন। যেমন ঊর্মি নূরের কথাই ধরা যাক। তিনি একজন কর্মজীবী মা। কাজ করছেন একটি মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে। তাঁর মেয়ে সংস্কৃতির বয়স ৫। খুব ছোট থেকেই মেয়েকে নিজ নকশার কাপড়ে সাজাতে ভালোবাসেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মেয়েকে শাড়ি বা দেশি কাপড় পরিয়ে ছবি তোলেন তিনি। এখন ধীরে ধীরে এই আনন্দের মুহূর্তগুলো বুঝতে পারছে সে। বললেন ঊর্মি নূর। তিনি এও জানালেন, একদিন হয়তো মেয়ে সংস্কৃতির হাতে সাজতে হবে তাঁকে।

বেশি কৌতূহলী নয়

ছোটবেলায় শিশুরা অনেক কৌতূহলী হয়। তখন তাদের জানতে চাওয়ার ও বুঝতে চাওয়ায় শেষ থাকে না। কিন্তু মা সন্তানের সব কৌতূহলের বিষয়েই তাদের জানান না। যতটা সন্তানের জন্য ভালো ততটাই শেখান। ঠিক তেমনি একটা সময় পর মায়েরাও বিভিন্ন বিষয়ে হয়ে ওঠেন কৌতূহলী। এমনকি অনেক সময়ে কারও ব্যক্তিগত বিষয়েও করে ফেলেন প্রশ্ন। এমন পরিস্থিতে মেয়েরা একইভাবে বোঝাতে পারেন মাকে।

নতুন সামাজিকতার সঙ্গে পরিচয়

মা-ই সন্তানকে শেখান সামাজিকতা ও বন্ধুদের সঙ্গে মেশার সঠিক কায়দাকানুন। কিন্তু মেয়ে একটু বড় হওয়ার পর তার কাছ থেকে মা শিখতে পারেন নতুন হাল সময়ের নানা কিছু। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগে সাহায্য করতে পারে মেয়েরাই।

একসময় মায়ের কাছ থেকেই ভালো খারাপ, সঠিক ভুল জেনেছে মেয়ে। আর যে পথে মেয়েকে নিয়ে চলেছেন মা, সেই চিরচেনা পথে আজ মাকেই পথ দেখাচ্ছেন তাঁর মেয়ে। সাজসজ্জা থেকে শুরু করে সংসার ও জীবনের সব ক্ষেত্রে অনেক ছোটখাটো বিষয়েই মেয়ে পরামর্শ দেন মাকে। এমনকি কোনো অনুষ্ঠানে গেলে কোন শাড়িতে ভালো মানাবে, সেটিও মেয়ের মতামতের ওপর ছেড়ে দেন অনেক মা। হঠাৎ মায়ের কোনো কথায় বা কাজে কেউ কষ্ট পেল কি না, তা বুঝিয়ে দিতেও পারে এই প্রজন্মের সন্তানেরা। সব জায়গায় নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়ার চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে মেয়েরাই মাকে সাহায্য করে। তাই বলা যায়, মায়ের দেখানো পুরোনো পথেই চলে মেয়েরা। মায়ের অভিজ্ঞতাকে যেন হালনাগাদ করে কাজে লাগায় তারা।

বিজ্ঞাপন
প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন