যেভাবে বই পড়া শিখলাম

বাবার স্বপ্ন

আমি এখন আর গাঁও গ্রামে থাকি না। বন্ধুদের সঙ্গে আর মাঠে খেলতে যাওয়া হয় না। বৈশাখ মাসের গাঁয়ের মেলায় সার্কাস দেখা আর হয় না। সবচেয়ে বড় কথাটা হচ্ছে, বাবার আদরে ভাগ বসাতে পারি না। বাবার সঙ্গে মাঠে যেতে পারি না। রোজ বাবার পিঠে চড়ে বাজারে যেতে পারি না। কারণ, আমি এখন ইট-পাথরের শহরে থাকি। আমার বাবার স্বপ্ন, ছেলেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা। দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে তাঁর ছেলে। তাই বাবা আমাকে শহরে পাঠিয়েছেন লেখাপড়া করার জন্য। নিজে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমার লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন। তুমি আমাকে চলতে শিখিয়েছ বাবা। চলার পথে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলে তুমি কোলে করে নিয়ে বাকি পথ এগিয়ে দিয়েছ। আজ এই ইট-পাথরের শহরে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলে কেউ কাছে আসে না। কিন্তু এই শহরের কিছু ছেলে আমার বন্ধু হয়েছে। তাদের সঙ্গে আমি চলাফেরা করি। এখন তারাই আমার কাছের মানুষ। তুমি কোনো চিন্তা কোরো না বাবা। আমি তোমার স্বপ্ন একদিন সত্যি করবই। আল্লাহ তুমি আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করে দিয়ো।

শাকিব হুসাইন, দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর

বাবার আদুরে পুতুল

তোমার সঙ্গে রোজ ফোনে কথা হয়, তবুও জানি না কেন আজ এভাবে লিখতে ইচ্ছে করল। জানো বাবা, কদিন ধরে তোমার মেয়েটার মন না খুব খারাপ। মেয়েটা তোমাকে খুব মিস করে। ছোট্টবেলা থেকেই তো তোমায় একটু মন ভরে কাছে পেলাম না। মেয়েকে সময়-ই দিতে পারো না! একটা সন্তানের কাছে তার মা-বাবা, বিশেষ করে বাবা কোন মাত্রার নির্ভরতা বা সাহসের জায়গা, তুমি বোঝো না? মায়ের মতো বাবার বুকেও তো ভিন্ন মাত্রার অনুভূতি, শান্তি। তাহলে তুমি চিরকাল আমার থেকে এমন দূরে দূরে থাকলে কে দেবে এই শান্তি আমায়? কে পারবে তোমার এই শূন্যতা থেকে আমায় মুক্ত করতে? কেউ পারবে না বাবা। খুব ইচ্ছে করছে তোমায় জড়িয়ে ধরে কতগুলো চুমু দিতে। অফিসের সব কাজ ফেলে চলে এসো তো। এত কাজ করতে হবে না।

তুমি তো আমার অনেক আদরের লক্ষ্মী বাবা, পৃথিবীর সবার চেয়ে ভালো বাবা। তোমার মেয়েরা এটা জানে যে তাদের বাবা তাদের দুই-বোনকে কত্ত ভালোবাসে। পৃথিবীর আর কোনো বাবা নিজের মেয়েকে আমার বাবার মতো এত সুন্দর করে ‘মা’ কিংবা ‘পুতুল’ বলে ডাকতেই পারবে না।

বাবা, কত অহংকার আমার তোমায় নিয়ে। মাঝেমধ্যে তোমাকে শুধু একটু বকা দিই। তা-ও কি এমনি! এই যে এত দূরে থাকো আর সিগারেট খাও, সে জন্যই তো বকা দিতে হয়। তা ছাড়া তোমার সঙ্গে রাগ করে থাকার সাধ্য কি তার আছে?

মেধা রহমান, খুলনা

আমি কি পারব?

আমি কি পারব আমার মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাতে? তাঁদের চোখে আনন্দের উজ্জ্বল ঝিলিক দেখতে? আমার ওপর আমার পরিবার, স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধু, শিক্ষকদের যে বিশ্বাস, তা ধরে রাখতে পারব কি? পারব কি জীবনে সফল হয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আমাকে পারতেই হবে! আমার স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতেই হবে। আমার সন্দেহগুলোকে হারিয়ে, অক্ষমতাগুলোকে হটিয়ে আমি আজ থেকেই সামনে চলার দীক্ষা নিলাম। যত বাধাই আসুক না কেন, পা বাড়িয়ে সামনের পথে এগোতেই থাকব। আমি হবই হব আমার দেশের গর্ব। আমার মনের বাক্সে আজ থেকে থাকবে আমার ভরপুর আত্মবিশ্বাস।

পারুল আক্তার, দিনাজপুর সরকারি কলেজ।

যেভাবে বইপোকা হলাম

বই পড়া শিখেছি কার কাছে, সেটা আজ আর মনে নেই। তবে ছোটবেলা থেকে আমার নানাকে দেখতাম সারা দিন শুয়ে শুয়ে বই পড়তে। যখন ক্লাস টু বা থ্রিতে পড়ি, তখন বিটিভিতে ‘আলিফ লায়লা’ দেখাত। তখন সিরিয়ালটি শেষের দিকে। টানটান উত্তেজনা সিরিয়াল ঘিরে। পরের পর্বে কী হবে সবাই সেটা জানার জন্য অপার হয়ে বসে থাকে। একদিন নানা বাড়ির পুরোনো বইয়ের স্তূপে প্রচ্ছদ ছাড়া একটা বই পেলাম, নাম আলিফ লায়লা। কিছুটা পড়ে বুঝলাম, এত দিন সিরিয়ালে যা দেখানো হয়েছে মোটামুটি তা লেখা আছে এই বইতে। পরের পর্ব থেকে আমি অ্যাডভান্স প্রফেসি করা শুরু করলাম। শুক্রবার আসার আগেই বলা শুরু করলাম আগামী পর্বে কী হবে। বিধিবাম। সিরিয়ালটা বই হাতে পাওয়ার পর আর হয়তো মাস দুয়েক, মানে আট সপ্তাহের মতো চলেছিল। এই আট সপ্তাহের ভবিষ্যৎ বক্তা হওয়ার অনুভূতি পরবর্তী সময়ে আমাকে বই পড়তে তীব্রভাবে আলোড়িত করেছিল। এরপর থেকেই মূলত আমার বই পড়া শুরু।

নিজে বই পড়ব এবং অন্যকে বই পড়িয়ে আলোকিত করে ফেলব, এমন একটা ঘোর সব সময় আমার ভেতর কাজ করেছে। অগণিত মানুষকে ইচ্ছায়, অনিচ্ছায়, সচেতন বা অবচেতনভাবে বই পড়তে উৎসাহ দিয়েছি। বড়দের পাশাপাশি আমার আশপাশের প্রায় সব বাচ্চাকেই আমি বই পড়াতে আগ্রহী করার চেষ্টা করেছি। পরিচিতদের মধ্যে যাদের বই পড়ায় আগ্রহী করতে চেয়েছি, তাদের অনেকেই আলোকিত হয়েছে, অনেকে হয়নি। অনেকে বই পড়ে আরও একটু জ্ঞানী বা ভালো হয়ে উঠেছে। তারপরও মাঝেমধ্যে গভীর রাতে মানুষকে বই পড়াতে চাওয়ার কথা ভেবে এক প্রকার তৃপ্তি পাই। রাতে এসব বেশি মনে আসে। কারণ, দিনে হাজারটা চোখ-কান খোলা থাকে। কিন্তু রাতের মাত্র একটিই চোখ, একটাই ভাবনা। যে চোখে দিনের হাজারটা চোখের চেয়েও বেশি দেখতে পাওয়া যায়। গভীরভাবে দেখতে পাওয়া যায়।

মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম, শিক্ষার্থী, তেজগাঁও, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন
প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন