default-image

সর্বাঙ্গাসন

যেভাবে করবেন

চিত হয়ে সোজা শুয়ে পড়ুন। পা দুটি পরস্পরের সঙ্গে মিলে থাকবে, হাত দুটি শরীরের দুই পাশে রেখে হাতের পাতা মাটির দিকে করে রাখুন। শ্বাস টেনে নিতে নিতে পা দুটিকে ধীরে ধীরে প্রথমে ৩০, এরপর ৬ এবং শেষে ৯০ ডিগ্রি কোণে ধীরে ধীরে ওঠান। ওপরের দিকে ওঠানোর সময় হাতের সহায়তা নিতে পারেন। পা যদি ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত সোজা না হয়, তাহলে ১২০ ডিগ্রি পর্যন্ত পা নিয়ে গিয়ে হাত দুটি তুলে কোমরের সঙ্গে লাগান। হাতের কনুই মাটির সঙ্গে লেগে থাকবে বা কোমর ধরে রাখতে পারেন। দুটি পাকে একসঙ্গে মিলিয়ে সোজা করে রাখুন। পায়ের পাতা ওপরের দিকে উঠে থাকবে। চোখ বন্ধ রাখতে পারেন, খোলা রাখতে চাইলে পায়ের বুড়ো আঙুলের ওপর দৃষ্টি রাখুন। নামিয়ে আনার সময় পা দুটিকে সোজা রেখে পেছনের দিকে একটু ঝুঁকে পড়ুন। এরপর কোমরে হাত দিয়ে ধরে রেখে ধীরে ধীরে ক্রমান্বয়ে পিঠ, কোমর ও নিতম্ব মাটিতে রাখার পর ধীরে ধীরে পা নামান। যতটা সময় সর্বাঙ্গাসন করবেন, ঠিক ততটা সময় শবাসনে বিশ্রাম নিন।

বিজ্ঞাপন

সময়কাল

২ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত করা যেতে পারে।

উপকার

চুলে পুষ্টি জুগিয়ে চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে। চুল পড়া কমায়। থাইরয়েড, অ্যাড্রিন্যাল, শুক্রগ্রন্থি, ডিম্বগ্রন্থিকে এই আসন শক্তিশালী করে।

সাবধানতা

ঘাড়ে ব্যথা থাকলে, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এই আসন করবেন না।

default-image

শীর্ষাসন

যেভাবে করবেন

প্রথম অবস্থায় দেয়ালের সহায়তা নিয়ে এই আসন করা ভালো। লম্বা কোনো কাপড় দিয়ে গোলাকার গদির মতো বানান। দুই হাতের আঙুলগুলো পরস্পরের মধ্যে ফাঁসিয়ে কনুই পর্যন্ত হাত মাটির ওপরে রাখুন। গদিকে হাতের মাঝখানে রাখুন। মাথার অগ্রভাগ গদির ওপর এবং হাঁটু মাটির ওপর থাকবে। এবার শরীরের ভার গ্রীবা এবং কনুইয়ের ওপরে সঞ্চালন করে পা দুটিকে মাটির সমান্তরাল রেখায় ওপরের দিকে সোজা তুলে ধরুন। এবার এক হাঁটুকে মুড়ে ওপরের দিকে তুলুন, এরপর অন্য হাঁটুও ওপরে তুলে মুড়ে রাখুন। এবার মোড়া হাঁটুকে একেক করে ওপরে তোলার চেষ্টা করুন। পেছনে দেয়াল থাকলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না। বেশ কিছুদিন এভাবে অনুশীলন করে শরীরে ভারসাম্য চলে আসবে। তখন আর দেয়ালের সাহায্য লাগবে না।

শীর্ষাসনে থাকা অবস্থায় চোখ বন্ধ রাখলে ভালো হয়। শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি স্বাভাবিক রাখুন। যে ক্রমে পা ওপরের দিকে উঠিয়েছিলেন, সেই ক্রমে পা আগের অবস্থায় নিয়ে আসা উচিত। নিজের প্রকৃতি অনুযায়ী শীর্ষাসন করার পরে শবাসন করুন বা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ুন। রক্ত সঞ্চালন যেটা এতক্ষণ মস্তিষ্কের দিকে হচ্ছিল, সেটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

সময়কাল

এই আসন ১৫ সেকেন্ড থেকে শুরু করে ৩০ মিনিট পর্যন্ত করতে পারেন। বেশি সময়ের অভ্যাস কারও সান্নিধ্যে করুন। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ৫ থেকে ১০ মিনিট পর্যাপ্ত।

উপকার

শীর্ষাসন হচ্ছে সব আসনের রাজা। এতে চুল পুষ্টি পায়। অকালে চুল পড়ে যাওয়া বন্ধ করে। মস্তিষ্ক শুদ্ধ রক্তপ্রাপ্ত হয়। পিটুইটারি ও পিনিয়াল গ্রন্থিকে সুস্থ করে তোলে।

সতর্কতা

হৃদ্‌রোগী, উচ্চ রক্তচাপের ব্যক্তি বা কোমরযন্ত্রণায় ভুগতে থাকা ব্যক্তিরা এই আসন করবেন না। কোনো ভারী ব্যায়াম করার ঠিক পরেই শীর্ষাসন করতে যাবেন না। এ আসন করার সময় শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকা উচিত। সর্দি-কাশি হলেও এই আসন করা উচিত নয়।

লেখক: যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক

মন্তব্য পড়ুন 0