বিজ্ঞাপন

যাঁরা এ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের অনেকে ভেবে থাকেন, এই কষ্টকর মুহূর্তগুলোর কথা মনে না করে নিজের মধ্যে রেখে দেওয়াই ভালো। কিন্তু তখন এই ট্রমাটিক মুহূর্তগুলো ভেতরে ভেতরে আরও বড় হতে থাকে, যা কিন্তু পরবর্তী সময়ে আরও বেশি হতাশা, দুশ্চিন্তা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। এ থেকে একসময় দেখা দিতে পারে শারীরিক অসুস্থতা। তাই নিজের প্রতি যত্নশীল হয়ে এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে হবে এমন কারও সঙ্গে, যে এই কথাগুলো মন দিয়ে গুরুত্বসহকারে শুনবে। এ অবস্থায় একা থাকতে ইচ্ছা করলেও সেটা ঠিক নয়। তার চেয়ে প্রিয় কিছু মানুষের সান্নিধ্য এ পরিস্থতি থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করবে। জীবনের বিভিন্ন তাগিদে আমরা নিজেকে সময় দিতে চাই না। কিন্তু সময় বের করে নিজের যা কিছু ভালো লাগে, তা নিয়ে থাকা এ পরিস্থিতিতে কার্যকর। এ ছাড়া যদি খুব বেশি চাপের কারণ হয়, তাহলে করোনাসংক্রান্ত খবর দেখা কমিয়ে দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার কিংবা বিশ্রাম নিলে ভালো ফলাফল মিলবে।

ট্রমায় থাকা মানুষের আশপাশে যাঁরা আছেন, তাঁরাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন। অনেক সময় আমরা ভাবি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঠিক হয়ে যাবে কিংবা যে মানুষ প্রিয়জনের মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে আছেন, তাঁকে বলি শক্ত হতে। কারও কারও ধারণা এ বিষয়ে কথা না বললেই হয়তো ওই মানুষ ভালো থাকবে। অথবা অন্য আরও অনেকের ক্ষতির সঙ্গে তুলনা করাও কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি নয়। আমরা যদি সত্যি সাহায্য করতে চাই, তাহলে তাঁর কথা শুনতে হবে। তাঁর পাশে থাকতে হবে, অনুভূতিগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। যদি কিছু বলার না–ও থাকে, তবে চুপ করে পাশে থেকেও সাহায্য করা যায়।

শরীরে কোনো ক্ষত হলে যেমন আমরা যত্ন নিয়ে থাকি, তেমন এ পরিস্থিতিতে আমাদের মনের ভেতর হয়ে যাওয়া ক্ষতগুলোর যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। তাই মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন প্রয়োজন। প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলার ব্যাপারে সংকোচকে দূর করতে হবে।

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন