default-image

প্রশ্ন: আমার বয়স ২৫। পেশায় সরকারি চাকুরে। এ বছরের শেষ দিকে আমার বিয়ে হওয়ার কথাবার্তা চলছে। ৫ বছরের প্রেমের পর এই বিয়ের পরিকল্পনা। কিন্তু অনেক দিন ধরে আমার মনে হচ্ছে, আমার হবু বর আমাকে তেমন ভালোবাসে না। এ কথা জিজ্ঞেস করলে সে বলে, ‘তবে কেন বিয়ে করছি তোমাকে, কেন এত দিন আছি?’ এ কথার উত্তর দিতে পারি না। তবুও আমি বিশ্বাস করি, সে আমাকে তেমন ভালোবাসে না, কারণ সে আমাকে আনুষ্ঠানিকভােব প্রস্তাব দেয়নি। কোনো দিন সারপ্রাইজ দেয়নি, চাকরির কারণে দূরে থাকার পরও হুট করে দেখা করতে আসেনি। কিন্তু সে বলে, এগুলো আমার ভুল ধারণা। এটা নিয়ে আমি কিছুতেই শান্তি পাচ্ছি না। প্রায়ই ঝগড়া হয়, কান্নাকাটি করি।

এক মাস ধরে আরও কিছু সমস্যা হচ্ছে। অফিস থেকে ফিরে প্রচণ্ড মন খারাপ লাগে, পড়াশোনা (চাকরির) ভালো লাগে না, গান গাইতে, গল্পের বই পড়তে ভালো লাগে না, ফেসবুকে আসক্তি বেড়েছে। কিন্তু ফেসবুক বা পত্রিকায় দীর্ঘ লেখা পড়ার ধৈর্য পাই না। ফেসবুকে কারও ঘোরাঘুরির ছবি দেখলে বা বিয়ে করতে দেখলে প্রচণ্ড বিরক্ত লাগে, হয়তো হিংসাও হয়। ঘুমানোর সময় অফিসের বা অন্যান্য চিন্তা ভর করে, তাই ঘুম আসতে অনেক দেরি হয়। বাধ্য হয়ে ইন্টারনেট ঘেঁটে ট্রফানিল (২৫ এমজি) ওষুধ খেতে শুরু করেছি, এতে মনে হচ্ছে একটু ভালো আছি। যদিও জানি অনেক ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। মা-বাবাকে িবষয়টি বলতে পারিনি, আমার ধারণা সেটা তাঁরা বুঝবেন না। হবু বরকে বললেও সে পাত্তা দেয়নি, তাই তার সঙ্গে আমি যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। আমি কি বিষণ্নতায় ভুগছি? নাকি সবই আমার মনের ভুল? উল্লেখ্য, আমি জুলাই মাসে কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছিলাম। আমি ভালো থাকতে চাই, দয়া করে আমাকে পরামর্শ দিন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

বিজ্ঞাপন

উত্তর: তোমাদের পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের কোন পর্যায়ে এসে এ ধরনের শঙ্কা বা চিন্তাগুলো শুরু হলো, তা কি বোঝার চেষ্টা করেছ? প্রথম দিকে ছেলেটিকে কি অনেক বেশি আন্তরিক মনে হতো? তখন কি তোমার সঙ্গে দেখা করার জন্য উতলা থাকত? তুমি প্রথম থেকেই চাকরিজীবী ছিলে কি না, তা-ও বুঝতে পারছি না। এমনটি কি হতে পারে, সরকারি চাকুরে হওয়ার পর তুমিও একটু বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়াতে সম্পর্কটির প্রতি খুব একটা মনোযোগ দেওয়া তোমার পক্ষেও সম্ভব হয়নি? ছেলেটিও একটু একটু করে সরে যাচ্ছে বলে তোমার অভিযোগের মাত্রাটি বেশি হয়ে গেছে কি না, তা-ও একটু ভেবে দেখতে পারো। অনেক সময় আমরা অবচেতন মানসিক স্তরটি থেকে এমন কিছু আচরণ করে ফেলি, যা আসলে মন থেকে করতে চাইনি। যদি মনে হয় যে তোমার দিক থেকে তেমন কোনো নেতিবাচক আচরণ ঘটেনি, বরং তুমি অনেক বেশি চেষ্টা করেছ সম্পর্কটিকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে, তাহলে ছেলেটির এই ধরনের উদাসীনতার কারণগুলো আরও ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা কোরো। ছেলেরা অনেক সময় বিয়ের কথা সম্পূর্ণ ঠিক হয়ে যাওয়ার পর ভেবে নেয়, সম্পর্কটি তো স্থায়ী হয়েই গেল, কাজেই এর পেছনে আর বেশি সময় বা এনার্জি দেওয়ার দরকার নেই। তাই শুরুতে তার মধ্যে যে উৎসাহ ছিল, সেটির একটু ঘাটতি হতে দেখা যায়।

এ ছাড়া ছেলেরা প্রায়ই মন খুলে তাদের আবেগের দিকটি তুলে ধরে না বলে মেয়েরা এই জায়গাটিতে বেশ অসহায় বোধ করে। এগুলো অবশ্য আমার নিজের মতামত নয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি এই বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছি। তোমার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কটির ক্ষেত্রে দ্বিধা বা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, তাই জরুরি কাজ ও বিনোদনমূলক বিষয়গুলোতে আগের মতো নিজেকে সংযুক্ত করতে পারছ না। নিজে বিষণ্ন আছ, তাই অন্যের আনন্দ দেখলে তোমার যে মনটা কেঁদে ওঠে বা রাগ লাগছে, সেটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। নিজেকে এভাবে দোষারোপ কোরো না, কেমন? তুমি যে নিজেই নিজের প্রেসক্রিপশন দিয়েছ, সেটি ঠিক নয়। অনেক মনোরোগবিশেষজ্ঞ টেলিমেডিসিনের সেবা দিচ্ছেন। তুমি কারও সঙ্গে আলোচনা করে ওষুধ খাওয়ার নিয়ম ঠিকমতো জেনে নিয়ো। মা-বাবা বুঝতে না পারলেও তুমি তাঁদের সঙ্গে (কোনো প্রত্যাশা না রেখেই) শেয়ার করতে পারো, তাতে মন হালকা হবে। কোভিড-১৯ থেকে মুক্ত হওয়ার পরও শরীর সম্পূর্ণ ঠিক হতে অনেকেরই বেশ সময় লেগে যাচ্ছে। কাজেই কিছুটা স্বার্থপরের মতো অবশ্যই নিজের পরিপূর্ণ যত্ন নেবে। তোমাদের বিয়েটা যদি এত দিনে হয়ে গিয়ে থাকে এবং এখনো মনের অশান্তি চলতে থাকে, তাহলে তুমি কোনো মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলরের কাছ থেকে সেবা গ্রহণের উদ্যোগ নিতে পারো। আশা করছি তুমি নিজেকে সবচেয়ে বেশি ভালোবেসে এই বিষণ্নতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এতে শুধু বিষণ্নতা থেকে বেরিয়ে আসাই নয়, তুমি নিজের আরও একটি উন্নত সত্তা তৈরি করো, যাতে জীবনের অন্য গন্তব্যগুলোতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি শুরু হয়।

পাঠকের প্রশ্ন পাঠানো যাবে ই–মেইলে, ডাকে এবং প্র অধুনার ফেসবুক পেজের ইনবক্সে।

ই–মেইল ঠিকানা: adhuna@prothomalo.com (সাবজেক্ট হিসেবে লিখুন ‘পাঠকের প্রশ্ন’)

ডাক ঠিকানা: প্র অধুনা, প্রথম আলো, প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবন, ২০–২১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫। (খামের ওপর লিখুন ‘পাঠকের প্রশ্ন’)

ফেসবুক পেজ: fb.com/Adhuna.PA

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন