বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন

আমি একজন ব্যবসায়ী ও অবিবাহিত। ফেসবুকে আমার সঙ্গে বরিশালের এক বিবাহিত নারীর প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিচয়ের শুরুতে জানতাম, সে খুব একাকিত্বে ভুগছে। শুনেছিলাম, সে তার প্রবাসী স্বামীর নীরব অবহেলার শিকার। এসব কারণে তার প্রতি আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়ি। তার সঙ্গে কিছু সময় কথা না হলেই আমার বুকে ব্যথা হতো। একাধিকবার তার সঙ্গে আমার শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে। মুখে বলে সে আমাকে তার স্বামীর স্থানে বসিয়েছে। তার শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক, সাংসারিক সব ইচ্ছা আমাকে দিয়ে পূরণ করত।

পরে আমি তার ভিন্ন রূপ খুঁজে পাই। জানতে পারি, আমার সঙ্গে প্রেমের আগে সে তার বাবার বাড়িতে একাধিক সম্পর্কে জড়িয়েছে। তাদের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। একদিকে সে আমার কাছে স্বামীর সম্পর্কে বলছে, অন্যদিকে পুরোনো প্রেমিকদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে, শারীরিক সম্পর্কেও জড়াচ্ছে।

বিশ্বাস করে তাকে আমি ভালোবেসেছিলাম। আমার বিশ্বাস আর ভালোবাসা নিয়ে সে ছিনিমিনি খেলছে। প্রতিনিয়ত আমি প্রতারিত হচ্ছি। আমি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাই না। তবে তার শাস্তি চাই। কীভাবে আইনি সহায়তা পেতে পারি?

রাসেল ইসলাম, চাঁদপুর সদর

উত্তর

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। প্রথমেই বলতে চাই, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। এবার আপনার প্রশ্নের উত্তরে আসছি। আপনি বলেছেন, মেয়েটি আপনার কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছেন এবং বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। প্রেমে প্রতারণার কোনো আইনি প্রতিকার সাধারণত নেই। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে যখন কেউ প্রেমের অভিনয় করে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে কারও কাছ থেকে কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা বা তাঁর ওপর প্রভাব বিস্তার করে কোনো কিছু আদায় করেন, সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনা যেতে পারে। তবে এসব অভিযোগ আপনাকে আদালতের সামনে প্রমাণ করতে হবে।

দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তি যদি অসৎ উদ্দেশ্যে কারও ওপর প্রভাব বিস্তার করেন, তাঁর কাছ থেকে কোনো কিছু আদায় করেন, সেটা ওই ব্যক্তির সম্মতি সাপেক্ষে হলেও প্রতারণা হবে। এই অপরাধের জন্য এক বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। যদি আপনি প্রমাণ করতে পারেন যে আপনার প্রেমিকা আপনার কাছ থেকে কোনো সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রেম করেছেন এবং আপনার বিশ্বাস অর্জন করে তারপর আপনার ক্ষতি সাধন করেছেন, তবে অবশ্যই এর জন্য আইনি প্রতিকার রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে, ওই নারী প্রতারণার উদ্দেশ্য নিয়েই আপনার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।

তা ছাড়া দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারায় বলা আছে, অপরাধজনিত বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দোষী হলে দায়ী ব্যক্তি তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবেন। বিশ্বাসভঙ্গ একটি জামিন অযোগ্য অপরাধ। থানায় এজাহার দায়ের করে মামলা করা যায় অথবা আদালতে সরাসরি মামলা করা যায়।

কোনো সম্পর্কে ভাঙন ধরলে অনেক সময় এক পক্ষ আবেগের বশবর্তী হয়ে বা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য অপর পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মামলাগুলোর তেমন কোনো আইনগত ভিত্তি থাকে না। ফলে সেসব মামলা পরবর্তী সময়ে আর টেকে না। কাজেই আবেগের বশবর্তী হয়ে এ ধরনের মামলা না করার পরামর্শই দেব। এতে আপনার সময় ও অর্থের অপচয় হবে।

পাঠকের প্রশ্ন, বিশেষজ্ঞের উত্তর

পাঠকের প্রশ্ন পাঠানো যাবে ই–মেইলে, ডাকে এবং প্র অধুনার ফেসবুক পেজের ইনবক্সে।

ই–মেইল ঠিকানা: [email protected]

(সাবজেক্ট হিসেবে লিখুন ‘পাঠকের প্রশ্ন’)

ডাক ঠিকানা

প্র অধুনা, প্রথম আলো, প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবন

২০–২১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫। (খামের ওপর লিখুন ‘পাঠকের প্রশ্ন’)

ফেসবুক পেজ: fb.com/Adhuna.PA

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন