default-image

প্রশ্ন ১. আমার এক আত্মীয়া গোপনে একটি ছেলেকে বিয়ে করেন, যা দুই পরিবারের কেউ জানতেন না। দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। বিয়ের পর কিছু সমস্যার কারণে আমার আত্মীয়া মেয়েটি স্বামীকে তালাকও দিয়েছেন। প্রতিশোধ হিসেবে এখন ছেলেটি বিয়ের আগের ও পরের অনেক ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে মেয়েটি কি মামলা করতে পারেন?

ফাহিম করিম, ঢাকা

উত্তর: আপনার আত্মীয়া যদি আইনগত সব নিয়ম পালন করে তালাক দিয়ে থাকেন, তাহলে সে ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। তবে তিনি যদি আইন মেনে সঠিক নিয়মে তালাক না দেন, তাহলে আইনের দৃষ্টিতে তাঁরা এখনো বিবাহিত দম্পতি। এ ক্ষেত্রে যদি তাঁর স্বামী ফেসবুকে স্ত্রীর সঙ্গে ছবি প্রকাশ করেন, সেখানে আইনগত কোনো বাধা নেই। কিন্তু তাঁদের মধ্যে আইনগত বিচ্ছেদ হলে এবং অবমাননাকর বা মিথ্যা কোনো কিছু সেই নারীর সম্পর্কে প্রচার করলে তা আইনত দণ্ডনীয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮–এর ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে, ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে, এমন কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করেন, যা আক্রমণাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক বা মিথ্যা জেনেও, কোনো ব্যক্তিকে বিরক্ত, অপমান, অপদস্থ বা হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ বা প্রচার করেন, তাহলে এর জন্য তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এই অপরাধের শাস্তি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৩ (তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কেউ এ ধরনের অপরাধ একাধিকবার করলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

যদি তিনি ওই নারীকে নিয়ে লোকজনের কাছে আজেবাজে মন্তব্য বা কুৎসা রটান বা কোনো অসত্য বক্তব্য দেন এবং এতে আপনার আত্মীয়া মানহানির শিকার হন, সে ক্ষেত্রে তিনি মানহানির অভিযোগ এনে দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানির মামলা করতে পারেন। ফৌজদারি আদালতে মানহানির মামলা করার ক্ষেত্রে অভিযোগ দায়ের করতে হয়। সে অভিযোগ শুনে আদালত অভিযোগ থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমন জারি করতে পারেন।

তবে মানহানির মামলায় সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় না। সমন দেওয়ার পর যদি কোনো ব্যক্তি আদালতে হাজির না হন, সে ক্ষেত্রে বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন। দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মানহানির শাস্তি বর্ণনায় বলা হয়েছে, এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়বিধ দণ্ড হতে পারে।

প্রশ্ন ২. আমার স্ত্রী আমাকে বিয়ের পর থেকেই অকথ্য নির্যাতন করে। সব সময় আমাকে টাকাপয়সার জন্য চাপ দেয়। আমার মা–বাবার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করে। সে আমার গায়েও অনেকবার হাত তুলেছে। সম্প্রতি সে এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, সে আমার মা–বাবার সামনে আমাকে মারধর করে। আমার মাকে মারতে উদ্যত হয়। একজন পুরুষ হয়ে আমি এই পরিস্থিতিতে আইনের দ্বারস্থ হতে পারি?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

উত্তর: বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার আছে। নারী ও শিশু নির্যাতন আইন নারী ও শিশুদের সুরক্ষার জন্য একটি বিশেষ আইন। পুরুষদের জন্য কোনো বিশেষ আইন নেই। তবে আপনি যেকোনো ব্যক্তির দ্বারা শারীরিকভাবে নির্যাতিত হলে, দেশের অন্যান্য আইনে আপনার আশ্রয় গ্রহণ করার পরিপূর্ণ অধিকার আছে। যেকোনো মানুষের বিচার চাওয়া এবং বিচার পাওয়া একটি সাংবিধানিক অধিকার। কাজেই আপনি বিচার পাবেন না, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। যেহেতু আপনার স্ত্রীর দ্বারা আপনি শারীরিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন, কাজেই আপনার উচিত হবে নিকটস্থ থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা।

এ ছাড়া তাঁর কারণে পারিবারিক বা সামাজিক শান্তি–শৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ায়, কোনো কলহ-বিবাদ তৈরির আশঙ্কা কিংবা বিরক্তিকর কোনো কাজের আশঙ্কা দেখা দিলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে পারেন। দণ্ডবিধির ধারা ৩২৩–এ স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দানের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এখানে বলা আছে, কেউ যদি স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান করে তার শাস্তি হবে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০০০ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড। আপনি চাইলে আপনার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এসব আইনের অধীনে প্রতিকার চাইতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

পাঠকের প্রশ্ন, বিশেষজ্ঞের উত্তর

আইন, ডায়েট এবং মন–সংক্রান্ত যে কোনো প্রশ্ন পাঠক পাঠাতে পারেন। প্রশ্ন পাঠানো যাবে ই–মেইলে, ডাকে এবং প্র অধুনার ফেসবুক পেজের ইনবক্সে। ই–মেইল ঠিকানা: [email protected] (সাবজেক্ট হিসেবে লিখুন ‘পাঠকের প্রশ্ন’)

ডাক ঠিকানা: প্র অধুনা, প্রথম আলো, প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবন, ২০–২১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫।
(খামের ওপর লিখুন ‘পাঠকের প্রশ্ন’) ফেসবুক পেজ: fb.com/Adhuna.PA

প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন