সমাজের কোন পর্যায়ে আমরা প্রতিবন্ধী নারীদের দেখতে চাই? উত্তরে আমরা ঢালাওভাবে বলি, সব ক্ষেত্রে বৈষম্যমুক্ত পরিবেশ চাই৷ যেখানে তাঁরা দেশের সাধারণ নাগরিকের মতো সমান মর্যাদাপূর্ণ জীবন পাবেন৷ সমাজের সব ক্ষেত্র বলতে আমরা কোন কোন ক্ষেত্রকে বুঝি, বিষয়টি নিয়ে ভাবতে গিয়ে কৃতজ্ঞতাভরে অনুভব করলাম, যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী নারীরা বর্তমানে প্রায় সব ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করছেন৷ সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান এ ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে অনেক বেিশ৷ বিগত দুই দশক বা তার কাছাকাছি সময়কাল ধরে সচেতনতা ও সেবামূলক উপায়ে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করে চলেছে৷
আমি নিজেও একজন প্রতিবন্ধী৷ ১৯৯৭ সালে একটি অগ্নি দুর্ঘটনায় প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়ে আমার দুই হাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়৷ সাধারণ পরিবারের সন্তান হয়েও মা-বাবার অনুপ্রেরণায় স্নাতক পাস করেছি৷ পেশাজীবনও শুরু করি প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য৷ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থায় কাজ করার সময় প্রতিবন্ধী নারীদের অধিকারের বিষয়গুলো আপনা থেকেই আমার কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে৷
নবম জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩’৷ এই আইনের মাধ্যমেই বাংলাদেশে প্রথমবারর মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে৷ ২০১১ সালের স্থানীয় সরকারের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিবন্ধী নারীদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি নতুন সূচনা৷ কেননা ২০১১ সালে শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী রোকেয়া বেগম নরসিংদী জেলার শিলমান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত হয়েছেন৷ ২০১৩ সালে রোকেয়া বেগম ইউনিয়ন পরিষদ মিটিংয়ের মাধ্যমে শিলমান্দি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব করেন৷ এই প্রস্তাব শিলমান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পাস করেছেন এবং এলাকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে কাজ করছেন৷ আজ গর্বের সঙ্গে রোকেয়া বেগমের উদাহরণ িদই সব জায়গায়৷ এই অর্জন অবশ্যই বেসরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মিলিত সাফল্য৷ রোকেয়া বেগমকে দেখে আমি অনুপ্রাণিত হলাম৷ আমিও দশম জাতীয় সংসদের নারী আসনের নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিবন্ধী নারীর অংশগ্রহণ ঘটবে, এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র কিনে জমা দিই৷ সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে গণভবনে উপস্থিত হই৷ সেখানে সবার সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করি৷ আমাকে যদিও মনোনীত করা হয়নি, তবে আমি আমার স্বপ্নকে মরতে দেব না৷ আমি না পারি, হয়তো একদিন আমারই মতো কেউ একজন স্বপ্ন পূরণ করবে৷
লেখক: মানবাধিকারকর্মী

বিজ্ঞাপন
প্র অধুনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন