default-image

জেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির আহ্বানে সেদিন তাঁরা লালমনিরহাটে এসেছিলেন। সংবাদ সংগ্রহের কাজে গিয়েই পরিচয় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৬ নম্বর সেক্টরে নার্স হিসেবে কাজ করেছেন এমন চারজনের সঙ্গে। গত ৩০ জানুয়ারি লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নিজেদের মধ্যে দেখা হয়ে তাঁরাও যেন ফিরে গেলেন যুদ্ধদিনে। তাঁরা হলেন লালমনিরহাট সদরের মমতাজ পারভিন, কালীগঞ্জের রশিদা বেগম, রংপুর শহরের মাহমুদা ইয়াসমিন ও আকলিমা খন্দকার।

১৯৭১ সালে লালমনিরহাট শহরের রেলওয়ে সাহেব পাড়ায় থাকতেন মমতাজ পারভিন। তিনি বলেন, ‘আমি তখন লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। আমার সহপাঠী শামীমা আক্তারের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার বা কাজ করার অনুপ্রেরণা পাই। সে সময় আমার আত্মীয় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের রশিদা বেগমকে জানাই। তিনিও আমাদের সঙ্গে যোগ দেন।’

বিজ্ঞাপন

তাঁরা বাংলাদেশের বুড়িমারী সীমান্তের ওপারে ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা ক্যাম্প ও অস্থায়ী হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা বাড়তে থাকল অস্থায়ী হাসপাতালে। চিকিৎসক ও নার্সসহ চিকিৎসাসামগ্রী ছিল অপ্রতুল। এ সময় ৬ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার এম কে বাশারের নির্দেশে শরণার্থীশিবিরগুলো থেকে একটু শিক্ষিত মেয়েদের খোঁজ করা হচ্ছিল নার্সিংয়ের জন্য। এমন প্রেক্ষাপটে লালমনিরহাট বালিকা বিদ্যালয়ের সহপাঠী শামীমা আক্তারের বড় ভাই তৎকালীন ছাত্রনেতা শরীফ উদ্দিন আহমেদের মাধ্যমে তাঁরা পাঁচজন মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

রশিদা বেগম বলেন, ‘আমি ১৯৭১ সালে রংপুর কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধে নার্সিং প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণও নিয়েছিলাম। আমিসহ মমতাজ, আকলিমা, মাহমুদা ও শামীমা বুড়িমারী, ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা, বাংলাদেশের পাটগ্রাম, বাউরা ও লালমনিরহাট শহরের রেলওয়ে হাসপাতালে নার্স হিসেবে কাজ করি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও কিছুদিন এই দায়িত্ব পালন করেছি।’

পরবর্তী সময়ে শামীমা আক্তার এয়ার হোস্টেস ও রশিদা বেগম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেন। বর্তমানে দুজনই অবসর গ্রহণ করেছেন। অন্যরা গৃহিণী। শামীমা আক্তার ও মাহমুদা ইয়াসমিন ঢাকায় থাকেন, আকলিমা খন্দকার ও মমতাজ পারভিন রংপুর শহরে এবং রশিদা বেগম লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে থাকেন। তাঁরা সবাই তালিকাভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ও ভাতা পেয়ে থাকেন।

লালমনিরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মমতাজ পারভিন ও রশিদা বেগমসহ লালমনিরহাটের অন্য নারী মুক্তিযোদ্ধারা মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে অসুস্থ ও আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করেছেন।’

বিজ্ঞাপন
নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন