বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময়ই ফাতেমার বিয়ে হয়ে যায়। তারপরও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। মাস্টার্সের শেষ দিকে এসে কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন ফাতেমা। ছোট্ট শিশু আয়রাকে সময় দিতে গিয়ে বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়া হলো না। তবে নিজের চেষ্টায় কিছু একটা করতে হবে, এই আগ্রহ মনের মধ্যে পুষে রেখেছিলেন। আর তাই ২০২০ সালে সারা দেশ যখন করোনায় দিশাহারা, উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা শুরু করলেন ফাতেমা।

রান্না করতে ভালোবাসতেন ফাতেমা। রান্নার বিভিন্ন রকম ছবি তুলে নিজের ফেসবুক পেজ ‘গুণবতী’তে আপলোডও করতেন। সেই সব ছবির মধ্যে আমসত্ত্বও ছিল, দেখে কয়েকজন আগ্রহী হলেন। নক করলেন ‘আমসত্ত্ব’ কেনার জন্য। ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘২০২০ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম অর্ডার আসে। তখনো কিন্তু জানি না, কীভাবে মূল্য নির্ধারণ করব। ক্রেতার কাছে সেটা পৌঁছানোর উপায়ও মাথায় নেই। তারপরও অর্ডার যেহেতু পেয়েছি, সাহস করে নিয়ে নিলাম।’

আমসত্ত্ব পেয়ে ক্রেতাও ভালো রিভিউ দিলেন। দু–একজন নিয়মিত আমসত্ত্ব চাইতে শুরু করলেন। ফাতেমা তখন ভাবলেন, এটা নিয়েই তাহলে কাজ শুরু করি। বছর শেষে ফাতেমা হিসাব করে দেখলেন, এপ্রিল থেকে শুধু আমসত্ত্বই বিক্রি করেই পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৩০০ টাকা। আগ্রহ আরও বেড়ে গেল। ক্রেতারাও একের পর এক অর্ডার করতে থাকলেন। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি।

default-image

ফাতেমা যেহেতু আমের মৌসুমেই আমসত্ত্ব তৈরির কাজ শুরু করেন, শুরুতে তাই সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হয়নি। চাহিদা বাড়তে শুরু করলে সেটা নিয়েও ভাবতে বসেন। ক্রেতা চাইলে সারা বছরই যাতে আমসত্ত্ব দিতে পারেন, সেই চিন্তা মাথায় রেখে এখন আম সেদ্ধ করে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী টক-ঝাল আমসত্ত্ব সরবরাহ করেন। ফাতেমা বলেন, ‘সারা বছরের জন্য আধপাকা আমগুলো সংরক্ষণ করি। যখন অমৌসুমে অর্ডার পাই, ফ্রিজ থেকে আম বের করে চুলায় দিয়ে নানা রকম মসলা যোগ করি। ছড়ানো পাত্রে রোদে শুকিয়ে আমসত্ত্ব তৈরি করি। আর পুরো কাজই আমি নিজের হাতে করি। ক্রেতার কাছে স্বাস্থ্যকর পণ্য পৌঁছে দিতে চেয়েছি সব সময়।’

আমসত্ত্বের পাশাপাশি নানা রকম কেকের অর্ডার নেন ফাতেমা। ক্রেতার চাহিদামতো ২০২১ থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মোট পাঁচ লাখ আট হাজার টাকার আমসত্ত্ব ও কেক বিক্রি করেছেন। উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতা পেতে কোনটা বেশি জরুরি? ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘নিজস্ব ইউনিক আইডিয়া থাকতে হবে। কারও একটি বিষয় দেখে অনুকরণ না করে নিজে যেটা ভালো পারি, সেদিকে নজর দিতে হবে। আর উদ্যোক্তা হতে অবশ্যই ধৈর্য ও ভালোবাসা থাকতে হবে। কাজের মাধ্যমে ক্রেতার কাছে নিজের সততা প্রমাণ করতে হবে।’

নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন