বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি লালমনিরহাট জেলায় এসপি হিসেবে যোগ দেন আবিদা সুলতানা। তখন তিনি জানতে পারেন হাতীবান্ধা থানার একটি প্রাচীন পাকা ভবনের কথা। এই ভবন ভেঙে না ফেলে বা নিলামে তুলে বিক্রি না করে কীভাবে ঐতিহ্য হিসেবে এটি রক্ষা করা যায়, তা মাথায় নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেন আবিদা সুলতানা।

জাদুঘর নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে আবিদা সুলতানার। ঢাকার বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন তিনি। ২০১২ থেকে এর কাজের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পরিচালকের দায়িত্ব নেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে হাতীবান্ধা থানার পরিত্যক্ত পাকা ভবনে বাংলাদেশ পুলিশ জাদুঘর, লালমনিরহাট স্থাপনের কাজ হাতে নেন লালমনিরহাটের এই পুলিশ সুপার।

বাংলাদেশ পুলিশ জাদুঘর লালমনিরহাটের কাজ সম্পন্ন। আগামী মাসে এর উদ্বোধন হবে বলে জানালেন আবিদা সুলতানা। তাঁর কাছ থেকে জানা গেল জাদুঘরের বৃত্তান্ত। বাংলাদেশ পুলিশ জাদুঘর লালমনিরহাটে মোট সাতটি গ্যালারি থাকছে। প্রতিটি গ্যালারিতে রাখা নিদর্শনগুলো দর্শক ও গবেষকদের সামনে তুলে ধরতে কাচের আবরণ ও আলোর ব্যবস্থা থাকবে। আবিদা সুলতানা বলেন, এই জাদুঘরে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ বাহিনী নানা স্মারক ও তথ্য সবার জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রাচীন এই ভবনের ঐতিহ্যও রক্ষা পাবে জাদুঘরের মাধ্যমে।

default-image

গ্যালারিগুলোতে সুলতানি ও মোগল আমল, ব্রিটিশ আমল, ভারতীয় উপমহাদেশে পুলিশের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ তুল ধরা হচ্ছে। গ্যালারি দুইয়ে এ থাকছে ব্রিটিশ আমল, আধুনিক পুলিশের যাত্রা। তিন নম্বর গ্যালারিতে রয়েছে স্বাধীনতাযুদ্ধ, ভারতীয় উপমহাদেশ ও বাংলাদেশ স্বাধীনতাযুদ্ধে পুলিশ।

গ্যালারি চারে রয়েছে ডার্করুম, গ্যালারি। পাঁচে রয়েছে মুক্তাঞ্চলে মুক্তি পুলিশ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকালে ৬ নম্বর সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে। সে সময় গঠন করা হয়েছিল মুক্তাঞ্চলের মুক্তি পুলিশ। তাদের সে সময়ের কর্মকাণ্ড তুলে ধরাসহ কিছু নিদর্শন থাকছে এই গ্যালারিতে।

গ্যালারি ছয়ে আছে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী। গ্যালারি সাতে বাংলাদেশ পুলিশ গ্যালারি, আধুনিক সময়কাল।

আবিদা সুলতানার জন্ম ১৯৭৩ সালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঠেঙ্গারবাদ গ্রামে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠা গ্রামেই। ভারতেশ্বরী হোমস কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি ২২তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। পেশাগত জীবনে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদকসহ নানা পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন