default-image

গোলাপী এখন ট্রেনে চলচ্চিত্রে ট্রেনে ট্রেনে ঘুরে বেড়ানো তিন নারীর সংগ্রামের গল্প নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন প্রয়াত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন। ৪০ বছর আগের চলচ্চিত্র বটে, তবু কত আধুনিক সেই চলচ্চিত্রের নারী চরিত্ররা! সমাজের অনেক বাধা, আর্থিক টানাপোড়েন, তবু রোজগারের জন্য তাঁরা পুরুষের কাছে হাত পাতেন না। বরং নিজেরা পরিশ্রম করে উপার্জন করেন। আবার গোলাপীর মা গৃহিণী হলেও, সংসারে তাঁর কাজের গুরুত্বও কোনো অংশে কম নয়, সেটিও উঠে আসে ‘ও তোদের মা-জননী’ গানের মধ্য দিয়ে।

বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে ওই সময়ে স্রোতের বিপরীতে এসে নারীকে ভিন্ন চোখে দেখার সুযোগ করেছিল আরও দুটি সিনেমা—সূর্যকন্যা ও সূর্য দীঘল বাড়ি। সত্তরের দশকের এই তিন চলচ্চিত্রকে কেন্দ্র করে ‘সপ্তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন উইমেন ইন সিনেমা’ সম্মেলনের প্রথম পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মেহজাদ গালিব। ১৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অংশ হিসেবে ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি এ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সম্মেলনে আলোচক ছিলেন ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ারপারসন কিশওয়ার কামাল খান ও চলচ্চিত্র সমালোচক সাদিয়া খালিদ। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনায় আরও অংশ নেন দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক, প্রযোজক ও সাংবাদিক সু লি।

বিজ্ঞাপন

আলোচকদের বক্তব্যে উঠে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা–পূর্ব ও পরবর্তী সময়ের চলচ্চিত্র মাধ্যমে নারী চরিত্রের উপস্থাপন ধারা নিয়ে। সত্তরের দশকের ওই তিন চলচ্চিত্রেই নারী চরিত্রগুলো পূর্ণতা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন কিশওয়ার কামাল খান।

মেহজাদ গালিব বলেন, ‘এখন আমাদের দেশে স্বাধীনভাবে চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে, সেখানে নারী চরিত্র প্রাধান্য পাচ্ছে, অনেক নারী নির্মাতাও চলচ্চিত্র অঙ্গনে আসছে। এই পরিবর্তনগুলোর পেছনে সূর্যকন্যা বা গোলাপী এখন ট্রেনে—এগুলোর মতো ভিন্নধারার অসাধারণ কিছু ছবির ইতিহাস মিশে আছে। আমি সেই ইতিহাসকে এই উৎসবের মাধ্যমে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’

মেহজাদের মতে, ‘বহু বছর ধরেই আমাদের দেশের বেশির ভাগ সিনেমার গল্পে নারী চরিত্রগুলোকে পুরুষ চরিত্রের আড়ালে রাখা হয়। নারীদের আলাদা কোনো চরিত্র নয় বরং, নায়কের মা, নায়কের স্ত্রী বা বান্ধবী—এসব চরিত্রেই বেশি দেখা যায়। উদাহরণ টেনে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় বহু নারী প্রত্যক্ষভাবে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের অনেক সিনেমা হয়েছে। হাতে গোনা দু–একটি চলচ্চিত্র বাদে সেই সব সিনেমায় নারীদের প্রত্যক্ষ অবদানের বিষয়টি উপেক্ষিত।’

১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন অনুষ্ঠিত হয়েছে চলচ্চিত্রে নারীবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি। এবারের সম্মেলনে দেশি-বিদেশি সিনেমাবোদ্ধাদের মোট ছয়টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। সম্মেলন সমন্বয়ক সাদিয়া খালিদ জানালেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবারের সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। যে কারণে বিদেশি আলোচক ও অতিথিরা সশরীর উপস্থিত না হয়ে, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন