বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি বাঁধন ভারতের মুম্বাইয়ে বিশাল ভারদ্বাজেরখুফিয়া ছবির শুটিং করে ফিরলেন। সে ছবিতে আছেন বলিউডের অন্যতম গুণী অভিনেত্রী টাবুও। টাবুর জন্মদিনে সচরাচর ‘গোমড়ামুখো’ টাবুকে দেখা গেল হাসিমুখের বাঁধনের সঙ্গে, বাঁধনের শেয়ার করা ছবিতে। টাবুর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বাঁধন বললেন, ‘তিনি আমাকে একমুহূর্তে আপন করে নিয়েছেন। আসলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে নারীদের সংগ্রামের গল্পগুলো প্রায় একই রকম। যাঁরা উঠে আসেন, তাঁরা কাঁটা বিছানো পথ মাড়িয়েই আসেন। তাই খুব সহজে তাঁরা বন্ধু হয়ে যেতে পারেন। আমার আর টাবুর বেলাতেও সেটা ঘটেছে। টাবু তো আমার সঙ্গে বাংলায় কথা বললেন। জানালেন, বাংলাদেশে তাঁর এক বন্ধু আছে—চম্পা। আমাদের চম্পা আপু।’

default-image

বাংলাদেশ থেকে বাঁধন টাবুর জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন জামদানি শাড়ি। আর বেশ কয়েকটি জামদানির ওড়না নিয়ে গিয়ে দেখেন, ছবির সেটে নারীর সংখ্যা তাঁর নিয়ে যাওয়া ওড়না থেকে ঢের বেশি। বললেন, ‘কী যে ভালো লাগল দেখে। একটা সেটে এত নারী টেকনিশিয়ান, সহকারী, মেকআপ আর্টিস্ট আমি আগে দেখিনি। ওখানে কাজের ধারাটাই অন্য রকম। ঢাকা বা কলকাতা থেকে অনেক বেশি পেশাদার।’

মাদার তেরেসা যে বছর (১৯৯৭) মারা গেলেন, বাঁধন তখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। সেই সময় বাঁধন কী মনে করে ডায়েরিতে লিখেছিলেন, তিনিও জীবনে ভালো কিছু করতে চান, যাতে সবাই তাঁকে চেনে। এরপর ২০০৬ সালে লাক্স–চ্যানেল আই সুপারস্টারের মঞ্চে দ্বিতীয় রানারআপ হলেন। খানিক জ্বলে উঠেই আবার চলে গিয়েছিলেন পাদপ্রদীপের আলোর বাইরে। তারপর বিয়ে, অসুখী জীবন, বিচ্ছেদ, লুকিয়ে থাকা, সন্তানের অভিভাবকত্বের জন্য লড়াই—সব পেরিয়ে পাওয়া নতুন জীবন একেবারে নতুন করেই গড়েছেন তিনি।

default-image

বাঁধনের ভাষায় এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় জন্ম। আর দ্বিতীয়বার জন্মানোর সুযোগ পেয়ে সেটি দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। বললেন, ‘আমাকে লোকে বলে ডাইনি। বিশেষ করে মুসকান (রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি ওয়েব সিরিজের প্রধান চরিত্র) করার পর থেকে। আগে বলত, বিচ্ছেদের পর আমার গলা বড় হয়েছে, আমি বেয়াদব হয়েছি। খারাপ মেয়ে আমি। আমার এগুলো কিন্তু ভালো লাগে। এসব আমাকে আরও সাহসী আর আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। কারণ আমি জানি, যখনই আমি এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ছকে পড়ব না, তখনই আমাকে এগুলো শুনতে হবে। আমাকে এসব নামে ডাকা হচ্ছে, এর মানে আমি ঠিক পথেই আছি।’

কথায় কথায় বাঁধন জানালেন, আজ তাঁকে সবাই যেমন দেখছে, তিনি এমন ছিলেন না। ছিলেন ভীষণ ভিতু। সমাজের ভয়ে নিজেকে আর নিজের বিচ্ছেদের কথা লুকিয়ে রেখেছিলেন দুবছর। ভেবেছিলেন, লোকে জানলে কী হবে!

এখন বাঁধন আর কোনো কিছুতেই ভয় পান না। ‘আমি চাই, আমার সায়রা (একমাত্র মেয়ে) যেন নির্ভয়ে বড় হয়। সে যেন তার অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারে। বিনোদনজগৎকে লোকে খারাপ বলে। আমার সন্তানের রক্ত–মাংস হয়েছে বিনোদনে কাজ করা টাকায়। আমাকে তো উঠে দাঁড়াতেই হতো। আমার সন্তানের জন্য হলেও আমাকে ফিরে আসতেই হতো।’

নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন